রবিবার ৮ ডিসেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » Uncategorized » দখল বাণিজ্যে নিঃস্ব গোমতী নদী উচ্ছেদ …….অভিযান অব্যাহত রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের


দখল বাণিজ্যে নিঃস্ব গোমতী নদী উচ্ছেদ …….অভিযান অব্যাহত রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.04.2019

শাহীন আলম, দেবিদ্বার। ।
কুমিল্লার বুকচিরে প্রবাহিত গোমতী নদী এক সময় সাজানো-গোছানো পরিপাটি নদীর মতো থাকলেও এখন মৃতপ্রায়। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য এখন অনেকটাই বিলীনের পথে। ঐতিহ্য আর সৌন্দর্যের অহংকার এক সময়ের খোর¯্রােতা এ নদীর পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে। দুই পাড়ে অবৈধ মাটি কাটা আর দখল বাণিজ্যে হারাতে বসেছে নদীটির নয়নাভিরাম দৃশ্য। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল নদী রক্ষায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন মাটি ও বালু উত্তোলন।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ অংশে এ গোমতীর দৈর্ঘ্য ৮৩ কিমি.। এটির উৎপত্তিস্থল হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অমরপুর, উদয়পুর, সোনাইমুড়ী নামক স্থানের গহীন পাহাড়িয়া এলাকায়। নদীটি কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়ে বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলা হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, গোমতী নদী রক্ষা নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামে বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী, নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটিসহ সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক গোমতীর দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধ করবেন বলেন আমাকে আশ^াস দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা সফল হতে পারেননি স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টাতার কারণে। গোমতীর দু’পাশের পাড়ের মাটি উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না একটি শক্তিশালী চক্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে। আপনারা জানেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী রক্ষায় বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি সরাসরি নদী রক্ষা কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের সকল নদীকে দখল মুক্ত করার। আমরা সে আলোকেই কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে গোমতীকেও উদ্ধার করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, গোমতীর বেঁড়িবাঁধ রক্ষায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা গোমতীর দুপাশের বেঁড়িবাঁধ রক্ষার করার কোন পদক্ষেই নিচ্ছেন না। আমরা তাদেরকে চিঠির মাধ্যমে পুনরায় বিষয়টি অবগত করব। তিনি আরও জানান, ত্রিপুরায় গোমতীতে যে বাঁধ দেওয়া হয়েছে তাঁর কারণে গোমতীতে ¯্রােত নেই। পাউবো সে বাঁধ মুক্ত করারও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমি পাঁচ-ছয় মাস আগে গোমতী নদীটি পর্যবেক্ষন করে এসেছি। এটির আবস্থা খুব খারাপ। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠায় গোমতীকে বাঁচাতে হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লা জেলার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই নদীর চর ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চোখে পড়ার মত। নানান ফসল ফলতো এই চরে। টমেটো, বাঁধা কপি, ফুলকপি, আখ, আলু ছিলো এই চরের প্রধান ফসল। এখন আর এ চরে সোনা ফলে না। নানা অবব্যবস্থাপনা ও অনিয়মে গোমতীর ¯্রােত মরে গেছে। গোমতী নদী রক্ষার উদ্যোগ নেই কারও।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবে একাধিক সভা করেছি। সভায় গোমতীর সীমানা নির্ধারণ, উচ্ছেদ অভিযানসহ নানা অনিয়ম বন্ধে একাধিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের কোন অগ্রগতি নেই। আমরা পুনরায় এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সভা করব।