শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯


ঘূর্ণিঝড় ‘পাবুক’ এর প্রভাবে সাগর উত্তাল, শৈত্যপ্রবাহ তীব্র হতে পারে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.01.2019

থাইল্যান্ড উপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘পাবুক’ এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় দেশের ৪টি সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টির হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবাহিত মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শনিবার (৫ জানুয়ারি) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, থাইল্যান্ড উপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘পাবুক’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে আন্দামান সাগর ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এই ঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরে দুই নম্বর দূরবর্তী সংকেত দেওয়া হয়েছে। এই ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি হলে শৈত্যপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, ঝড়টি আজ বিকালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৭০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৬২৫ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর বা উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে থাইল্যান্ড উপসাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরও উত্তাল। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়- টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সীতাকুণ্ড, মৌলভীবাজার, রাজশাহী, পাবনা, নঁওগা, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি শনিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এদিকে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি মাসে দেশে ২ থেকে ৩টি মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে) থেকে মাঝারি (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। যার মধ্যে ২টি তীব্র (৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।

শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলাসিয়াস। রাজধানীর তাপমাত্রা ১২, ময়মনসিংহে ৯, চট্টগ্রামে ১৩ দশমিক ৫, সিলেটে ১২ দশমিক ৫, রাজশাহীতে ৯, রংপুরে ১১ দশমিক ৪, খুলনায় ১০ এবং বরিশালে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, ঝড়ের প্রভাবে থাইল্যান্ড উপসাগরের আশেপাশের এলাকায় অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। দমকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে এবং ঢেউ আছড়ে পড়ছে। থাইল্যান্ডের পর আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘পাবুক’। আন্দামান পেরিয়ে ‘পাবুক’ মুখ ঘোরাবে মিয়ানমারের দিকে এবং দ্রুত শক্তি ক্ষয় করবে বলে তারা আশঙ্কা করছে।