শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯


বিশাবকাপ ক্রিকেট বিশ্লেষক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
31.05.2019

ছন্নছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ মুখোমুখি হচ্ছে অননুমেয় দল পাকিস্তানের

ডা.মুজিব রহমান।।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানেই বড় চ্যালেঞ্জ। এর কন্ডিশন অনেক কঠিন। এবারের বিশ্বকাপে স্পিনাররা পার্থক্য গড়ে দিতে পারেÑ কয়েকদিন আগে এমন কথা বলেছেন দু’বার বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজে স্বাগতিক ভারত ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে অস্ট্রিলিয়া। ওয়ানডে ক্রিকেট অনেক বিস্ময় উপহার দিয়েছে ক্রিকেটকে। সেসব মনে রেখেও ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেটি দেখিয়েছিল, সেটিকে অবিশ্বাস্যই বলতে হয়। নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিলের অপরাজিত ২৩৭ রানের ইনিংস দিয়ে গড়া ৩৯৪ রানের জয়ের লক্ষ্য পেয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩১ তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অল আউট হয় ২৫০ রানে। অল আউট হওয়ার সময়ও তাদের হাতে ছিলো অব্যবহৃত ১১৭ বল। সেই পাগলাটে এবং সাম্প্রতিককালে ছন্নছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বক্রিকেটের আরেক অননুমেয় দল পাকিস্তানের। আইসিসির ম্যাচ প্রেডিকশন বলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের সম্ভাবনা ৪৯ ভাগ এবং পাকিস্তানের সম্ভাবনা ৫১ ভাগ। বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে দূর্দান্ত খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে আজ।
জেসন হোল্ডারের অধিনায়কত্বে বর্তমানে নেকটাই ভারসাম্যপূর্ণ দলে পরিণত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, নিকোলাস পুরান, শাইহোপ, শিমরন হোয়াটমোরদের নিয়ে গড়া এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াড অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। দলে ম্যাচ বদলে দেয়ার ক্ষমতা আছে, এমন ব্যাটসম্যান অনেক। স্বঘোষিত ‘ইউনিভার্স বস’ ক্রিস গেইল যথেষ্ট একটি ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের অনুকূলে নেয়ার জন্য। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে খেলার মতো ব্যাটসম্যানেরই অভাব এই দলে। প্রায় সকলেরই মারমার কাটকাট মেজাজ। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করে খেলার ক্ষেত্রে প্রায় সবাই ছন্নছাড়া।
অন্যদিকে আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান তাদের দিনে বিশ্বের যে কোনো দলকেই হারিয়ে দেয়ার যোগ্যতা রাখে। তুখোর ফখরজামান, ইমাম উল হক, বাবর আজম, শোয়েব মালিক, শাদাব খান, শাহিন আফ্রিদি, মোহাম্মদ হাসনাইন এবারের বিশ্বকাপে পকিস্তানের গালভরা সব নাম। গত এপ্রিলে উনিশে পা দেওয়া হাসনাইন নিখাদ ফাস্ট বোলার। প্রায় নিয়মিতই ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করেন। পাকিস্তানিরা ১৯৯২ সাল ফিরিয়ে আনতে পারবে কিনা তা অনেকটাই নির্ভর করে দলিটির টপ অর্ডারের ওপর। তাই আইসিসির আজকের ম্যাচ প্রেডিকশন ৪৯/৫১ না হয়ে ৫০/৫০ হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেল এবং পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান ফখরজামান দুজনের যে কোনো একজনেরই নিজ দলকে জিতিয়ে আনার একক ক্ষমতা রয়েছে। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি মাতনো ফখরজামান এবং ২০১৯ সালের আইপিএল মাতানো আন্দ্রে রাসেল দু’জনেই বিশ্বকাপে পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘এক্স’ ফ্যাক্টর।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই এগিয়ে রাখবো
বদরুল হুদা জেনু

