বৃহস্পতিবার ১৯ †m‡Þ¤^i ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কুমিল্লায় দশ বছরে ষাট ভাগ হ্রাস পেয়েছে গম-সরিষা ভূট্টা উৎপাদন


কুমিল্লায় দশ বছরে ষাট ভাগ হ্রাস পেয়েছে গম-সরিষা ভূট্টা উৎপাদন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.01.2019


মাহফুজ নান্টু।।

দশ বছর আগেও পৌষ-মাঘ মাসে জেলার ধানী জমিগুলোতে রোপা আমন ধান গোলায় তুলে এবং বোরো ধান চাষাবাদের মাঝে যে দু’মাস সময় পেতেন কৃষকরা সে সময়ে ব্যস্ত সময় পার করতেন পতিত জমিগুলোতে সরিষা-গম চাষে। ওই সময়টাতে বিস্তৃর্ন ধানী জমিগুলোতে মাইলের পর মাইল যতদূর চোখ যেত হলুদ সরিষা আর সবুজ গম ক্ষেত চোখে পড়তো। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও আবাদী জমির পরিমান হ্রাস পাওয়াসহ আরো বেশ কিছু কারনে হ্রাস পাচ্ছে লাভজনক রবিশস্য হিসেবে সরিষা ও গম চাষ। এতে করে তেল ও আটা এখন আমদানী পন্য হিসেবে পরিচিত হচ্ছে।

দেশের অন্যান্য জেলা সদরের তুলনায় কৃষি বান্ধব নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে কুমিল্লায়। তবে গত দু তিন বছরে পৌষ মাঘ মাসে বৃষ্টি হচ্ছে। আর সামান্য বৃষ্টিতে সরিষা-গম আর ভূট্টা চাষে সমস্যা না হলেও ভারি বর্ষনে জমিতে রোপণ করা সে সব ফসলের বীজ নষ্ট হয়ে যায়। হঠাৎ করে জলবায়ুরসহ অন্যান্য কারনে জেলার বানিজ্যিকভাবে রবিশস্য উৎপাদনকারী অন্তত ১৫ হাজার কৃষক রবিশস্য উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

এছাড়াও বিভিন্ন রকমের উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদনের সুযোগ থাকায় রবিশস্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। ধানী জমির মাঝে জলাভূমিতে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের-প্লোট্্ির ফার্ম তৈরী করে অধিক লাভবান হওয়ার কারনে রবিশস্য উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এছাড়াও এখন কৃষি বিজ্ঞানীরা ধান নিয়ে বেশী গবেষণা করছেন। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯১ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত আবিষ্কার করতে সক্ষম হলেও সরিষা,গম ভূট্টার মত অতি প্রয়োজনীয় কৃষিজাত ফসলের উন্নত বীজ আবিষ্কারে তেমন সফল হতে পারে নি। এখন পর্যন্ত সরিষা গম ভূট্টারমত কৃষিজ পন্যর উন্নত ফলনশীল জাত আবিষ্কার করা হয়েছে মাত্র ৮-১০ প্রকারের। যে কারনে দেশের অত্যাধিক প্রয়োজনীয় রবিশস্য উৎপাদন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে এ বছর জেলায় সরিষা আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৩শ হেক্টর জমি। এছাড়াও ১২শ ৮৮ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। যা গত দশ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৬০ শতাংশ কম।
জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বানিজ্যিকভাবে রবিশস্য উৎপাদনকারী কৃষক আবদুল মজিদ,আবদুল হালিম,বুড়িচং উপজেলার আবুল কাশেম,হুমায়ন মিয়া,আবদুস সাত্তার জানান,গত দশ বছর আগেও তারা ঘরে রোপা আমন তুলে ব্যস্ত সময় পার করতে সরিষা,গম আর ভূট্টা চাষে। কিন্তু গত কয়েক বছরে জেলায় পৌষ মাঘ মাসে ভারি বৃষ্টিপাতের কারনে সরিষা-গম ভূট্টা চাষে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাই তারা এখন অবাদী জমিতে মাছের ঘের তৈরী মাছ চাষ, জমি ভরাট করে প্লোট্্ির ফার্ম তৈরী করে ঝুকি ছাড়াই কম সময়ে অধিক লাভবান হচ্ছেন। আর এ কারনে অন্য কৃষকরাও তাদেও অনুসরণ করছেন। ফলে হ্রাস পাচ্ছে জেলায় সরিষা ভূট্টা ও গম চাষ।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দিলিপ কুমার অধিকারী জানান, দেশে মৌলিক কৃষি উৎপাদনে জোর আরোপ করা হচ্ছে। তবে পাশাপাশি রবিশস্য উৎপাদনেও সরকার সচেষ্ট হয়েছে। আগের তুলনায় রবিশস্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে যার মধ্যে গম-ভূট্টা ও সরিষা রয়েছে। এমন লাভজনক ও প্রয়োজনীয় কৃষি ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ কি এমন প্রশ্নের জবাবে দিলিপ কুমার অধিকারী জানান, আগের তুলনায় রবিশস্য উৎপাদন কমলেও এখন বানিজ্যিকভাবে মাছ ও মুরগী উৎপাদন বহুগুনে বেড়েছে। মূলত কৃষকরা যে সব ফসল উৎপাদনে লাভবান হবে সেগুলো উৎপাদনে তারা সময় শ্রম ও অর্থ ব্যয় করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলার ষাট হাজার কৃষককে রবিশস্য উৎপাদনে প্রেষণা দিতে বদ্ধপরিকর।