বৃহস্পতিবার ২৩ †g ২০১৯


কাজে আসছে না অধিকাংশ যাত্রীছাউনি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.03.2019

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দারা। এ দুই মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অংশে বেশ কিছু যাত্রীছাউনি রয়েছে। তবে জেলা পরিষদের এসব যাত্রীছাউনিগুলোর সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না সাধারণ যাত্রীরা। বেশিরভাগ যাত্রীছাউনিই এখন অবৈধ দখলদারদের হাতে।

এছাড়া কিছু-কিছু যাত্রীছাউনি গণপরিবহন থামার নির্ধারিত স্থান থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে কোনো গণপরিবহন থামে না। তাই রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কের পাশেই ঝুঁকি নিয়ে গণপরিবহনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘাটনা ঘটারও শঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে যাত্রীদের জন্য জেলা পরিষদের ৩১টি যাত্রীছাউনি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক সড়কের দুইপাশে রয়েছে ২৫টি যাত্রীছাউনি। প্রতিটি ছাউনি নির্মাণে জেলা পরিষদের খরচ হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা।

ছাউনির দুই পাশে দুটি দোকান ও মাঝখানে যাত্রীদের বসার জন্য রয়েছে পাকা বেঞ্চ। প্রতিটি ছাউনির দোকানগুলো ভাড়া দেয়া আছে। তবে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি না থাকার কারণে বেশিরভাগ যাত্রীছাউনির যাত্রীদের বসার স্থান এখন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে। সেখানে কোনোটিতে কনফেকশনারী-ফার্নিচারের দোকান আবার কোনোটি পরিণত হয়েছে বখাটেদের আড্ডাখানায়। আর যে কয়েকটি দখলমুক্ত রয়েছে সেগুলোও যত্ন আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে লাখ-লাখ টাকা খরচ করে যাত্রীদের জন্য নির্মিত এসব যাত্রীছাউনির কার্যত সুফল পাচ্ছেন না যাত্রীরা। তাই দ্রুত দখল হওয়া যাত্রীছাউনিগুলো উদ্ধার করে সেগুলো ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

যাত্রীছাউনির দূরাবস্থা নিয়ে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, ছাউনিগুলো যাত্রীদের কোনো কাজেই আসছে না। যেখানে বাস-সিএনজি অটোরিকশা থামে সেখানে যাত্রীছাউনি নেই। আবার যেখানে যাত্রীছাউনি আছে সেখান থেকে বাস স্ট্যান্ড দূরে। আর যে বাসস্ট্যান্ডের পাশে যাত্রীছাউনি আছে সেটি আবার ব্যবহার অনুপযোগী।

তবে কিছু কিছু যাত্রীছাউনি বাস স্ট্যান্ড থেকে দূরে থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও বেদখল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী মো. আমীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, যাত্রীদের বসার স্থান যেন কেউ দখল করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। আর সড়কের পাশে যাত্রীছাউনি করার জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন হয়। সওজ আমাদেরকে যে স্থান নির্ধারণ করে দেয় আমরা সেখানেই যাত্রীছাউনি নির্মাণ করি। এর ফলে কিছু ছাউনি বাস স্ট্যান্ড থেকে দূরে হয়ে গেছে।

তবে মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য অনেক যাত্রীছাউনি ভাঙা পড়বে। নতুন করে আবার নির্মাণ করার সময় বাস স্ট্যান্ডের পাশেই জায়গা নির্ধারণ করা হবে বলে জানা তিনি।