শুক্রবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯


হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় সিক্ত হাজী বাহার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.01.2019

কুমিল্লার নাগরিক সংবর্ধনায় –

মাহফুজ নান্টু।।
কুমিল্লা-৬ সদর আসন থেকে পর পর তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় গতকাল রোববার কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে মানুষের হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী আ.ক.ম. বাহা উদ্দিন বাহার এমপি। কুমিল্লা নাগরিক সংবর্ধনা পর্ষদ কর্তৃক আয়োজিত এ নাগরিক সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংবর্ধনা কমিটির আহবায়ক প্রফেসর রুহুল আমিন ভুইয়া।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুর রহমান অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক অংশের সঞ্চালনা করেন। তারপরই অনুষ্ঠানের মূল অংশের সঞ্চালনা করেন অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও কুমিল্লা অজিতগুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার ফটিক।
বিকেল তিনটায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এর পরেই সংবর্ধিত অতিথি হাজী বাহার ও তার স্ত্রী কুমিল্লা ডায়বেটিকস সমিতির সভাপতি মেহেরুন্নেচ্ছা বাহারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের বিএনসিসির শিক্ষার্থীরা।
প্রিয় নেতার প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধা জানাতে বিকেল তিনটার আগেই স্টেডিয়াম লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। এ যেন পুরো কুমিল্লা একসাথে হয়ে হয়ে উঠেছিলো।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মুন্সেফবাড়ী মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান পবিত্র কোরান থেকে তোলোয়াত করেন। তারপরেই পবিত্র গীতা পাঠ করেন চিকিৎসক তৃপ্তিশ চন্দ্র ঘোষ, ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন সাংবাদিক অশোক বড়–য়া,পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন লরেন্স তিমু বৈরাগী হয়।
এর পরেই সাইড স্ক্রীনে সাউন্ড বক্সে বেজে উঠে জয় বাংলা,জিতবে এবার নৌকা…. জানি কুমিল্লা এগুলে এগুবে বাংলাদেশ…
পরে সঞ্চালকের আমন্ত্রণে মঞ্চে আসেন অনুষ্ঠানের সংবর্ধিত অতিথি বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী আ.ক.ম বাহা উদ্দিন বাহার।
বক্তব্যের শুরুতে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আকম বাহা উদ্দিন বাহার বলেন, আমি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের প্রতি। যার ডাকে আমরা ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ত্রিশ লাখ প্রানের বিনিময়ে ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে লাল সবুজের পতাকার বাংলাদেশ। আজ সে স্বাধীন বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।
জামায়াত শিবির যারা পাকিস্থানের প্রেতাত্মা হিসেবে কুমিল্লাতে বিচরণ করেছে আমি তাদের প্রতিহত করেছি। জামায়াত শিবিরসহ অনেকেই আমার রাজনৈতিক পথচলায় নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো,তাদের লোভ লালসা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখে কুমিল্লাকে জামায়াত শিবির মুক্ত করেছি।
হাজী বাহার আরো বলেন, আজ আমি আপনাদের জনপ্রতিনিধি এটার অবদান আপনারাই। তার মধ্য অনেকে গত হয়েছেন, আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় আপনাদের সবার সমর্থনে আজ আমি সদর আসনে পরপর তিনবার সাংসদ হয়েছি। আপনাদের দোয়া ভালোবাসা সহযোগিতা নিয়ে কুমিল্লাকে এগিয়ে নিতে চাই।
কারণ আমার চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ হৃদয়ে বাংলাদেশ। আর তাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা কুমিল্লাবাসীকে সেবা করার জন্য আমাকে সুযোগ দিয়েছেন,আমি আপনাদের সহযোগিতায় দীর্ঘ বছর বিএনপি জামায়াতের হাতে থাকা কুমিল্লা সদর আসন থেকে জামায়াত বিএনপিমুক্ত করে কুমিল্লা সদর আসনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারকে উপহার দিয়েছি।

আমি বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষুধা দারিদ্র্য ইভটিজিং,সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ও দূর্ণীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছেন, আজ কুমিল্লা থেকেই শুরু হউক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার সূচনা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি- মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের যুগ্ম আহবায়ক আরফানুল হক রিফাত। এদিকে অনুষ্ঠানের আয়োজক ও উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে মেহেরুন নেছা বাহার তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, আপনাদের দোয়া সমর্থন থাকার কারনে আপনাদের নেতা হাজী বাহার কুমিল্লাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। আপনারা যে আপনাদের নেতাকে এত ভালোবাসেন তার প্রমান এই বর্ণীল আয়োজন। আমি আয়োজকবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি পাশাপাশি স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রিয় কুমিল্লাবাসীর প্রতি রইলো আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি প্রফেসর ড.এমরান কবীর চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মো:নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) কায়জার মোহাম্মদ ফারাবী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সাংসদ হাজী বাহারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো:মনিরুল হক সাক্কু।
আলোচনা অনুষ্ঠানের পরে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। তারপরেই কুমিল্লা কান্দিরপাড়ের আকাশজুড়ে আতশবাজির আলোকচ্ছটায় উদ্বেলিত হয়ে উঠে পুরো কুমিল্লা।