মঙ্গল্বার ১৯ নভেম্বর ২০১৯


কুমিল্লায় ধান মাড়াই যন্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.04.2019

মাহফুজ নান্টু।।
কুমিল্লার প্রয়াত রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার বলেছিলেন, ‘ফসলের মাঠই বলে, কুমিল্লার কোথায় শুরু কোথায় শেষ।’ কথাটির যথার্থ প্রমাণ মিলে বৈশাখ ও অগ্রাহায়ণ মাসে। তখন মাঠে বাতাসে বোরো ও আউশ ধানের সোনালী ছড়া দোল খায়। এখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে বৈশাখ। আর বৈশাখ মাস মানে বোরো ধানের মৌসুম। কুমিল্লার দিগন্ত বিস্তৃত জমিতে বৈশাখী বাতাসে দোল খাচ্ছে কাঁচা-পাকা ধান। সদ্য পুষ্ঠ হতে থাকা ধানের ছড়াগুলো আর কিছু দিন পরে সোনালী রং ধারণ করবে। গত তিন মাস ধরে কৃষকের হাতের যতœআত্তিতে বেড়ে ওঠা সবুজ পাতার মাঝে লম্বা ছড়ায় বেড়ে উঠছে কৃৃষকের স্বপ্নের বোরো ধান। প্রতিটি ধানের ছড়ায় লুকিয়ে আছে কৃৃষকদের রোদে পোড়া- বৃষ্টি ভেজার একেকটা দিনের স্বপ্ন বোনার গল্প। এত শ্রম ঘাম আর অর্থের বিনিময়ে মাঠের ধান গোলায় তুলবেন কৃৃৃষকরা । তার আগে ধান মাড়াইয়ের কাজটা সারতে হবে।

মাঠ থেকে সংগ্রহ করা ধান মাড়াই করতে আগে গরু ব্যবহার করা হলেও কালের বিবর্তনে এখন লোহার মেশিন ব্যবহার করা হয়। বোরো ধান মাড়াই করাকে কেন্দ্র করে ধান মাড়াই মেশিন তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। বছরে দু’বার ব্যস্ত সময় পার করে মেশিন তৈরির কারিগররা।

কুমিল্লা নগরীর গোমতী নদী সংলগ্ন বাটপাড়া, চাঁনপুর এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ধান মাড়াই মেশিন তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। সারা বছরজুড়ে মেশিন তৈরি করলেও বছরে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আউশ এবং মার্চ এপ্রিলে বোরো ধানের সময় ব্যস্ততা যেন একটু বেশি থাকে।

নগরীর ২ নং ওয়ার্ডের বাটপাড়া এলাকার শাহিন শাহ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস এর স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা জানান, তার বাবা শাহিন শাহ গত ৩৮ বছর ধরে ধান মাড়াইয়ের মেশিনসহ পানিসেচের অগভীর শ্যালো মেশিন ও কৃষিকাজের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি ও বিক্রি করে আসছেন। এছাড়াও বিভিন্ন বাহনের চেচিস মেশিন তৈরি করতেন।
তবে গত দশ বছর ধরে বাবার দীর্ঘদিনের ব্যবসা নিজেই দেখাশুনা করছেন মাসুদ রানা।

মাসুদ রানা জানান, গত দশ বারো বছর আগে শুধু পায়ে চালিত ধান মাড়াই মেশিন তৈরি ও বিক্রি করতেন তার বাবা । এখন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পায়ে ও বৈদ্যুতিক মটরে চালিত উভয় প্রকারের ধান মাড়াইয়ের মেশিন তৈরি করছেন তিনি । পায়ে চালিত ধান মাড়াইয়ের মেশিন সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি করেন। বিদ্যুতের মটর চালিত হলে সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি মেশিন বিক্রি করেন।

মুনাফার বিষয়ে মাসুদ রানা জানান, সম্প্রতি কাঠ, লোহাসহ কারিগরদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের মত এখন মুনাফা খুব বেশি হয় না। প্রতিটি মেশিনে সব খরচ বাদ দিয়ে পাঁচশ থেকে হাজার বারোশো টাকা মুনাফা হয়।

চাঁনপুর এলাকায় ধান মাড়াইয়ের মেশিন তৈরির কারিগর রায়হান জানান, আগে শুধু প্যাডেল চালিত মেশিন তৈরি হতো, বলা যায় ধান মাড়াইয়ের মেশিনের চাহিদা একমুখী ছিলো। সাম্প্রতিক সময়ে সময় ও শ্রম বাঁচাতে কৃষকরা বৈদ্যুতিক মটর চালিত মেশিনের ব্যবহার করছেন । দিন দিন মটর চালিত ধান মাড়াইয়ের মেশিনের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনগুলোতে হয়তো প্যাডেল চালিত
মেশিন আর ব্যবহার হবে না। মটর চালিত মেশিনেই ধান মাড়াইয়ের কাজ করবেন কৃষক- গৃহস্থরা।

বাটপাড়ায় বৈদ্যুতিক মটর চালিত ধান মাড়াইয়ের মেশিন কিনতে আসা আবুল হোসেন জানান, তিনি ৮০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন। তার ধান মাড়াইয়ের কাজ শেষ হলে তিনি বাকিটা সময় ধান মাড়াইয়ের মেশিনটি ভাড়া দিবেন। কৃষক আবুল হোসেন জানান, বোরো ধানের সময় কাল বৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টিপাতের কারনে দ্রুত ধান মাড়াইয়ের কাজটি সেরে ফেলতে কৃষকরা তৎপর থাকে। নয়তো বৈরী আবহাওয়ার কারনে মাঠে কিংবা বাড়ির উঠোনেই ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়।

সব গৃহস্থরা মেশিন কিনার মত অবস্থা সম্পন্ন না বলে মন্তব্য করে কৃষক আবুল হোসেন জানান, নিজের ধান মাড়াই শেষে মেশিন ভাড়া দিয়ে মোটামুটি ভালো আয় করেন। প্রতি ৪০ শতক জমির ধান মাড়াইয়ে তিনি নেন দু’শ পঞ্চাশ থেকে তিনশ টাকা। এতে করে নিজের জমির ধান মাড়াইয়ের পাশাপাশি ভাড়া দিয়ে মেশিন কেনার টাকা তুুুলে নেন।

মাসুদ রানা জানান, গত দশ বারো বছর আগে শুধু পায়ে চালিত ধান মাড়াই মেশিন তৈরী ও বিক্রি করতেন তার বাবা । এখন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পায়ে ও বৈদ্যুতিক মটরে চালিত উভয় প্রকারের ধান মাড়াইয়ের মেশিন তৈরী করছেন তিনি । পায়ে চালিত ধান মাড়াইয়ের মেশিন সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি করেন। বিদ্যুতের মটর চালিত হলে সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি মেশিন বিক্রি করেন।

প্রান্তিক কৃষক আবু ও জামাল জানান, তারা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে অন্যের জমি বর্গা চাষ করেন। ধান মাড়াইয়ের জন্য মেশিন কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই তারা ভাড়া মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই করেন।