মঙ্গল্বার ২১ †g ২০১৯
  • প্রচ্ছদ »sub lead 2 » শিলাবৃষ্টির কারণে কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা


শিলাবৃষ্টির কারণে কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.04.2019

 


মাহফুজ নান্টু।।

বিকেল তিনটা থেকে আকাশ কালো করে মেঘ জমতে থাকে।তারপরেই শুরু হয় ঘূর্ণি বাতাস। হঠাৎ বাতাস থেমে গিয়ে শুরু হয় মূষলধারে বৃষ্টি । ঘন্টাজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টির সাথে ছোট-মাঝারি আকারের শিলা পড়তে থাকে। ঘন্টায় ৪৬ মি:মি গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবার কুমিল্লায় শিলাবৃষ্টির কারণে কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী দু’তিন দিন বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, গতকাল বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৪৬ মি:মি: গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি আরো জানান, আগামী দু’তিন দিন কালবৈশাখি-ঝড় এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে গতকাল বিকেলে শিলা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার আদর্শ সদর,সদর দক্ষিণ, চান্দিনা, বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া, মুরাদনগর, মেঘনা ও তিতাস উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে এ মুহূর্তে মাঠে ভূট্টা,গম,তরমুজ,ভাঙ্গি,লাউ-মিষ্টি কুমড়া,শশা পরিপক্ক অবস্থায় ছিলো। ঘরে তোলা ও বিক্রির অপেক্ষায় থাকা এসব কৃষি ফসল এখন মাঠেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জেলার আদর্শ সদর উপজেলা,বুড়িচং-ব্রাহ্মপাড়া,দেবিদ্বার,মুরাদনগর হোমনা ও তিতাস হয়ে বয়ে চলা গোমতীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়াও গতকালের শিলাবৃষ্টিতে বাতাসে দোল খাওয়া বোরো ধানের শীষ নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি শীলাবৃষ্টির কারণে ঝড়ে পড়ে আমের গুটি।

শিলা বৃষ্টির কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত তিতাস মেঘনা ও দাউদকান্দি এলাকায় তরমুজ ও ভাঙ্গির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলার অন্তত কুড়িজন বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ ও ভাঙ্গি উৎপাদনকারী কৃষক জানান, গত ১০ বছরের মধ্যে এমন শিলা বৃষ্টি তারা দেখেননি। কৃষকরা জানান, গতকালের শিলাবৃষ্টিতে মাঠে পরিপক্ক হওয়া সহস্রাধিক একর জমির ভাঙ্গি ও তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে অত্র উপজেলাগুলোর কৃষকরা প্রতি বছর ভাঙ্গি ও তরমুজ চাষ করতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তারা বিভিন্ন জেলা সদরে তাদের উৎপাদিত ভাঙ্গি ও তরমুজ বিক্রির জন্য সরবরাহ করতো। তবে এ বছর শিলাবৃষ্টির কারণে স্থানীয় চাহিদা মিটানো দূরে থাক তাদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে উঠা অনেক কষ্ট হবে।

এদিকে কৃষি ফসলের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলিপ কুমার অধিকারী জানান, এখন পর্যন্ত ৫ শ হেক্টর জমির বোরো ধান ও কাঁচা শাক সবজির ক্ষতির খবর জানা গেছে। জেলায় কৃষি ফসলের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানতে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। তারা কাজ করছে। আগামীকাল ক্ষতির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেয়া যাবে।