রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯


নগরীর আবাসিক এলাকায় শাহিন ক্যাডেটের শিক্ষা বাণিজ্য !


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.01.2019

দু’কক্ষে চলে ১০ টি শ্রেণীর শিক্ষা কার্যক্রম

স্টাফ রিপোর্টার।

কুমিল্লা মহানগরীর অলিতে গলিতে যে দিকে চোখ যায় সেদিকে শুধু দেখা মেলে রঙ্গিন ব্যানার, পোস্টার আর ফেস্টুন। রাতের বেলায় নিয়ন আলোয় ঝলমলিয়ে উঠে বিজ্ঞাপনগুলো। ঝলমলে নিয়ন আলোর চাকচিক্য ফুটে থাকে শাহীন ক্যাডেট একাডেমি এন্ড স্কুলের নাম। চটকদার এমন বিজ্ঞাপনের মোড়কে শিক্ষার মত একটি পবিত্র মৌলিক অধিকার নিয়ে চলে প্রতারণা। শিক্ষার আলোর ছড়িয়ে দেবার নাম করে আড়ালে চলে প্রতারণা। নাম স্বর্বস্ব এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভর্তি করে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অভিভাবকরা। আর আগামী প্রজন্মের প্রতিনিধি কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা জীবনকে ঠেলে দিচ্ছে বিপর্যয়ের দিকে। কুমিল্লা নগরীর পূর্ব বাগিচাগাঁও এলাকায় শাহীন ক্যাডেট একাডেমি এন্ড স্কুলের বিরুদ্ধেই মূলত এমন অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ঘুরে অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাগিচাগাঁও বড় মসজিদ এলাকায় ষষ্ঠতলা একটি দালানের দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে নার্সারি থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি কোচিং। কখন কোচিং-কখন একাডেমিক ক্লাস করা হয় তা ঠিকভাবে কোন শিক্ষার্থী বলতে পারে না।
স্থানীয়রা জানান, স্কুলটিতে সকাল বিকাল ছাত্রছাত্রী আর অভিভাবকদের আনাগোনা শোর চিৎকারের কারণে আশেপাশে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার জন্য মাঠ থাকা আবশ্যক হলেও শাহীন একাডেমিতে বারান্দা ছাড়া কোন খোলামেলা জায়গা চোখে পড়েনি।
অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রত্যহ বাদ দিলেও জাতীয় দিবসগুলোতেও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় না। এ নিয়ে ক্ষোভের সঞ্চার হলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ কথা চিন্তা করে প্রতিবাদ করার সাহস করে না অভিভাবকরা।
অভিভাকদের অভিযোগ নানা অযুহাতে অতিরিক্ত ভর্তি ও পরীক্ষা ফি নেয়া হয়। প্রতি বছরেই বেতন বৃদ্ধি করা হয়। বিনামূল্য সরকার প্রদত্ত পাঠ্যবই শাহীন একাডেমির শিক্ষার্থীরা টাকার বিনিময়ে কিনে নিতে হয়। পর্যাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী না থাকলেও লিফলেট-ব্যানার পোস্টারে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে। সরকার কর্তৃক বিনামূল্য পাঠ্যবই বিতরণ করলেও অন্তত পনের জন অভিভাবক অভিযোগ করেন তারা পাঠ্য বই কিনতে বাধ্য করা হয়। আর এভাবেই শিক্ষার নামে
হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, শাহীন স্কুলে শুধুই প্রতারণা চলে। আমাদের মত অভিভাবকদের জিম্মি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার নামে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত কয়েক বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী,জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় নেই কোন উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এর কারণ অদক্ষ ও কথিত শিক্ষক-শিক্ষিকা দিয়ে পাঠ্যদান করানো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বোর্ডের অনুমোদন বিহীন অবৈধভাবে আবাসিক এলাকায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে দুই একটি রুম ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার নামে প্রতারণা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পর্ষদের অন্যতম সদস্য হুমায়ুন কবীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা দুটি রুমেই পাঠদান করান। তাদের খেলার মাঠ নেই। গত কয়েক বছরে পাবলিক পরীক্ষার গড় ফলাফল কেমন এবং একই প্রতিষ্ঠানে ক্যাডেট কোচিং-একাডেমিক পাঠদান কিভাবে সম্ভব এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, ভাই আপনি অফিসে আসেন। অফিসে আসলে সব বলবো বলে লাইন ফোনের লাইন কেটে দেন।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠনটি কি কিন্ডার গার্টেন, স্কুল না একাডেমি? শাহীন স্কুল নামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের নাম আমি এখনও শুনেনি। নামে-বেনামে গড়ে উঠা এসব প্রতিষ্ঠা ৯৯ ভাগ অবৈধ। কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রতারণা ও বাণিজ্য করার জন্য এগুলো গড়ে তোলেন। আমি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথে কথা বলে খুব শিঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।