বুধবার ২৬ জুন ২০১৯


শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছি এটাই এক জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা……. অধ্যক্ষ জামাল নাসের


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.03.2019


মাহফুজ নান্টু।।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে কুমিল্লা জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ হয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জামাল নাসের। কুমিল্লা লাকসাম উপজেলার কৃতি সন্তান ভাষা সংগ্রামী-বীরমুক্তিযোদ্ধা,উপজেলার ভুলইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মো:তাজুল ইসলামের ৮ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে জামাল নাসের। ব্যক্তি জীবনে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের(১৯৭৯-১৯৮৩) কার্যকরি কমিটির সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কমিশন (বিসিএস) ১১ তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকুরী জীবন শুরু করেন। কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে চাকুরী জীবন শুরু করেন। তারপর কুমিল্লা সরকারি মহিলা থেকে বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেন। তার মাঝেই দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরিচালক(হিসাব ও নিরীক্ষণ),কলেজ পরিদর্শকের। এছাড়াও মাউশির বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) সমিতি কুমিল্লা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
এত সবকিছুর পরে গত ২০১৮ সালের মার্চের ২৮ তারিখ কুমিল্লা মহিলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ দায়িত্বভার গ্রহণের পর কলেজটির অবকাঠামোগত পরিবর্তনসহ কলেজটির শিক্ষার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরির্বতন আনেন। আর এমন কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষের তালিকায় নাম রয়েছে শিক্ষক জামাল নাসেরের। এমন শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতির অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রফেসর জামাল নাসের বলেন, নব্বই দশকের আগে যে কয়টা কলেজ নারী শিক্ষা প্রসারে সারা দেশে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে তার মধ্যে অন্যতম কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। নারী শিক্ষায় অগ্রদূতের ভূমিকায় থাকা কলেজটি নব্বই দশকের পরে সে অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। নেপথ্য ছিলো পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব- শিক্ষক-শ্রেণীকক্ষ-গবেষণাগারসহ নানা ধরণের সীমাবদ্ধতা। এসব সীমাবদ্ধতা দূরীকরণসহ অতীতের মত গুণগত শিক্ষা আর সংস্কৃতি চর্চায় যেন কুমিল্লা মহিলা কলেজটি জেলায় নারী শিক্ষা বিস্তারে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করতে পারে সে লক্ষ্য নিয়ে গত ২০১৮ সালের মার্চের শেষ দিকে কলেজ অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করি। এক সময় এ কলেজে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বিষয়টি নি:সন্দেহে আনন্দের। যে কলেজে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলাম গত এক বছর ধরে সে কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেই নাই। আমি কাজ করেছি। মূল্যায়নের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। তারা আমার কাজের মূল্যায়ন করেছেন। আমাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষের স্বীকৃতি দিয়েছেন। আসলে এমন স্বীকৃতির ক্ষেত্রে যিনি আমার আদর্শ আমার অনুপ্রেরণা তিনি আমার বাবা।
আমি গর্ব করি আমার বাবার জন্য। তিনি শুধু একজন আদর্শ পিতাই নন,তিনি একজন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। আমার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম শিকারপুরী। যার হাত ধরে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কিংবদন্তীতুল্য নেতা অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার রাজনীতিতে আগমন করেন। বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ড:আখতার হামিদ খানের সরাসরি ছাত্র ছিলেন আমার বাবা। স্বাধীনতা পরবর্তীতে এলাকায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে বিচার শালিসে সর্দারের ভূমিকা পালন করেন। আমরা ৮ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে আমি বড়। আর আমি একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে চেতনায় বঙ্গবন্ধু হৃদয়ে বাংলাদেশ এমন স্লোগানে দিক্ষিত করার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তিময় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার বাবাই চেয়েছিলেন তার বড় ছেলে যেন শিক্ষক হয়ে উনার দেখানো পথে চলি। আমি শিক্ষক হয়েছি-বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছি বহু আগেই। তবে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষের স্বীকৃতি পাওয়া আমার ব্যক্তি জীবনে জন্য নিশ্চয়ই বিশেষ কিছু সাথে আমার বাবার স্বপ্নের পরিধি বিস্তৃত করা। সব মিলিয়ে বলতে পারি আমি আমার ও আমার বাবার স্বপ্নের পথেই হাটছি, এটাই আমার এক জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।