সোমবার ২৩ †m‡Þ¤^i ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » কুমিল্লায় পাওনা টাকা চাওয়ায় পাঁচ পরিবারের ১৫টি ঘরে হামলা


কুমিল্লায় পাওনা টাকা চাওয়ায় পাঁচ পরিবারের ১৫টি ঘরে হামলা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.07.2019


স্টাফ রিপোর্টার ।।
কুমিল্লায় পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে পাঁচ পরিবারের অন্তত ১৫টি বসত ঘরে হামলা, ভাংচুর এবং নারী,শিশু ও বৃদ্ধদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ কর্মী শাহিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই সব পরিবারের অভিযোগ হামলাকারীরা বসত ঘরের তালা ভেঙ্গে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সা লুটসহ দুটি মোটরসাইকেল চিনিয়ে নিয়ে যায়। উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
হামলা থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার পুলিশের ৯৯৯ এ কল দিলেও সাড়া মেলেনি। সন্ত্রাসীরা রাতভর তান্ডব চালিয়ে গেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে কুমিল্লার সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখলা গ্রামের মাদ্রাসা বাড়িতে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী কর্মকা-ে নেতৃত্বে থাকা যুবলীগ কর্মী শাহিন ওই গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে। পূর্বে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় বশির মেম্বারকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করাসহ কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনায় থানায় মামলা রয়েছে। এছাড়া পূর্বে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন।
শুক্রবার দিবাগত রাতে তার এই তান্ডব লীলার শিকার ধনুয়া খোলা গ্রামের মাদ্রাসা বাড়ির ভুক্তভোগী মো. আলম, মহিউদ্দিন সেলিম, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও বারেক মিয়ার পরিবার।


ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, আলম ও সেলিম শাহিনের কাছে পাওনা টাকা ফেরতের দাবি করে। দিবে বলে শাহিন দুই বছর যাবত ঘুরিয়ে আসছে। চলতি মাসের ১ তারিখে দেনাদার শাহিন জানায় স্থানীয় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে টাকা ফেরত দিবে।
স্থানীয়রা জানায়, ধনুয়াখলা গ্রামের মৃত নজির আহম্মেদের ছেলে মাঈন উদ্দিন আলম বেঙ্গল ফিস এ- ফিড এবং গ্লোব এগ্রো প্রেডাক্টসের স্থানীয় ডিলার। একই গ্রামের যুবলীগ কর্মী শাহীন তার মাছের ফিশারির জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মাছের খাদ্য বাকী নিয়েছিলেন আলম থেকে। এই নিয়ে আলমের সাথে শাহিনের লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিরসনে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুইপক্ষের মধ্যে সালিশ বৈঠক বসার কথা ছিল। সালিশি বৈঠকের পূর্বে শুক্রবার সন্ধ্যা শাহিন তার লোকজন নিয়ে আলমের বাড়িতে যায়। ওই খানে কাটাকাটির সূত্রধরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটে। এতে শফিউল্লাহ, নোমান, জয়নাল ও বাবুল মিয়া নামে ৪জন আহত হয়। এই ঘটনার জের ধরে পরে রাত সাড়ে ১১ টায় যুবলীগ কর্মী শাহিনের নেতৃত্বে ১৫/২০জন সন্ত্রাসী বাহিনী মাইনুদ্দিন সেলিম ও আলমের বাড়িতে হামলা ও তান্ডব চালায়। এসময় একই বাড়ির মিজান, মকবুল আহমেদ, বারেকের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।
মাঈন উদ্দিন আলমের স্ত্রী জাহানারা বেগম জানায়, শাহিনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা আমাদের বাড়িতে এসে হামলা ও ভাংচুরের শুরু করলে সহযোগিতা চেয়ে পুলিশের ৯৯৯ এ বেশ কয়েকবার কল দিয়েও সন্ত্রাসী তান্ডবে রক্ষা পাইনি। পুলিশ আমাদের উত্তর দিয়েছেন অভিযোগ সঠিক না হলে উল্টো আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আমলে নেওয়ার আগেই সন্ত্রীরা আমাদের বসত ঘরের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ আমাদের মারধর এবং টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকারসহ ঘরের মালামাল লুট করে। আরেক ভুক্তভোগী বারেক মিয়ার মেয়ে সালমা আক্তার জানায়, হামলা ও ভাংচুরের এক পর্যায়ে পুলিশ আসলেও তাদের উপস্থিতেও সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা হামলা ভাংচুর মাত্রা বাড়িয়ে দেন।
কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির এস আই মাহবুব বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের উপর হামলা ও বসত ঘর ভাংচুর ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে রাতেই গিয়েছি। হামলাকারীদের আমরা চিনতে পেরেছি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলেই আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
স্থানীয় কালিরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মো. সেকান্দর আলী বলেন, দুই পক্ষের হামলার ঘটনা আমি শুনেছি। আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শফিউল্লাহ, নোমান, জয়নাল ও বাবুল মিয়া নামে ৪জন আহত হয়েছে। বসত ঘর ভাংচুরের বিষয়টি আমার জানা নেই।