মঙ্গল্বার ২৬ gvP© ২০১৯


পুরি-পরোটায় স্বপ্ন ভাঁজেন এমরান


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.01.2019

শাহাজাদা এমরান।।

মো. এমরান। পেশায় হোটেল শ্রমিক। নিয়ম করে ভাঁজেন পুরি, পরোটা, সিঙ্গারা। আসলে ভাঁজেন তার স্বপ্ন।

এমরান বলেন, ‘ভোরে কড়াইতে যখন নতুন তেল ঢালা হয় তখন আমার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। প্রতিদিন নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে দেখতে আনমনেই ভেসে ওঠে দুই ছেলে জনি ও রনির ছবি। হারিয়ে যাই স্বপ্নে। আমার সন্তানদের যেন তপ্ত কড়াইয়ের তেলে নিজেকে খুঁজতে না হয়। তারা শিক্ষিত হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করবে এটিই আমার একমাত্র চাওয়া। প্রতিদিন এই স্বপ্ন দেখতে দেখতেই চলে সব ভাঁজাপোড়ার কাজ।’

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার উড্ডা গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান। অভাব অনটনের সংসারে কৃষক বাবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনি তাদের পড়াশোনা করানো। ভাগ্যের প্যাঁচে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির গণ্ডিও পেরোতে পারেননি এমরান। বাবার সঙ্গে থেকে ছোট বেলা থেকেই জীবনের কঠিন বাস্তবতা দেখতে দেখতে নিজের স্বপ্ন দেখা হয়নি তার। এ কাজ ও কাজ করতে করতে এক পর্যায়ে চলে আসেন নগর কুমিল্লায়। কাজ নেন হোটেল শ্রমিক হিসেবে। বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার এমরানের। যা উপার্জন করেন তাতে চলে যায় কোনোমতে। ভালো কিছু করার স্বপ্ন আর অবশিষ্ট থাকে না।

বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের মতো হোটেল শ্রমিকদের জন্যও নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর দাবি তার। এমরান বলেন, ‘দেশের সব পেশার শ্রমিকদের জন্যই বেতন কাঠামো নির্ধারিত রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা হোটেল শ্রমিকরা অবহেলিত। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মতো ন্যূনতম একটা বেতন ধরে দিলেও আরেকটু ভালো থাকতে পারতাম। ’

একই সঙ্গে হোটেল ব্যবসার জন্য সরকারের কাছে বিনা সুদে বা কম সুদে ঋণ দাবি করেন এমরান। তাহলে হয়তো আরেকটু ভালো থাকবে হোটেল শ্রমিকরা। ভালো থাকবে তাদের স্বপ্নগুলো।