সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯
  • প্রচ্ছদ »জাতীয় » থানায় মামলা নেই, বিজিবি’র বন্দুকযুদ্ধে ভিডিওগ্রাফার নিহত


থানায় মামলা নেই, বিজিবি’র বন্দুকযুদ্ধে ভিডিওগ্রাফার নিহত


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.06.2019


মাসুদ আলম।। থানায় মামলা নেই, তবুও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কুমিল্লার বিবির বাজার সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রশান্ত কুমার দাশ নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এই নিয়ে কুমিল্লায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। শুক্রবার দিবাগত রাতে বিবির বাজার সীমান্তের ‘সংরাইশ বেড়িবাঁধ’ এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে প্রশান্ত নিহত হয়। কুমিল্লা-১০ বিজিবি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে নিহত প্রশান্তের পরিবার এবং স্থানীয়দের অভিযোগ এটি একটি হত্যাকা-। প্রশান্ত কোন মাদক ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকা-ের সাথে জড়িত ছিলো না। সে ভিডিওগ্রাফারের কাজ করতেন।

প্রশান্ত পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন কিনা প্রশ্নের জবাবে কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস ছালাম মিয়া জানান, বিবির বাজার সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রশান্ত কুমার দাশের নামে থানায় কোন মামলা নেই। তবে আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।

১০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলি এলাকার বাদল চন্দ্র দাশের ছেলে প্রশান্ত কুমার দাশকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আটক করা হয়। মাদকদের একটি চালান যাবে তার এ স্বীকারোক্তি অনুসারে তাকে নিয়ে গভীর রাতে বিজিবি বিবির বাজার সীমান্তে অভিযান চালায়। এসময় আগ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের একটি দল বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায়। বিজিবি পাল্টা গুলি চালালে প্রশান্ত আহত হয়। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

বন্দুকযুদ্ধে নিহতের বাবা বাদল দাশ ও ভাই পাপ্পু দাশ জানান, নাজমুল নামে একটি ছেলে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসা থেকে প্রশান্তকে ডেকে নিয়ে যায়। রাতে খবর আসে বিজিবি তাকে আটক করেছে। তারপর প্রশান্তের বাবা ও ভাই বিবির বাজার সীমান্তে বিজিবির ক্যাম্পে যায়। তখন তাদেরকে দেখা করতে দেয়নি। বিজিবির সদস্যরা জানায়, কুমিল্লা কোটবাড়ি (১০ বিজিবি) ব্যাটালিয়নে যোগাযোগ করতে। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে খবর আসে বিজিবি’র সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রশান্ত মারা গেছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ আবির আহমেদ ফটো বলেন, প্রশান্ত এ এলাকায় বড় হয়েছে। সে ভিডিওগ্রাফারের কাজ করতো। এটা দিয়ে তার মা-বাবা এবং পরিবার চলতো। সেই মাদক বা কোন অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত ছিল এটা আমার জানা নেই।