সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯


সংস্কারের ৪ দিনের মাথায়ই ব্যবহার অযোগ্য


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.07.2019

লাকসাম প্রতিনিধি।।

মাত্র ৭ লাখ টাকায় সংস্কার কাজের ৪ দিনের মাথায়ই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে লাকসাম উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র। বৃষ্টির পানিতে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির মেঝে সয়লাব; ওষুধপত্র, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতিসহ মূল্যবান নথিপত্র ভিজে একাকার। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সাধারণ ও ডাক্তার ভোগান্তিতে পড়ে।
জানা গেছে, লাকসাম পৌরশহরের থানা কমপ্লেক্সের অদূরে অবস্থিত লাকসাম উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রায় দেড়শ’ বছর আগে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার্থে স্থাপন করা হয়। জমিদার আমলে প্রায় ৭০ শতক ভূমির উপর প্রতিষ্ঠত এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ বিষয়ে বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৩ই মার্চ সংস্কার কাজ শুরু হয়। প্রায় ৭ লাখ টাকায় মেসার্স কলি এন্টারপ্রাইজ চৌচালা টিনশেড স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি একচালায় রূপ দিয়ে সংস্কার শেষে গত ৩রা জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করেন। কিন্তু হস্তান্তরের ৪ দিনের মাথায় সামান্য বৃষ্টিতেই চাল গড়িয়ে ভেতরে পানি পড়ে মেঝে সয়লাব হয়ে যায়। এতে ওষুধ, আসবাবপত্র, নথিপত্র ভিজে যায়। ভোগান্তিতে পড়ে রোগীসাধারণ ও চিকিৎসক-কর্মচারী।
অভিযোগ রয়েছে- উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সংস্কার কাজে নতুন ফ্যান দেয়ার কথা থাকলেও পুরনো ফ্যান দিয়ে কাজ চালিয়ে দেয়া হয়েছে। দেয়া হয়নি পানির ট্যাংকি ও বেসিন। ফ্লোরের কাজ করা হয়েছে দায়সারাগোচের। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় লোকজন জানায়, টিন শেড ও বাঁশের বেড়া দিয়ে নির্মিত এক সময়কার এ দাতব্য চিকিৎসালয়টি এখন লাকসাম উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র নামে পরিচিত। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়া হয়। প্রতিদিন অন্ততঃ শতাধিক রোগী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। এদের অধিকাংশই হতদরিদ্র নারী ও শিশু। কিন্তু এ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি লাকসাম শহরের কেন্দ্রস্থলে হলেও আজো তাতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। আধুনিক স্থাপনা, সীমানা প্রাচীর কিছুই নেই। যে কোন সময় বেহাত হওয়ার আশংকা রয়েছে শত কোটি টাকা মূল্যমানের অরক্ষিত বিশাল সম্পত্তি।
গত রোববার কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উপসহকারি প্রকৌশলী (স্বাস্থ্য) মোহাম্মদ রনি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, উপরোক্ত সমস্যার বিষয়ে ঠিকাদারের সাথে আলাপ হয়েছে। পূনঃরায় কাজ না করলে জামানত থেকে কর্তন করা হবে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে দীর্ঘ ২/৩ যুগেও এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির উন্নয়নতো দূরের কথা পূনঃ মেরামতও করা হয়নি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও এলাকাবাসীর দাবির মুখে নামমাত্র সংস্কার কাজ হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ভিতরে পানি পড়ে নষ্ট হয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধ পত্র। চিকিৎসক ও রোগীরা বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। ব্যাঘাত ঘটে চিকিৎসা সেবার।
অপরদিকে, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার একটি কোয়াটার থাকলেও তা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারদিকে বিরাজ করছে অপরিছন্ন নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে নেই বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও ময়লা মল-মূত্রে ভরপুর। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা মাটিতে একাকার হয়ে যায় রাস্তাটি।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন মেডিকেল এসিষ্টেন্ট, একজন ফার্মাসিষ্ট, একজন সেকমো, একজন ভিজিটর, একজন এমএলএসএস, একজন আয়ার পদ রয়েছে। বর্তমানে একজন সেকমো ও একজন ভিজিটর ছাড়া বাকী পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। গত বছর একজন মেডিকেল অফিসার পোস্টিং পেলেও একদিনের জন্যও তিনি ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে আসেননি বলে এলাকাবাসী জানায়।
সূত্র জানায়, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ওষুধ এ চিকিৎসা কেন্দ্রের আসা রোগীদের তুলনায় অনেক অপ্রতুল। ফলে রোগীদেরকে চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে হিমশিম খেতে হয়। বরাদ্ধকৃত ওষুধ দিয়ে সঠিক চিকিৎসা করলে সারা মাসের বরাদ্দ পাওয়া ওষুধ দিয়ে সর্বোচ্চ ২/৩ দিন চালানো সম্ভব। তাই অধিকাংশ ওষুধই রোগীদের বাজার থেকে ক্রয় করতে হয়।
লাকসাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েত বেগম জানান, বৃষ্টির পানি রুমের ভেতরে ঢুকে ওষুধ, নথিপত্র, আসবাবপত্র ভিজে গেছে। রোগী দেখা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নিশাত সুলতানা এ বিষয়ে জানান, সংস্কার কাজ শেষে গত ৩রা জুলাই লাকসাম উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি আমাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু চাল দিয়ে ভেতরে পানি পড়ার বিষয়ে আপত্তি জানালে ঠিকাদার পুনরায় কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দেয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে জানানো হবে। ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো জানান, শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের লোকবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট নিরসনসহ অবকাঠামো সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করবো।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কলি এন্টারপ্রাইজের পরিচালক শাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে জানান, ইঞ্জিনিয়ারের স্টিমিট অনুযায়ীই সকল কাজ করেছি। চাল দিয়ে পানি পড়ার খবর পেয়ে মিস্ত্রি পাঠিয়েছি ঠিক করার জন্য।