রবিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯


কুমিল্লা আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.07.2019


মাসুদ আলম।।
কুমিল্লার আদালত পাড়ায় পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার আদালত অঙ্গনে প্রবেশের প্রধান ফটকে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। চেক পোস্টে আদালত প্রবেশে বিচার সংশ্লিষ্টদের ব্যাগ, রিকশা, প্রাইভেটসহ অন্যান্য যানবাহন পুলিশ তল্লাশী করতে দেখা গেছে। এদিকে হত্যার ঘটনায় রক্তের দাগ এবং আলামত সংগ্রহে সাময়িকভাবে ওই আদালতের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
খাস কামরায় ঢুকে আসামিকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার আদালতে আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ভাব দেখা গেছে। তবে আদালতে বিচার কার্যক্রম অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক রয়েছে।
কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম জানান, কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে ৩য় তলায় অবস্থিত ওই আদালতে আসামি হত্যার ঘটনায় রক্তের দাগ এবং কিছু আলামত রয়েছে। যার কারণে ওই আদালতটি একই ভবনের নিচ তলায় সাময়িক ভাবে সরিয়ে নিয়ে যথারীতি বিচার কাজ চলছে। এছাড়া মামলা হওয়ায় পুলিশের তদন্ত কাজও চলছে। তবে ওই ঘটনায় আইনজীবী ও বিচার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক কেটে গেছে। পুলিশি নিরাপত্তা আদালতে জোরদার করা হয়েছে।

হত্যাকা-ের আসামির ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তি
স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার আদালতে বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে ফারুক নামের এক আসামিকে ছুরি দিয়ে উপর্যপুরি কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি হাসান ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। মঙ্গলবার কুমিল্লা সদর আদালতের বিচারক মো. জালাল উদ্দীনের নিকট এই স্বীকারোক্তি দেয়। হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়ায় বিচারক তাকে রিমান্ড না দিয়ে কারাগারের প্রেরণ করেন। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মাইনউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আসামি হাসান কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ভোজপাড়া গ্রামের শহিদ উল্লাহর ছেলে।
উল্লেখ্য, ২০১৩সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কান্দি গ্রামে হাজী আবদুল করিম হত্যা মামলায় জামিনে থাকা আসামিদের সোমবার হাজিরার দিন ধার্য ছিলো। মামলার আসামিরা আদালতে প্রবেশের সময় ৪নং আসামি ফারুককে ছুরি নিয়ে তাড়া করে ৬নং আসামি হাসান। এ সময় জীবন বাঁচাতে ফারুক বিচারকের খাস কামরায় প্রবেশ করেন। সেখানে প্রবেশ করে হাসান টেবিলের উপর ফেলে ফারুককে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে। আহত ফারুক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
বাঙ্গরা থানার এএসআই ফিরোজ বাদী হয়ে ফারুকের হত্যাকারী হাসানকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরবর্তীতে তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির পরিদর্শক প্রদীপ মন্ডলকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।