মঙ্গল্বার ২২ অক্টোবর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » এতিম হাফেজদের সাথে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের মধ্যাহ্ন ভোজ


এতিম হাফেজদের সাথে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের মধ্যাহ্ন ভোজ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.03.2019

মাহফুজ নান্টু।।

ওরা পঞ্চাশজন। বয়স সবারই প্রায় বারো কি তেরো বছর। কারো বাবা নেই কারো বা মা নেই। আবার কারো বাবা মা কেউ নেই। তারা এক সাথে থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া,কোরান তেলোয়াত করা আর বিকেল হলে এক আধটু খেলাধুলা করে সময় কাটে ওদের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটি শৃংখলিত জীবন যাপনে অভ্যস্ত এই পঞ্চাশজন শিশুর মধ্যে ১১ জন কোরানে হাফেজ হয়েছেন। এমন এতিম শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দ গল্প ও মধ্যাহ্ন ভোজ করেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো:আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আদর্শ সদর উপজেলার শিমড়া গ্রামের যুবক আনিছ মোর্শেদ নিজের উদ্যোগে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে হুব্বুন্নাবি(সাললেল্লাহি আলাইওয়া সাল্লাম) নামে হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানাটি গড়ে তোলেন। এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় মাত্র সোয়া তিন বছরে বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী এখানে বিনা ব্যয়ে পবিত্র কোরান শিখছে। ওদের লক্ষ্য হাফেজ হওয়া।
এই এতিম খানার শিশুদের ছবি দেখে শনিবার মো:আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্ত্রী,সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে এতিমখানায় যান। এতিম শিশুদের সাথে গল্প করেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার আগমনে শিশুদের মাঝে বেশ কৌতূহল। পবিত্র কোরান তেলোয়াত মিলাদ ও দোয়া পড়ার মধ্য দিয়ে মেহমানদের আগমনকে স্বাগত জানান এতিমখানার শিশুরা। তারপর মো:আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সন্তান আকিফ শিশুদের সাথে খোশ গল্প করেন। তারপর আব্দুল্লাহ আল মামুনের সৌজন্য এতিম শিশুরা মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ করেন। ভোজনে সহযোগিতা করেন ওই এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সিদ্দিকুর রহমান,প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আনিস মোর্শেদ, এড.আমজাদ হোসেন লিটন,সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও অপু প্রমুখ।


পরে আব্দুল্লাহ আল মামুন এতিম শিশুদের বলেন,আজ তোমাদের সাথে যে সময়টুকু ব্যয় করলাম তা আমার ও আমার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন,একমাত্র ছেলে আকিফ আমার শ্বশুর-শাশুড়ির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি আশা করবো তোমরা ধর্মান্ধ নয় ধর্মভীরু হয়ে পবিত্র কোরান সুন্নাহর আলোকে নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করে দেশ ও মানুষের সেবা করবে।