বিশ্ব ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হয়েছে গতকাল। এই লিখা যখন লিখছি তখন প্রথম খেলাই মাঠে গড়ায়নি। বিশ্ব ক্রিকেটের কৌলিন ও ঐতিহ্যের ধারক ইংল্যান্ডে এমন পানসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন স্পর্শ করতে পারিনি। অথচ উপমহাদেশের আসরগুলো তাদের সূচনা অনুষ্ঠানেই ক্রিকেট প্রেমীদের মন ভরিয়ে দিয়েছিলো। যাক ওসব কথা, ব্রিটিশরা যা করবে তাই হবে প্রতিপালনীয়।
আজ টেন্টব্রীজ-এ প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নামবে পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুটি দলেরই বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা আছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৮৩ সালের পর আর ফাইনালে উঠতে পারেনি। পাকিস্তান ১৯৯৯ সালের পর আর ফাইনালে উঠতে পারেনি। পাকিস্তান ১৯৯৯ সালে সর্বশেষ ফাইনালে উঠেছিল। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম তিন আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটি ছিল অপ্রতিরোধ্য। ক্রিকেট চিন্তায় অভিজ্ঞ ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে দারুণ প্রতিভাধর ক্রিকেটারে ঠাসা ছিল ক্যারিবিয় দলটি। গ্রীনিজ, হাইন্স, ভিব রিচার্ডস, ল্যাবি গোমস, ডুজন, হোল্ডোং , মার্শাল ওয়ালস, গার্নার এরা ছিলো তখন সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায়। যে কোনো সময় ও পরস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে অনায়াসে ব্যাট ও বল হাতে ঘায়েল করতে কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি দলটিকে। তবে ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে কপিলদেবের ভারতের কাছে হেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটি এখন পর্যন্ত সমন্বিতভাবে এক দিবসিয় ক্রিকেটে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ধারাবাহিকভাবে।
পরিসংখ্যান বলে বিশ্বকাপে ৭১ ম্যাচের বিপরীতে ৪১ বার। জয়ের মুখ দেখেছে ক্যারিবিয়রা। হেরেছে ২৯ বার। পক্ষান্তরে সমসংখ্যক ৭১ ম্যাচে ৪০ জয় পাকিস্তানের। ১৯৯২-এর চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান তিনবার সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। তবে ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন ট্রফি বিজয়ী হয়েছিল পাকিস্তান। সেই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছে।
