সোমবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯


কুমিল্লা বোর্ড দেশ সেরা হওয়ায় যা বললেন তারা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.07.2019

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭৭.৭৪ শতাংশ। যা সারা দেশের মধ্যে সবার সেরা। কুমিল্লায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৩৭৫ জন পরীক্ষার্র্থী। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এতে কুমিল্লায় আনন্দের জোয়ার বইছে। এ ফলাফল অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন কুমিল্লার বিশিষ্টজনরা। তাদের সাথে কথা বলেছেন স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজ নান্টু।

                                                             প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভুইয়া

                                                      অধ্যক্ষ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ।
প্রতি বছরই ওয়ার্কশপ করতে হবে। যারা বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার রয়েছেন তাদের পরামর্শ নিতে হবে। আমি দেখেছি আমি যখন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলাম তখন আমি শিক্ষকদের নিয়ে এসব ওর্য়াকশপ করেছি। আমি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র দেড় দু মাস হবে।এর আগে আমি কিভাবে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করবে সে বিষয়ে অনেক গবেষণা করেছি। তারই আলোকে বলতে চাই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। কারণ পাঠ পরিকল্পনা পরিবর্তন হচ্ছে শিক্ষাদানের পদ্ধতিও পরিবর্তন হচ্ছে তাই শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করতে পারলেই শিক্ষার্থীরা যথাযথ পাঠ গ্রহণ করতে পারবে।এতে করে ফলাফল হবে যথাযথ। আশা করি বোর্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হৃদয়াঙ্গম করে সাফল্য আনতে পারবে।

                                                                    হাসান ইমাম মজুমদার
                                                           অধ্যক্ষ, অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়।
ইংরেজি আইসিটি বিষয়ে প্রতি বছরেই আমাদের ওয়ার্কশপ জারি রাখতে হবে। এক বছরের ফলাফলে তৃপ্ত থাকা ভালো, তবে সন্তুষ্ট হওয়া যাবে না। তাতে সাফল্যর অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। তাই বোর্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে। এভাবে সবাই সচেতন হলে বোর্ডের যে সফলতা এসেছে সে সফলতার ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে পারবো।                                         
                                                             অধ্যক্ষ আবু ছালেক মোহ সেলিম রেজা সৌরভ

                                                                            অধ্যক্ষ,সোনার বাংলা কলেজ।
ইংরেজি -আইসিটিসহ বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ে বছরের প্রথম থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে আমি মনে করি ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। আত্মংকারে থাকলে হবে না। মনে রাখতে হবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী রাখতে হবে। কোনভাবেই অভিভাবক- শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্যাপ রাখা চলবে না। কারণ স্বাতন্ত্রিকভাবে শিক্ষার্থী ভালো করবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবকের সমন্বিত সেতুবন্ধনে। আর স্বাতন্ত্রিকভাবে ভালো করলেই পুরো বোর্ডের ফলাফল ভালো হবে। আর এভাবেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে পারি।

 

                                                                       আলী আকবর মাসুম
                                                             সাধারণ সম্পাদক,সুজন- কুমিল্লা।
শিক্ষা যেন বাণিজ্যকরণ না হয় আমাদের সর্বাগ্রে সেই বিষয়টি মনে রাখতে হবে। আমাদের এ বছর যে ফলাফল হয়েছে তা ধরে রাখতে হলে এ বছরের চেয়েও সামনের বছরগুলোতে আরো বেশী আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। এখনো অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণের মত পরিবেশ নেই। সেখানে শিক্ষার্থীরা যুদ্ধ করে তাদের লেখাপড়া করতে হয়। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি মনে করি কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে নজর দিবেন, কারণ এ বিষয়টি ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে সহযোগিতা করবে।
আরেকটি বিষয় বলবো আমাদের যে কোমলমতি কিশোর তরুণ শিক্ষার্থীরা সঠিক গাইড লাইনের অভাবে বিপদগামী হয়। হউক তার ব্যক্তি জীবনে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আমি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্য বলবো আপনারা উভয়ই একজন শিক্ষার্থীর প্রথম ও দ্বিতীয় অভিভাবক। আর এ জন্যই আমাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আপনাদের উপর। এ জায়গাটার যে গ্যাপ রয়েছে তা পূরণ করতে পারলে শিক্ষা সংস্কৃতির পাদপীঠ বলে পরিচিত কুমিল্লার ফলাফলের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।