শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯


অবাধে মাটি কাটায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে খরস্রোতা গোমতী নদী


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.02.2019

 ধুলায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ,

মাটিবাহী ট্রাক্টরের দাপটে অতিষ্ঠ জনজীবন,

বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের গোড়া থেকেও মাটি কাটা হচ্ছে অবাধে,

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বিকার।

শাহীন আলম, দেবিদ্বার।।

কুমিল্লা দেবিদ্বারে অবাধে মাটি কাটায় ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য হারাচ্ছে এক সময়কার খর¯্রােতা খ্যাত গোমতী নদী। শীত আসার পরপরই দুই পাশের বাঁধ কেটে বিকট শব্দে ওঠানামা করছে শত শত ট্রাক্টর। রাতদিন মাটিবাহী ট্রাক্টরের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা। ধুলাবালির কারণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে আশ-পাশ বসবাস করা শত শত পরিবার। ধুলায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। নদীর ভেতরের মাটি কাটার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধ, সড়ক ও সেতু। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রাক্টরে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটের ভাটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। মাটি আনা-নেওয়ার কারণে গোমতীর বাঁধ ও সেতু ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অনেক জায়গায় বাঁধের পাকা সড়কের পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। খলিলপুর, চরবাকর, লক্ষীপুর, কালিকাপুরসহ ১০/১২টি ঘাট থেকে প্রায় ৩ শতাধিক ট্রাক্টর মাটি কেটে নিচ্ছে। সড়ক কেটে নদীর বাঁধের ভেতর দিয়ে এসব ট্রাক্টর ওঠানামা করছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের গোড়া থেকেও মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি কেটে নেওয়ায় কালিকাপুর, লক্ষীপুর, খলিলপুর ও দেবিদ্বারের চারটি সেতুই হুমকির মুখে পড়েছে। মাটি বোঝাই ট্রাক্টর সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করলে প্রচ- বেগে কাপুনি দেয় পুরো সেতুটি। এতে ধীরে ধীরে সেতুর পিলার থেকে মাটি সরে গিয়ে যেকোন সময় দেখা দিতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা।
ভোক্তভোগিরা আমাদের কুমিল্লাকে জানান, কিছু দুর্বৃত্ত নদীর সৌন্দর্য ও গতিপ্রবাহ বিনষ্ট করছে। তারা গোমতী চরের ফসলি জমিও কেটে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, জাফরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেনের ভাই মো. সিরাজুল ইসলাম, চরবাকরের আল আমিন, বিল্লাল হোসেন, আবদুল কাদের, রমিজ উদ্দিন, জামিল হোসেন, আবুল হোসেন, জামাল হোসেন, খলিলপুরের বারেরা চর এলাকার হেলাল মিয়া, লক্ষিপুরের ইউসুফ মিয়া, আজাদ মোল্লা, দেবিদ্বার বানিয়ার পাড়া এলাকার আবুল হোসেন, হামলার বাড়ি এলাকার মো. লিমনসহ আরও অজ্ঞাত ১০/১২ জন দিনের পর দিন গোমতীর মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করে আসছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. সিরাজুল ইসলাম ও আল আমিন আমাদের কুমিল্লাকে বলেন, এখন আর আগের মত মাটি ব্যবসার চাহিদা নেই। সবাই যে যার মত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ৭/৮ টি ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি আনা হচ্ছে। আমরা স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে এ ব্যবসা করি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লা জেলার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ আমাদের কুমিল্লাকে বলেন, গোমতী কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী নদী। খর¯্রােতা এ নদীটি এখন বিপন্ন প্রায়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি চক্র এ নদীর গতিপথসহ সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল লতিফ আমাদের কুমিল্লা বলেন, ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মাটি কাটার ধুম পড়ে। মাটি আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরগুলোতে কোনো নম্বর থাকে না। সংঘবদ্ধ চক্র মাটি কাটার জন্য নম্বরবিহীন ট্রাক্টর ব্যবহার করে। এ কারণে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। আমরা এ বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। আমাদের লোকবলেরও অভাবে এসব তদারকি করা যাচ্ছে না।
সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল আমাদের কুমিল্লাকে বলেন, একটি কুচক্র মহল মাটি কাটছে, খুব শিঘ্রই এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে জানানো হবে।