সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯


পা বিহীন বিক্রম দাঁড়াতে চান নিজের পায়ে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.07.2019


তৌহিদ খন্দকার তপু।।
কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হরিজন সম্প্রদায়ের শারিরীক প্রতিবন্ধী বিক্রম রবি দাশ। জুতা পায়ে দেয়ার মত নিজের দুটি পা না থাকলেও মানুষের জন্য জুতা তৈরি করে সন্তুষ্ট সে। দুই পায়ে প্রতিবন্ধকতা থাকায় হাতে ভর দিয়ে হেটে চৌদ্দগ্রাম বাজারে এসে তার ছোট্ট জুতার দোকানে মানুষের পুরাতন জুতা সেলাই করে তার একার উপার্জনে চালিয়ে যাচ্ছে। নিজের ও সাত সদস্যের সংসার। পৌর মেয়র মিজানুর রহমানের কাছে আবেদন করলে তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজারে সরকারি জায়গায় একটি দোকান নির্মাণ করে দেয়া হয়।
কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চৌদ্দগ্রাম বাজারে ছোট্ট একটি জুতা সেলাই করার দোকান প্রতিবন্ধী বিক্রম রবি দাশের। বিক্রম জানায়, চাঁদপুর জেলার পুরান পূর্ব শ্রীবামদী এলাকার রাধারবি দাশের সন্তান। ১৯৯২ সালে চাঁদপুর নূরীয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করে। ২০০২ সালে কুমিল্লায় বিয়ে করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে রাস্তার পাশে জুতা সেলাই করে পরিবার চালায় সে। ২০০৮ সালে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান বাজারে একটি স্থায়ী দোকানের ব্যাবস্থা করে দেয় তাকে। ছোট্ট এই দোকানটিতে জুতা সেলাই করে জীবন যুদ্ধ চালাচ্ছে বিক্রম। মা, চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটায় সে। খুব ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিজের পড়ালেখা শেষ করতে পারেনি বিক্রম। তবে নিজের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করতে চায় সে। প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও কারো কাছে হাত পাততে চায়না সে। একটু থাকার জায়গা ও চার সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালাতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন প্রতিবান্ধী বিক্রম রবি দাশ।
বিক্রমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, বিক্রমের পরিবারে উপার্জনক্ষম আর কেউ না থাকায় শত প্রতিকূলতার মাঝে তাকেই রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অর্থ উর্পাজনের জন্য বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার হাতে ভর দিয়ে দোকানে যায় বিক্রম। বিক্রমের মা, স্ত্রী ও সন্তানদের দাবি সরকারের সাহায্য সহযোগিতা পেলে তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।
চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী বিক্রমকে আগেও সরকারি সাহায্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সে আবেদন করলে তাকে বাংলাদেশ সরকারের আবাসন প্রকল্প থেকে থাকার জায়গা ও ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।