যদিও পাকিস্তান দলটি সদ্য সমাপ্ত ইংল্যান্ড সফরে ইংলিশ দলের কাছে নাকানিচুবানি খেয়েছে। তার উপর ওয়ার্ম আপ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে। সব মিলিয়ে হয়তো কিছুটা অগোছালো অবস্থায় আছে। এই দলটি “আনপ্রেডিক্টেবল” হিসেবে পরিচিত। দলের অভিজ্ঞতম দুই সদস্য মো. হাফিজ এবং শোয়েব মালিক। বা-হাতি ওপেনার ফখরজামান ইমাম উল হক দারুণ প্রতিভাবান। টপ অর্ডারে হারিস সোহেল ও বাবর আজম যে কোনো মুহূর্তে দলের হাল ধরতে অভ্যস্ত। অধিনায়ক সফররাজ আহমেদ রানের চাকা ঝড়ের মতো বদলে দেবার ক্ষমতা রাখেন। দলটির বোলিং বিভাগ গতি ও ঘূর্ণীতে ভারসাম্যময়।
হাসান আলী, ওয়াহাব রিয়াজ, মো. আমির এবং নূতন সেনশেসনে মো. হাসনাইন এদের মধ্যে অন্যতম। শাদাব খান ও ইমাদ ওয়াসিম এদের সাথে বর্ষিয়ান মো. হাফিজ এবং শোয়েব মালিক দলের স্পীন শাখার প্রধান ভরসা। এক কথায় বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল পাকিস্তান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বলতেই বোঝায় উপভোগ্য ক্রিকেটের পসরা। দানবীয়, ঝড়ো, তান্ডব, বিধ্বংসী সব ধরনের বিশেষণ উপযোগী দুই ব্যাটসম্যান ক্রীস গেইল, আন্দ্রে রাসেল যেই দলে আছে, সেই দলের জন্য কোন টার্গেটই নিরাপদ নয়। অনেক দিন পর মনে হচ্ছে ক্যারিবিয়রা সংঘবদ্ধ হয়ে উঠেছে। তাদের অতীত গৌরব পুনরুদ্ধারে এই দলটি হয়তো কিছু ভূমিকা রাখতে পারে। দলটিতে প্রতিভার ছড়াছড়ি এডিন লুইস, নিকোলাস পুবান, শিমরন হেটমায়ার ছাড়াও দারুণ প্রতিপক্ষের জন্য ভীতিকর। গতীময় বোলিং-এর জন্য ক্যারিবিয়দের সুনাম প্রকৃতিজাত। অধিনায়ক জেসন হেল্ডার শেলডন কটরেল কেমার রোচ গতীর সাথে লাইন ও লেংথ বজায় রেখে সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং-এ অভ্যস্ত। অ্যামলে নার্স ও ফাবিয়নে এ্যালেন স্পীন বোলিং-এর দয়িত্ব পালন করবে। একটি ভয়ংকর দল হিসেবে উঠে আসার বৈচিত্রময় উপাদান রয়েছে ক্যরিবিয় দলটিতে।
পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলাটি প্রায় সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হবার পর্যায়ে। দলীয় শক্তিমত্তার দিক থেকে উভয় দলই ম্যাচে জেতার প্রত্যাশা রাখে। এই জায়গায় হঠাৎ করে উচ্চাভিলাসি হয়ে না উঠলে, ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ জিতে নিতে পারে। আমি আজ সমর্থন করবো ক্যারিবিয়দেরই। তবে পাকিস্তান দলটিও নবীন প্রবীনের মিশেলে বেশ শক্তিশালী। তারাও ছেড়ে কথা কইবে নাÑ লড়াই করার অদম্য স্পৃহা আছে দলটির। একটা জমজমাট লড়াই হোক এই প্রত্যাশা।

ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ অফ্রিকার
খেলার সময় মনে পড়লো
অনেক পুরনো কথা

আবুল হাসানাত বাবুল।।

এই কলাম যখন লিখছি তখন ওভালে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ অফ্রিকার খেলা চলছিলো। ব্যাট করছিলো রয় ও রুট। দুর্দান্ত সূচনা এই দুই ব্যাটসম্যানের। আজ টেন্টব্রীজে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুবার, পাকিস্তান একবার বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করেছিল। চারবার স্বাগতিক হয়েও ইংল্যান্ড বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। পঞ্চমবারের মত ইংল্যান্ড স্বাগতিক হলো। এবার দল অত্যন্ত ছটফটে। জেসন রয় জোরুট যেভাবে খেলছিল মনে হচ্ছে ভোরের সূর্যটা যেন তাদেরই। দক্ষিণ আফ্রিকাও একবার স্বাগতিক হয়েছিল। চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। অথচ তারা ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭, ১০১৫ সালে সেমি ফাইনাল খেলেছিল। ইংল্যান্ড ১৯৭৫, ১৯৮৩ সালে সেমি ফাইনাল, ১৯৭৯, ১৯৮৭, ১৯৯২ সালে ফাইনাল খেলেছিল। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা বহুদূর যাবে। তবে কতদূর যাবে তার জন্য তাদের আরো অনেকগুলো খেলা দেখে অনুমান করা যাবে।
বর্তমানে ক্রিকেট তথ্য হাতের মুঠোয়। টিপলেই সব তথ্য বের হয়ে আসে। আমি সাধারণ ক্রীড়া দর্শকের দলে। যতটুকু জানি রেডিও শুনে। টেলিভিশন দেখে, খবরের কাগজ পড়ে। আমার ধারণা আজো সাধারণ দর্শক, পাঠক ঐ তিনটি মধ্যমের ওপর নির্ভর করে।
আমি যখন স্কুল-কলেজের ছাত্র, তখন ছিলাম পাকিস্তানের নাগরিক। পাকিস্তান ছিল দুর্দান্ত টেস্ট খেলুরে দেশ। ১৯৬০ দশকে দুর্দান্ত টেস্ট খেলুরে দেশ ছিল ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও পাকিস্তান। তখন পাকিস্তানের হানিফ মোহাম্মদ, ইমতিয়াজ আহমেদ, সাঈদ আহমেদ, ফজল মাহমুদরা তুঙ্গে। গারীফল্ড সোবার্স, ওয়েসলি হল, রোহান কানহাই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রাঙ্গিয়ে দিচ্ছিল। ষাট দশকের গোড়ায় অনেকে রসিকতা করে বলতো ভারতীয় দলে কেবল সিমেন্ট নাই আর সবই আছে। যেমন ভারতে অধিনায়ক নীড় কন্ট্রাকটর, উইকেট কিপার ফারুক ইঞ্জিনিয়ার, দুর্দান্ত স্পিনার বালুগুপ্তে। অর্থাৎ দলে কন্ট্রাক্টর, ইঞ্জিনিয়ার ও বালু আছে, নেই কেবল সিমেন্ট। সেজন্য আকাশবাণী কলকাতায় ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে পুস্পেনদা দারুণ মজা করতেন ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে। এই নীড় কন্ট্রাক্টর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গ্রিফিথের আগুন ঝরা বলে মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছিলেন। মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটাররাই সেই কন্ট্রাক্টরকে বেশী রক্ত দিয়েছিলেন। এইসব তথ্য আমরা রেডিওর ধারা বিবরণী থেকে পেতাম। বহুকাল রেডিওর ধারা বিবরণীই ছিল আমাদের জানার বড় মাধ্যম। ১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের খেলা শুনতাম রেডিওর মাধ্যমে। ১৯৮৭ সালে টেলিভিশনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ করে দেয় দূরদর্শন।
সেবার বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ছিল ভারত ও পাকিস্তান। অবশ্য দূরদর্শনে সরাসরি খেলা দেখি ১৯৮৬ সলে। সেবছর ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান ভারত সফর করে। ভারতের অধিনায়ক ছিলেন কপিল দেব। পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ, ওয়ানডে সিরিজে জয়লাভ করেছিল।
বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন হয়। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন হওয়া মানে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ। কুমিল্লায় সেদিন স্টেডিয়াম থেকে বিরাট মিছিল বের হয়েছিল। কুমিল্লার এনামুল হক মণি ছিল বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার। তার বাসা স্টেডিয়ামের পাশে। অনেকেই তার বাসায় ছুটে গিয়ে তার বাবা নুরুল হককে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। ক্রীড়া পাগল এই লোকটিও তখন রেডিওর সামনেই ছিলেন। বাংলাদেশ বেতার মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি ধারা ভাষ্য দিচ্ছিল। চৌধুরী জাফরউল্লাহ শরাফত ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন। তখনো ব্যাট করছিল ইংল্যান্ড। রুট-রয় আউট হবার পর ব্যাট করছিলেন অধিনায় মরগান ও স্টোকস। ইংল্যান্ডের রান ছিল তখন উইকেটে ২১৭। ওভার ছিল ৩৭।
লেখা মানে প্রতিদিনের খেলার বিবরণ নয়। পর্যালোচনা, বিশ্লেষণের পাশাপাশি স্মৃতিচারণও চলবে। এমন স্মৃতিচারণ আগামীতে আরো করবো।