বৃহস্পতিবার ১৯ †m‡Þ¤^i ২০১৯


কুমিল্লার কাছে ১ রানে হেরে অনিশ্চিত ঢাকা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
02.02.2019

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের উইকেট উদযাপন

জিততে শেষ বলে দরকার ৬ রান। স্ট্রাইকে যখন আন্দ্রে রাসেল, তখন জয়ের স্বপ্ন দেখাটা বাড়াবাড়ি ছিল না ঢাকা ডায়নামাইটসের। তবে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান মারতে পারলেন চার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচটি তাই ১ রানে হারতে হয় ঢাকাকে।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২০ ওভারে ১২৭ রান করেই হারিয়ে দিয়েছে ঢাকাকে। তবে বিপিএল দেখেছে উত্তেজনায় ঠাসা এক ম্যাচ। বারবার বাঁক পাল্টানো যে ম্যাচটি ১ রানে হেরে শেষ চারে জায়গা পাওয়াটা শঙ্কায় পড়ে গেছে ঢাকার। ১১ ম্যাচ শেষে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে পঞ্চম স্থানে। শেষ চারে খেলতে হলে শেষ ম্যাচ জিততেই হবে সাকিব আল হাসানদের। অন্যদিকে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে কুমিল্লা।
কুমিল্লার বোলারদের সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে ঢাকাকে। ওপেনার উপুল থারাঙ্গা শূন্য রানে ফেরার পর মিজানুর রহমান (১৬) ও রনি তালুকদার (১) আউট হলে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় ঢাকা। সেটা আরও বাড়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান (৭) ব্যর্থ হলে। তাতে ২৯ রানে ঢাকা হারায় ৪ উইকেট।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর সুনিল নারিন ও কিয়েরন পোলার্ডের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় ঢাকা। যদিও রান তোলার গতি ছিল মন্থর। নারিন ২৪ বলে ২২ রান করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। আর কিয়েরন পোলার্ড করেন ৩৩ বলে ৩৪ রান।
পোলার্ডের আউটের পরেই বলেই নুরুল হাসান (০) ফিরে গেলে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন সাইফউদ্দিন। সেটা না হলেও এই পেসারের চমৎকার বোলিংয়েই ১ রানের নাটকীয় জয় পায় কুমিল্লা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ঢাকার দরকার ছিল ১৩ রান। সাইফউদ্দিনের করা ওই ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন রাসেল। তাতে শেষ বলে দরকার হয় ৬ রান। কিন্তু ওভার বাউন্ডারির জায়গায় বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেন ২৩ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকা রাসেল।
শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করা সাইফউদ্দিনের হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার। এই পেসার ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। ২টি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান।
এর আগে ঝড় তুলেছিলেন তামিম ইকবাল। ২০ বলে তিনি খেলেন ৩৮ রানের ইনিংস। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ব্যাটিং ইনিংসে বলার মতো ঘটনা এই একটি। ঢাকা ডায়নামাইটসের বোলারদের সামনে, বিশেষ করে রুবেল হোসেনের তোপে দাঁড়াতেই পারেননি কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা। ২০ ওভারে অলআউট হয় ১২৭ রানে।
বিধ্বংসী রূপে হাজির হয়েছিলেন রুবেল। ঢাকার এই পেসার ৪ ওভারে ৩০ রান খরচায় পেয়েছেন ৪ উইকেট। তার সঙ্গে সাকিব আল হাসান (২/২৩) ও সুনিল নারিন (২/২৫) জ্বলে উঠলে ধস নামে কুমিল্লার ব্যাটিং লাইনআপে। মাত্র ৮৭ রানে ইমরুল কায়েসরা হারায় ৮ উইকেট। এরপরও যে দলের রান ১২৭ পর্যন্ত গিয়েছে, তার কৃতিত্ব শেষ দিকে মেহেদী হাসান ও ওয়াহাব রিয়াজের কার্যকরী দুটো ইনিংস।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিমের ঝড়ো শুরুতে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখেছিল কুমিল্লা। এই ওপেনার জ্বলে উঠলেও এভিন লুইস (৮) ও এনামুল হকের (০) ব্যর্থতায় ৪৫ রানে ২ উইকেট হারায় তারা। এরপর ২০ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় তামিম ৩৮ রানে আউট হলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে কুমিল্লার ব্যাটিং লাইন।
ইমরুল (৭) ব্যর্থ, শামসুর রহমান (২) এসেই ফিরে যান। শহীদ আফ্রিদি প্রাথমিক চাপ কাটানো চেষ্টা করলেও ১৭ রানে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। বিপদের সময় থিসারা পেরেরা ৯ রান করে ফিরলে আরও চাপে পড়ে কুমিল্লা।
১০০ রানের নিচে যখন অলআউট হওয়ার শঙ্কা জন্মে ঢাকার সমর্থকদের মনে, ঠিক তখনই কার্যকরী দুটো ইনিংস খেলেন মেহেদী ও ওয়াহাব। পাকিস্তানি পেসার ১২ বলে করেন ১৬, আর ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে মেহেদীর ব্যাট থেকে আসে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান।