সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯
  • প্রচ্ছদ »sub lead 1 » গোমতীর বালু উত্তোলনসহ ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি


গোমতীর বালু উত্তোলনসহ ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.07.2019


মাসুদ আলম।।
কুমিল্লার গোমতী নদীর প্রায় দেড়শতাধিক স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর চর ও ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ মাটি কাটা হচ্ছে। নদী চর ও ফসলি জমি থেকে ২০-২৫ ফুট গভীর করে রাত-দিন ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতে বালু না থাকায় পাশের কৃষি জমি ও চরকে বেছে নিয়েছে বালু ও মাটি ব্যবসায়ীরা। অবাধে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে গোমতী নদীর দুই পাশের প্রতিরক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় নদীতে জোয়ার আসলেই বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। বালু ও মাটি দস্যুরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে গোমতী নদী জুড়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, প্রভাবশালী এইসব ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ মাটি কেটে বিক্রি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোমতী নদীর প্রায় দেড়শতাধিক স্থানে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের মধ্যে অন্যতম কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পূর্বহুড়া এলাকা। ওই স্থানটি দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত আনোয়ার হোসেন ও জামাল উদ্দিন নামে দুই ব্যক্তি নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাত-দিন বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনসহ মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে করে নদীর বাঁধের ভিতরে থাকা চর ও কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। প্রভাবশালী এই দুই ব্যক্তি বুড়িচং উপজেলার নানুয়ার বাজার পূর্বহুড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মোকশত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন এবং মৃত বজলু মিয়ার ছেলে মো. জামাল উদ্দিন। তাদের বাহিনী থাকায় ভুক্তভোগী কৃষক ও সম্পত্তির মালিকরা প্রতিবাদ করতে পারছে না।
তবে এই দুই অভিযুক্তকারীর বিরুদ্ধে এক জমির মালিক বুড়িচং উপজেলার নানুয়ার বাজার পূর্বহুড়া সরদার বাড়ির বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি তার অভিযোগে জানান, বাঁধের ভিতরে গোমতী নদীর পাড়ে আমার পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ২১ শত সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তির মধ্যে তিনি বিভিন্ন ফসলের চাষ করতেন। কিন্তু আনোয়ার ও জামাল নামে ওই প্রভাবশালী তাদের ব্যক্তিগত দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসী বাহিনী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জমির পাঁচ ফিট নিচ থেকে বালু উত্তোলন এবং মাটি কেটে নিচ্ছে। যা দিনে-রাতে অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ১৭ মে ওই অভিযুক্তরা ১০৫ বিএস খতিয়ান ভূক্ত ১০১ দাগে ২১ শতক ভুমি থেকে জোর পূর্বক মাটি কাটিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমি অভিযুক্তদের আসামি করে আদালতে একটা মামলা দায়ের করি। তারপর অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত হয়ে ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে জানায় অবৈধ ভাবে মাটি কাটায় কৃষি জমির অনেক ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে আর মাটি কাটবে না বলে আদালতকে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বর্তমানে আদালতের কথা অমান্য করে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন জানায়, পূর্বে কেটেছি। আদালতের নির্দেশের পর ওই জমি থেকে আর বালু বা মাটি উত্তোলন করেনি। বর্তমানে ওই জমি থেকে মহিউদ্দিন আর রাসেল নামে দুই ব্যক্তিরা বালু উত্তোলন করছে।
তবে জমির মালিকের অভিযোগ জামাল এবং আনোয়ার পিছনে থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বুড়িচং উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিদা আক্তার বলেন, পূর্বহুড়ায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ব্যক্তিগত ভূমি এবং নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।