সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯


হাঁস নিয়ে পথে প্রান্তরে সুদিন ফিরলো ৬ যুবকের


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.07.2019

মাহফুজ নান্টু ।।

মাস খানেক আগে ধানী জমিগুলোতে হলুদ ধানের ছড়া দোল খেতো। এখন সে জমিগুলোতে অল্পবিস্তর পানি আর ছোট গুল্মজাতীয় ঘাস- পোকামাকড়েরর বসতি গড়ে উঠেছে। এসব গুল্মজাতীয় ছোট ঘাস আর পোকামাকড় খাওয়া সাথে প্যাঁক প্যাঁক শব্দে জলকেলিতে মেতে উঠেছে একপাল হাঁস। সুদূর হবিগঞ্জের বানিয়াচং থেকে এসেছে হাঁসগুলো। এই হাঁস পালনের মধ্য দিয়ে দিন ফিরেছে ছয় যুবকের। পথে প্রান্তরে হাঁস নিয়ে ঘুরে ঘুরে আজ নিজের ও নিজের পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারছেন তারা। এ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন ওই ছয় যুবক। একদিন তারা হাঁসের বড় খামার গড়ে তুলবেন।
কথা হয় ছয যুবকের একজন সোহেলের সাথে। সোহেল জানান, বছর চারেক আগে ন্যের জমিতে কামলা খেটে কোন রকম দিনাতিপাত করতেন। সংসারে সারা বছর অভাব লেগে থাকতো। এখন হাঁস পালনের মধ্যে দিয়ে নিজেদের সুদিন আনতে পারছেন। সংসার থেকে দূর হয়েছে অভাব। স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতে নিজেরা বড় আকারের হাঁসের খামার গড়ে তুলবেন।


কথার মাঝে যোগ দেন ছয় যুবকের আরেকজন সুজাত। সে জানায় আদর্শ সদর উপজেলার কালখড়পাড়,কাটানিসার এবং বাঁশমঙ্গল এলাকায় তারা অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করেছেন। পাশে হাঁস রাখার ঘর তুলেছেন। সুজাত জানায়, সাড়ে ৪ হাজার হাঁস নিয়ে তারা কুমিল্লায় এসেছেন। তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে হাঁস পালন করছেন। সাড়ে চার হাজার হাসের মধ্যে ১৮’শ হাঁস এখন নিয়মিত প্রতিদিন ডিম দিচ্ছে। শহর থেকে পাইকার এসে একশ ডিম আট’শ টাকা করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সোহেল ও সুজাত আশা করেন, আগামী সপ্তাহ খানেকের মধ্যে চার হাজার হাঁস এক সাথে ডিম দিবে। এখন হাঁসের পেছনে বিনিয়োগ রয়েছে ১৮ লাখ টাকা। বছর ঘুরলে সব খরচ বাদ দিয়ে ১৮ লাখ টাকার মতো মুনাফা হবে। প্রত্যেকের লাভ হবে ৩ লাখ টাকা করে বলেই একটা স্মিত হাসি দিলেন সুজাত।
সুজাত ও সোহেল জানান,ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে এবং নিজেদের জমানো কিছু টাকা দিয়ে শুরু করেছি হাঁসপালন। এই হাঁসপালনের মধ্যে দিয়ে নিজেদের সংসারের অভাব দূর করতে পেরেছেন। এখন স্বপ্ন দেখি আমরা ছয়জন মিলে বড় একটি হাঁসের খামার গড়ে তুলতে। কারণ হাঁস পালনের জন্য এখন তৈরি খাবার খুব বেশী লাগে না। প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে হাঁস বড় হয়ে উঠে। আর এভাবেই কম খরচে নিশ্চয়ই আগামী দিনে আমরা আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবো।