শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯


কুমেক হাসপাতালে ভর্তি আহত লতিফ ‘এদিন রাধানগরে কেয়ামত নেমে এসেছিলো’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.07.2019

আবু সুফিয়ান রাসেল।।
ঘরে ভাত খাইতে ছিলাম। আমার স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৬) একটা চিৎকারের আওয়াজ শুনলাম। দৌঁড়ে বাইরে গেছি, দেখি স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে গড়াগড়ি করতে আছে। মা ডাক দিলেন, আমারে বাঁচা। মা’র দিকে যেতে না যেতে মার গাড়ে ও পিঠে একটা কোপ দিয়েছে ফেলেছে। ডান দিকে একটা কাঠের টুকরা দেখলাম। কাঠটা হাতে নিতে দেখেই মোখলেস রামদাটা আমার পেটে নিক্ষেপ করে। আমার আর কিছু মনে নেই। আমি তখন অজ্ঞান হয়ে যাই। বলছিলেন নিহত নাজমা আক্তারের স্বামী নুরুল ইসলাম। তিনি ও তার মা মাজেদা বেগম কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি আরো বলেন,এদিন রাধানগরে যেন কেয়ামত নেমে এসেছিলো।
কাঁচা মাল ব্যবসায়ী আ. লতিফ। মোখলেছের বাড়ির উঠান দিয়ে তার বাড়ির চলার পথ। আ. লতিফ বলেন, প্রতিদিনের মতো খাড়িতে করে মালামাল নিয়ে নিমসার বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। দেখলাম সে বড় বড় চোখ করে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি বললাম, কি রে মোখলেছ। কথাটা শেষ না হতেই মাথা টার্গেট করে একটা কোপ। কোপটা আমার গর্দানে পড়ে। আরেকটা কোপ দিয়েছে, সেটা হাত দিয়ে রক্ষা করি।
৬ মেয়ে ১ ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার লতিফের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিটি কুমেক হাসপাতালে ভর্তি।
বহুদিন পর বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন রাবেয়া বেগম (৩৬)। স্বামী ছেলে-মেয়ে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকেন তিনি। মানুষের চিৎকার শুনে উঠানে যান রাবেয়া। সেখানেই এতোপাতাড়ি ভাবে ৫টি কোপ দেয় তার পিঠে।
রেহাই পায়নি দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাহিমা (৮)। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুপিয়ে যখম করা হয় তাকে। এ শিশুটির পিঠে ও বাম হাতে দু’টি কোপ দেওয়া হয়েছে।
বাড়ির পাশে পতিত জমিতে কাজ করছিলেন জাহানারা বেগম। দৌঁড়ে এসে তার হাতে একটি ও পিঠে দু’টি কোপ দিয়ে চলে যায় মোখলেছ।
গতকালের হত্যাকা-ের প্রায় অংশের প্রত্যক্ষ সাক্ষী জাহানারা বেগমের দাদা মো. বজলুর রহমান। তিনি বলেন, যাকে সামনে পাইছে তাকেই কোপাইছে। আমি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেই। ১০-১৫ মিনিট এ কান্ডটা চলতে থাকে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হলো, মোখলেছ সবার কল্লা কেটে ফেলতেছে। যে যেখানে থাকুন সবাই এ গিয়ে আসুন।
যে সেখানে ছিলো সবাই দৌঁড়ে আসলো। দোকানের সামনে থেকে কেউ হুন্ডায়, কেউ অটোতে করে আসলো। দা ফেলে সে পালিয়ে যাওয়ার সময়। তাকে সবাই তাকে ধরে আনলো। পাবলিক সেখানে তাকে মেরে ফেলে।
আহত আ. লতিফ আরো বলেন, কয়েক বছর আগে মোহনপুর ইউনিয়নের তালতলা গ্রাম থেকে এখানে এসে নতুন বাড়ি করে।
রিকসা চালাতো, পরিবার নিয়ে ভালই চলছিলো। কারো সাথে কোন ঝামেলা নাই। নামাজ পড়তো নিয়মিত। হঠাৎ কী হলো বলতে পারি না।