রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯


নতুনের আহবানে এলো ইংরেজি নতুন বছর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.01.2019


স্টাফ রিপোর্টার
আজ ২০১৯সালের প্রথম দিন। নতুনের আহবান নিয়ে এলো ইংরেজি নতুন বছর ২০১৯সাল। সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও উদযাপিত হবে নতুন বছর। পুরাতন গ্লানি পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার তাড়া সবার মাঝে।
ইংরেজি বছর এর শুরু প্রায় ৪ হাজার বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে, মেসোপটেমিয় সভ্যতায়। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া ছিল এখনকার ইরাকে। এই মেসোপটেমিয় সভ্যতার আবার ৪টা আলাদা আলাদা ভাগ আছে সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, আসিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব পালন শুরু হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়।
সে সময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হত বর্ষবরণ। তবে সেটা এখনকার মতো ১ জানুয়ারি পালন করা হত না। পালন করা হত বসন্তের প্রথম দিনে। তখন বছর গণনা হত চাঁদ দেখে। তাই বছর শুরুর উৎসবও পালন করা হত চাঁদ দেখে। যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠত, শুরু হত বর্ষবরণ উৎসব। টানা ১১ দিন চলত সেই উৎসব ।
জাঁকজমক করে নববর্ষ পালন করত রোমানরাও। ওরা আবার তৈরি করে ফেলেছিল ক্যালেন্ডার। সে ক্যালেন্ডারও অবশ্য চাঁদের হিসেবেই বানানো হয়েছিল। আর সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ওদের নববর্ষ ছিল ১ মার্চ। আর মাসও ছিল দশটা। ওদের ক্যালেন্ডারে জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি মাস ছিল না। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলিউস জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে যোগ করেন।
কিন্তু রোমানদের ক্যালেন্ডারে তারিখও ছিল না। চাঁদের বিভিন্ন অবস্থা দিয়ে ওরা মাসের বিভিন্ন সময়কে চিহ্নিত করত। চাঁদ ওঠার সময়কে বলা হত ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলত ইডেস আর চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলত নুনেস।
পরে সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন ঘটান। তিনি ক্যালেন্ডস, ইডেস, নুনেসের ঝামেলা শেষ করে বসিয়ে দেন তারিখ। ফলে বছরে মোট ৩৫৫ দিন হয়। চাঁদ দেখে হিসাব করা হত বলে ১০ দিন কম হয়েছিলো ।
কিন্তু ওভাবে হিসাবের ফলে চাষিরা পড়ল সমস্যায়। সে সমস্যার সমাধান করলেন হোঞ্চাস হেডাস নামের এক রোমান। তিনি ফেব্রুয়ারির পরে আরেকটা মাস যোগ করে দিলেন ।
কিন্তু তাতে আরও সমস্যা হল । তখন সিজার অনেক চিন্তা-ভাবনা করে দেখলেন, সূর্য দিয়ে হিসাব করলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায় । এবার বছর হয়ে গেল ৩৬৫ দিনের। ক্যালেন্ডারের ঝামেলা মিটলেও, বছর শুরু হবে কবে, সেই হিসেব কিন্তু সহজে মেটেনি। একেক সময় একেক জায়গায় একেক দিনে বছর শুরু করা হত; উৎসবও হত একেক দিনে। যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ঠিক করা হল, বর্ষবরণ হিসেবে পালন করা হবে ২৬ মার্চ।
কিন্তু সেটাও ঠিকভাবে মানা হচ্ছিল না। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস যখন জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে ঢোকান, তিনি ঠিক করে দেন, জানুয়ারির ১ তারিখ হল বছরের প্রথম দিন। ওইদিনই হবে বর্ষবরণ।
অবশ্য সমস্যা ছিল সিজারের ক্যালেন্ডারেও। সেই সমস্যা দূর করেন একজন ডাক্তার। নাম তার অ্যালোসিয়াস লিলিয়াস। কিন্তু ইতিহাসে তার নাম সেভাবে কেউ জানে না। কারণ, ক্যালেন্ডারটির কথা সবাইকে জানান একজন পোপ ত্রয়োদশ (১৩তম) গ্রেগরি। সবাই তাকেই চেনে। পোপ গ্রেগরির নাম অনুসারে ক্যালেন্ডারটিকে বলা হয় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। এখন যে ইংরেজি ক্যালেন্ডারটি প্রচলিত, সেটিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার।
এই ক্যালেন্ডারটি তৈরি করা হয় মাত্র ৪০০ বছর আগে, ১৫৮২ সালে। আর ক্যালেন্ডারটি নানা কারণে এতটাই প্রচলিত হয়ে পড়ে, সবাই এই ক্যালেন্ডারটিই অনুসরণ করতে শুরু করে। ফলে আগে যারা নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব পালন করত, তারাও এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারির ১ তারিখে নববর্ষ হিসেবে পালন করে। যেমন আমরা পহেলা নববর্ষ-এর পাশাপাশি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মানে ইংরেজি নববর্ষও পালন করি।
নতুন বছরে হিংসা, বিদ্বেষ, ঝগড়া, মনোমালিন্য দূরে রেখে ২০১৯ এর শুরুটা হোক হাসিখুশি আর আনন্দের সবার জন্য এই কামনা।