মঙ্গল্বার ২৬ gvP© ২০১৯
  • প্রচ্ছদ »sub lead 2 » কসবা সীমান্তে চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য


কসবা সীমান্তে চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.01.2019

Upload Files
স্টাফ রিপোর্টার।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা কসবার বায়েক ইউনিয়নের সালদানদী এলাকা মাদক ব্যবসায়ী, গরু চোরাচালানকারী ও মানবপাচারকারীদের দৌরাত্ম্যে বেড়ে গেছে। গত দু’তিন মাসে এ এলাকায় রাজত্ব কায়েম করছে ওইসব চোরাকারবারীরা। সীমান্তে রীতিমত অপরাধ কর্মকা- সংঘটিত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৫-২০ জনের একটি চোরকারবারী দল প্রতিদিন রাতে সালদানদী ইউনিয়নের গৌরংগুলা ( ভাদালিয়া ২০৫৩) পিলারের নিকট জড়ো হতে শুরু করে। এসময় তারা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া খুলে ফেলে। পাচারের কাজ শেষ হলে আবার কাঁটাতারের বেড়া জোড়া লাগিয়ে দেয়। রাত ১১ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত সময়ে চোরাকারবারীর মিশনে নামে তারা। সূত্র জানায়, প্রতিদিন ১৫০টির মতো গরু গৌরংগুলা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তা ছাড়া ওই সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের চালান নিয়ে আসে দুর্বৃত্তরা। সে সাথে অবাধে রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ও রোহিঙ্গাদের ভারতে ঢুকতে সহায়তা করে ওই সিন্ডিকেট। এ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে এবং বের হতে প্রতি রোহিঙ্গা থেকে ১৫০০ -২০০০ টাকা আদায় করা হয়। সূত্র আরো জানায়, কসবার সীমান্তবর্তী গ্রাম গৌরংগুলার একটি অংশ ভারতে পড়েছে। ফলে ওই গ্রামের সক্রিয় অনেক মাদক ব্যবসায়ী দুই দেশের সুবিধা ভোগ করে খুব সহজে মাদক, মানব পাচার ও অবৈধভাবে গরুর চোরাচালান করে আসছে তারা। শুধু গৌরংগুলা নয়, পাশ্ববর্তী শ্যামপুর ও খাদলা গ্রামের সীমান্ত দিয়েও একই কায়দায় চোরাচালান করে আসছে ওই সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্যরা হচ্ছে মাদক ও গরু চালানাকারীর দলনেতা গৌরংগুলা গ্রামের ফিরোজ মিয়া, মাদক, চোরাচালান ও মানব পাচারকারী গৌরংগুলা (ভারত অংশ) গ্রামের গাঁজা ব্যবসায়ী কাইয়ুম মিয়া, গৌরংগুলা (নোয়াবড়ি ভারত) গ্রামের ইউনুছ মিয়া, হোসেন মিয়া, গৌরংগুলা ( বাংলাদেশ) গ্রামের জুজু মিয়া, মিজান মিয়া এবং গৌরংগুলা মির্জাপুরের জালাল মিয়া। তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছে একটি বিশাল গ্রুপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, নির্বাচনের দুই মাস আগে এখানে বিজিবির রীতিমতো টহল ছিল। নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু সময় বিজিবির টহল কমে যায়। আর এ সময়টাকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগায় ওই এলাকার চোরাকারবারীরা। এদিকে নির্বাচন শেষ হলেও তাদের কর্মকা- বন্ধ নেই বলে জানায় এলাকাবাসী। তারা আরো জানান, যে প্রক্রিয়ায় এ এলাকা দিয়ে গরু, মাদক ও রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটে, প্রশাসনের লোকদের গভীর নজরদারি না থাকলে তা রোধ করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে কথা হলে স্থানীয় ১০নং বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, এ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম দিয়ে মাদক, চোরাই মোটরসাইকেল ও গরুর অনুপ্রবেশ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে রবিবারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী কমিটির সভায় বিজিবির সাথে কথা বলব।
এ বিষয়ে ৬০ বিজিবি বডার্র গার্ড ব্যাটালিয়ন এর কমান্ডার ল্যা:কর্ণেল ইকবাল জানান, নির্বাচনের কারনে সীমান্তে কিছুটা নজরধারী কমলেও এখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে চোরাকাবারীদের দৌরাত্ব কমাতে আমরা সচেষ্ট হবো। আশাকরি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগীতায় চোরাকারবারী-রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশসহ সীমান্তে অপরাধ কমাতে আমরা সফল হবো।