সোমবার ২৩ †m‡Þ¤^i ২০১৯


কুমিল্লায় মুকুল হত্যাকা-ের দুই আসামির আত্মসমর্পণ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.07.2019


স্টাফ রিপের্টার।।

কুমিল্লা নোয়াপাড়া এলাকার ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আলোচিত মুকুল হত্যাকা-ে জড়িত এজহার নামীয় পাঁচ আসামির মধ্যে দু’জন আত্ম সমর্পণ করেন। গতকাল মঙ্গলবার এজহারনামীয় পাঁচজন আসামির মধ্যে তিন নম্বর আসামি নোয়াপাড়া এলাকার মো: সেলিম মিয়ার ছেলে মো: রাসেল(২৫) এবং একই এলাকার আব্দুল গফুর মেম্বারের ছেলে চার নম্বর আসামি আবদুল করিম(৪০) স্বশরীরে কুমিল্লার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় বিচারক আসামীদ্বয়কে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
জানা যায়, গত ২০১৬ সালের ১৩ মে শুক্রবার আনুমানিক ভোর পৌনে ছয়টায় সাইফুলের বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের দরজা ভেঙে কতিপয় সন্ত্রাসী আরিফ, রাসেল, সেলিম,করিমসহ আরো অনেকে ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় সন্ত্রাসী আরিফ সাইফুলকে ঘুমে থাকা অবস্থায় গুলি করলে গুলি সাইফুলের বুকের পাশে লাগে। গুলির আওয়াজে সাইফুলের স্ত্রী ও পাশের রুমে থাকা সাইফুলের প্রজেক্ট ম্যানেজার রিপন দৌঁড়ে এসে দেখে সাইফুলকে গুলি করা হয়েছে এবং আবার পুনরায় গুলি করতে পিস্তল তাক করলে প্রজেক্ট ম্যানেজার রিপন লাফ দিয়ে পিস্তল ধরে ফেলে। তখন সন্ত্রাসী আরিফসহ তার সাথে থাকা অন্য সন্ত্রাসীরা রিপনকে তাদের হাতে থাকা রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে রিপনের বাম হাত ভেঙে পেলে। এ সময় সাইফুলের স্ত্রীর সাথে তার ৮ বছরের ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং সাইফুলের স্ত্রী কোলে থাকা শিশু সন্তানটিকে গুলি করতে উদ্যত হয় সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসী রাসেল সাইফুলেয় বড় ভাইয়ের ছেলে রিফাতকে প্রথমে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে এবং দ্বিতীয় গুলিটি করে আরিফ । প্রায় ছয়মাস ঢাকা পি.জি হাসপাতালে(আইসিউ) তে লাইফ সার্পোটে চিকিৎসাধীন থাকার পর এখন বাসায় শয্যশায়ী। রিফাত এখনো মূমুর্ষ অবস্থায় রয়েছেন। আদৌ রিফাত সুস্থ হবেন কিনা তা নিশ্চিত করতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

নিহত মুকুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার আঁখি জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিমের ছেলে রাসেল ও সাবেক ইউপি সদস্য আ.গফুরের ছেলে সন্ত্রাসী আরিফের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করে। তবে কেন তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি।
ঘটনায় সময় গুলিবিব্ধ ব্যবসায়ী সাইফুলের স্ত্রী নাজমুন্নাহার সাংবাদিকদের জানান, ‘ভোরে পরিবারের সবাই যখনই ঘুমে তখন ঘরের ভেতর থেকে বাইরে গুলির শব্দ শুনে সবাই ঘুম থেকে জেগে উঠি। এক পর্যায়ে আরিফ, সেলিম মেম্বার ও রাসেল করিমসহ ৬/৭ জন সন্ত্রাসী আমাদের বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে আমার স্বামী সাইফুলকে গুলি করে এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার রিপনকে পিটিয়ে বাম হাত ভেঙ্গে ফেলে। পরে সন্ত্রাসীরা বাড়ির উঠানে ভাতিজা রিফাতকেও গুলি করে।’
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নুরুন্নাহার আঁখি বাদী হয়ে সন্ত্রাসী আরিফ,সেলিম মেম্বার, সেলিম মেম্বারের ছেলে রাসেল,করিম, আরিফের ভগ্নিপতি মাহবুবসহ ৫ জনকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় মামলায় অভিযুক্ত এজহার নামীয় এক নম্বর আসামি আরিফ ৫ নম্বর আসামি মাহবুবকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
এদিকে ব্যবসায়ী মুকুল হত্যাকান্ডের তিন বছর দু’মাস পরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে এজহার নামীয় তিন নম্বর আসামি নোয়াপাড়া এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মো: রাসেল(২৫) এবং একই এলাকার আবদুল গফুর মেম্বারের ছেলে আব্দুল করিম (৪০) কুমিল্লার ১ নং আমুলী আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে। এ সময় বিজ্ঞ বিচারক আসামিদ্বয়কে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী মুকুল হত্যকান্ডের মামলাটি বর্তমানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র তত্ত্বাবধানে রয়েছে।