শনিবার ২৪ অগাস্ট ২০১৯
  • প্রচ্ছদ »sub lead 1 » বুড়িচংয়ে হত্যা মামলার আসামি সোলায়মানকে গণপিটুনি


বুড়িচংয়ে হত্যা মামলার আসামি সোলায়মানকে গণপিটুনি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.06.2019


স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা নামধারী হত্যা ছিনতাই ও নারী নির্যাতন মামলার আসামি সোলায়মানকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। পরে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
জানা যায়,গত কয়েকদিন আগে ষোলনল ইউপির ৬নং ওয়ার্ড সদস্য সিরাজুল ইসলামকে পাওনা টাকার জের ধরে সোলায়মান গালাগাল করে তার ব্যবহৃত মোটর বাইকটি রেখে দেয় সোলায়মান। পরে গত মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে শালিস বৈঠক হয়। শালিক বৈঠকের রায় না মানায় স্থানীয় জনতা সোলায়মানকে গণপিটুনি দেয়। এ সময় স্থানীয় জনতার পিটুনিতে আহত হয় সোলায়মান। পরে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

জানাযায়, গত কিছুদিন আগে পাওনা টাকার জন্য ষোলনল ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম কে গালাগাল করে মোটরসাইকেল আটকে রাখে ছাত্রলীগ নেতা সোলায়মান। পরে টাকা দেয়ার শর্তে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হয় বিষয়টি। এর জের ধরেই পরিকল্পিত ভাবে মঙ্গলবার রাত ১০টায় ছয়ঘরিয়া এলাকায় সিরাজ মেম্বারের বাড়ির সামনে এ হামলা চালায় সিরাজ মেম্বার ও তার ভাড়াটে বাহিনীর সদস্যরা। থানায় খোঁজ নিয়ে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিরাজ মেম্বার এলাকায় ডাকাতি সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। ষোলনল এলাকার বাসীন্দা মাহবুব, শাওন, এবং সোলেমানের মা, চাচাসহ এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানায়, একাধিক ডাকাতি ও চাঁদাবাজী সহ বিভিন্ন মামলার আসামী সিরাজ একসময় পেশাদার ডাকাত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। একাধিকবার র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশের হাতে আটক সিরাজের অপকর্মে বাঁধা দেয়া ও প্রতিবাদ করাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে সোলেমানের জন্য। চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন দৌড়ে ঘটনাস্থলে না গেলে হয়তো মেরেই ফেলা হতো সোলায়মান ও আরজু কে।
স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুলইসলাম বলেন, আমি এঘটানার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই। ছাত্রলীগ নেতা সোলেমান এবং আরজুর উপর সন্ত্রাসী হামলা কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এসব বিষয়ে জানতে ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত সিরাজ ইসলাম মেম্বার মুঠো ফোনে যোগা যোগ করলে তিনি বলেন সোলেমান দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে আমার নিকট চাঁদা দুই লক্ষ টাকা দাবীকরে আসছে। এই টাকা না দেওয়ায় সে বিভিন্ন লোকজন নিয়ে আমাকে যেখানে পায়ইত সেখানে আটক করে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো। গত দেড় মাস আগে সোলেমান টাকা না দেওয়ায় আমার মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। যার কারনে আমি বুড়িচং থানা একটি অভিযোগ দায়ের করি। সোলেমান এর উপরসন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে বলেন মঙ্গলবার রাত ১১ টায় ৩-৪ টা মোটর সাইকেল যোগে ৭-৮ জন লোকজন এসে আমার দোকানে হামলা চালায়। তখন আমরা পাল্টা হামলা করি। এতে সোলেমান সহ দুই জন আহত হয়। এই ঘটনার পর সোলেমান এর লোকজন আমার বাড়ি ঘরে হামলা চালায় এবং ভাংচুর লুটপাট সহ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এবিষয়ে সিরাজুল ইসলাম মেম্বার এর মা রাহেলা বেগম ও তার স্ত্রী কোহিনূর আক্তার বলেন রাত ১১ টায় সোলেমান এর ১০-১২ জন লোক আমাদের বাড়িতে এসে বাড়ি ঘর ভাংচুর লুটপাট করে। এসময় তারা ৫ ভরি স্বর্নাংলকার নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় ।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন , হত্যার উদ্দেশ্যেই তার উপরে পরিকল্পিত ভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। যারাই এই বর্বরোচিত সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। একটি সভ্য সমাজে সন্ত্রাসী ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
বুড়িচং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে আমি নিজে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে আসামীদের কাউকে পাওয়া যায় নি। ঘটনার পরপর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত এলাকায় পুলিশ অবস্থান নেয়। এ বিষয়ে সোলেমানের পরিবার বাদী হয়ে উল্লেখিত আসামীদের নামে মামলা দায়ের করেছে।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ভরাসার বাজারে একটি মারামারির ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ভরাসার বাজারের অন্তত অর্ধশত ব্যবসায়ী জানান, বুড়িচং উপজেলার অন্যতম একটি দৈনিক বাজার ভরাসার। এ বাজারে সোলায়মানের জন্য সাধারণ ব্যবসায়ীরা বাজারে শঙ্কামুক্তভাবে ব্যবসা করতে পারে না।