রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯


রোপা আমন চাষ নিয়ে শংকিত কৃষক !


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.07.2019

কুমিল্লায় কম বৃষ্টি

মাহফুজ নান্টু ।।

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ২২ আষাঢ়। দিনভর আকাশজুড়ে মেঘ আর ঝুম বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতি এবার গো ধরে বসেছে। আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ চলছে কিন্তু এখনো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি কুমিল্লায়। অনাবৃষ্টির কারণে খরায় পুড়ছে রোপা আমনের বীজতলা। পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে আছে ধানী জমি। আগামী সপ্তাহ থেকে জমিতে রোপা আমন চাষ করার কথা থাকলেও বৃষ্টি না হওয়ার জমি চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা। এ কারণে জেলার ষাট হাজারের অধিক কৃষকের কপালজুড়ে চিন্তার ভাঁজ প্রসারিত হচ্ছে।
সময়মতো ধান রোপণ করতে না পারলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলন না পাওয়ার আশংকা থাকবে।
সরেজমিনে, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া,চৌদ্দগ্রাম ও বরুড়া উপজেলায় ধানীজমি ও বীজতলা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে রোপা আমনের জন্য তৈরি বীজতলায় ধানের চারাগুলো সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। পানির অভাবে বীজতলা ও ধানী জমি ফেটে চৌচির হয়ে আছে।
আদর্শ সদর উপজেলার কৃষক মঞ্জুর মিয়া, আবুল মনসুর,ছোবহান, তাজুল ইসলাম জানান, আষাঢ় মাস শেষ হতে চললো অথচ এখনো পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি। পানির অভাবে ধানের চারাগুলোও বড় হতে পারছে না। বীজতলায় পানি খুব দরকার। এদিকে মাঠে ধান রোপণের জন্য হাতে সপ্তাহ দুয়েক সময় আছে। এর মধ্য যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে এ বছর রোপা আমন চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে না।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রান্তিক কৃষক উসমান, সোহায়েব,গফুর মিয়া জানান, গত ১৫/২০ বছরে আষাঢ় মাসে অন্তত এমন খরা তারা আর দেখেননি। আষাঢ় মাসে যেখানে বৃষ্টির জন্য ক্ষেতে রোপণ করা ধানের চারা বৃষ্টির পানি আর পাহাড়ি ঢলে পানিতে তলিয়ে যেত। অথচ এবছর অনাবৃষ্টির কারণে জমিতে ধান রোপণ করা নিয়েই চিন্তিত আছি। বৃষ্টি নেই, খাল বিল শুকিয়ে গেছে। পানি নেই, কি করি। ধান না করলে পরিবার পরিজন নিয়ে বড় বেকায়দায় পড়তে হবে বলে কৃষকরা আফসোস করতে লাগলেন।
তবে অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকরা যেন চিন্তিত হয়ে না পড়েন সে বার্তাই দিলেন কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো.শহীদুল হক৷ তিনি জানান, যদি এ সময়টাতে বৃষ্টি না হয়ে আরো পরে বৃষ্টিপাত হয় সেক্ষেত্রে কৃষকরা নাবি জাতের ধানের চাষ করলে ভালো হবে। কারণ নাবি জাতের ধান চাষ করলে কম সময়ে অধিক ফলন পাওয়া যাবে। তাতে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শংকা থাকবেনা। তবে কৃষি অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী এখনো বেশ ভালো সময় রয়েছে রোপা আমণ চাষের জন্য। যদি চলতি সপ্তাহের মাঝে বৃষ্টি শুরু হয় তাহলে কৃষকরা মাঠে রোপা আমন ধান চাষ করে বাম্পার ফলন ফলাতেও পারবে।
চলতি সপ্তাহে কুমিল্লাসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোঃইসমাইল হোসেন ভূইয়া। তিনি জানান, প্রতি দশ পনের বছর অন্তর অন্তর প্রকৃতির খেয়ালীপনায় অনাবৃষ্টি- অতিবৃষ্টি দেখা দেয়। এ বছর কুমিল্লায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হলেও সব অঞ্চলে সমপরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়নি। বলা যায় ঋতুর শুরুটা অনাবৃষ্টির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ধারণা করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহে জেলার সর্বত্র ভারি বৃষ্টিপাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।