শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯


আড়াই বছর ধরে সৎ মেয়েকে ধর্ষণ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.04.2019

শাহীন আলম , দেবিদ্বার।।
অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গত আড়াই বছর ধরে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ ও পরে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এ ঘটনায় নিজের মায়ের যোগসাজশ রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী ওই মেয়ে। এদিকে ঘটনা জানাজানির পর আজ শুক্রবার সকাল থেকেই এলাকার লোকজন ধর্ষক বাবার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের নানা ও খালাকে থানায় নিয়ে আসে।
অভিযুক্ত ওই বাবার নাম জাকির হোসেন। তিনি মুরাদনগর থানার গোকুল নগর এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে তিনি দেবিদ্বার এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। জাকির হোসেন পেশায় একজন ট্রাক্টর চালক। স্থানীয়রা জানান, জাকির হোসেনের শ্যালিকা মর্জিনা বেগমের বিয়ে হয় একই উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে। গত ১০ বছর আগে জাকির তার শ্যালিকা মর্জিনার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন। এ ঘটনায় মর্জিনা বেগমকে একাধিক সালিশ মিমাংসার মাধ্যমে তার স্বামী তাকে তালাক দেন। এরপর মর্জিনা তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্য থেকে বড় মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি দেবিদ্বারের রসুলপুরে চলে আসেন।
এ ঘটনার পর দুলাভাই জাকির হোসেন তার শ্যালিকাকে বিয়ে করেন। কিন্তু জাকিরের পরিবার এই বিয়ে মেনে না নেওয়ায় তিনি শ্বশুরবাড়ি দেবিদ্বারে বসবাস শুরু করেন। আর এই সুযোগে গত আড়াই বছর ধরে জাকির তার সৎ মেয়েকে জোর পূর্বক যৌন নির্যাতন, উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ ও নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছেন। এদিকে তার প্রথম স্ত্রী মর্জিনার বড় বোন জাকিরের বাবার বাড়িতে থাকেন।
ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী জানায়, তার সৎ বাবা বিভিন্ন সময়ে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তাকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করত। পরে এ ঘটনার ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এমনকি এ ঘটনায় তার মায়ের সহযোগিতায় রয়েছে বলেও জানায় ভুক্তভোগী ওই মেয়ে। বাবার এই জঘন্য এ কাজে বাধা দিলে তার মা অনেক গালিগালাজ এবং মারধর করতো।
এমন জঘন্য ঘটনায় মেয়ে মর্জিনা বেগমকে নিজের মেয়ে হিসেবে অস্বীকার করে ভুক্তভোগীর নানা বলেন, নিজের মা হয়ে এ কাজ করবে ভাবতেই পারছি না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ দিকে দেবিদ্বার থানার এস আই মোশারফ হোসেন বিক্ষোবের কথা শুনে ঘটনাস্থলে যায় শুক্রবার দুপুরে। সেখানে গিয়ে ধর্ষিতার নানা গনু মিয়া ও খালা সখি বেগমকে থানায় নিয়ে আসে। পুুলিশ জানায়, তাদেরকে আনা হয়েছে অভিযোগ দায়ের করার জন্য।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল আনোয়ার বলেন, ঘটনা শুনে আমি সাথে সাথে এস আই মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পাঠাই। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মেয়ের নানা ও খালাকে থানায় নিয়ে আসে।তারা দুই জন জানিয়েছে, শনিবার মেয়েকে থানায় নিয়ে এসে অভিযোগ দাখিল করবে বলে জানিয়েছে।