শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯


ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুসিকের যত কর্মসূচি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.08.2019

নগরীতে এডিস মশা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সোচ্চার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। মশক নিধনে ইতোমধ্যে জোরালোভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে কুসিক। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগসহ পরিচালনা হচ্ছে নানা কর্মসূচি। পাড়া, মহল্লার অলিগলি এবং অপরিচ্ছন্ন পুকুর, ডোবা ও নালা পরিষ্কার। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশক নিধনে স্প্রে পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগ এবং মশার প্রজনন স্থান ধ্বংসে লেয়ার ওষুধ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে এডিস মশা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করে আসছে কুসিক। ঢাকায় মহামারি এবং দেশের অধিকাংশে জেলায় ডেঙ্গু প্রকোপ আকার ধারণ করলেও সুবিধাজনক অবস্থানে আছে কুমিল্লা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুসিকের ভূমিকা, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়নি বললেই চলে। তবে এই সচেতনতা অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সফল হবে কুমিল্লা, ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
এডিস মশা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুসিকের ভূমিকা নিয়ে রবিবার কথা হয় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়–য়ার সাথে কথা বলেছেন স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ আলম।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল


                                           মনিরুল হক সাক্কু

মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন,২৫ জুলাই থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ অব্যাহত রয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের। প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ ঘোষণা করলেও আমরা এখনও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। কুসিকের ক্ষমতা যতটুকু আছে,ততটুকু দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করছি। মশক নিধনে কুসিকের ৯টি ওষুধ প্রয়োগের পগার মেশিন রয়েছে। যার মাধ্যমে মশক নিধনে স্প্রে ওষুধ প্রয়োগ এবং মশার প্রজনন স্থান ধ্বংসে লেয়ার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। ১ থেকে ২৭টি ওয়ার্ড ভাগ করে প্রতিদিন মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগ কুসিক অব্যাহত রেখেছে। ময়লা, আবর্জনা পরিস্কার করার জন্য যে নির্দিষ্ট পরিমাণের লোকবল রয়েছে, বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অতিরিক্ত আরও ৬০ জন কর্মী কাজ করছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওই পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি বালিত ঘোষণা করা হয়েছে। কুসিক মশক নিধনে পাড়া-মহল্লার অপরিচ্ছন্ন পুকুর, ডোবা এবং নালা পরিষ্কারে কাজ করছে। আমাকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে ১২ সদস্যের কমিটি। তিন ওয়ার্ড নিয়ে এক কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির বাইরেও ২৭টি ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরাও কাজ করছে।
ঢাকার দুই সিটিতে মশক নিধনে ব্যবহার করা ওষুধ কাজ করছে না, কুসিকের দেওয়া ওষুধ কেন কাজ করছে? জবাবে মেয়র সাক্কু আরও বলেন, কুসিক ঢাকার মতো ওষুধ কিনেনি। তারা তাদের মতো কিনেছে। আমরা আমাদের মতো কিনে মশক নিধনে ব্যবহার করছি। আমাদের ওষুধে কাজ হচ্ছে। কারণ এখনও কুমিল্লায় কোন ব্যক্তি ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়নি। যারাই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে সবাই ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে। এডিস মশা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুসিক কাজ করছে, আশা করি সফল হবো।

শুধু মশক নিধন নয়, আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু সনাক্তে সেবা দিবে কুসিক

                                                              অনুপম বড়ুয়া
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়ুয়া বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে বড় বিষয়। দেশব্যাপী ঘোষিত ২৫ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পরিচ্ছন্নতা অভিযান আমরা যথাযথ ভাবে পালন করেছি। এখনও কুসিকের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, মাইকিং করে যাচ্ছি। এর আগে নগরবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মশক নিধনে কুসিক জোরালোভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগ, অপরিচ্ছন্ন এলাকাগুলো পরিস্কার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর যে এডিস মশা এগুলো বাড়িতেই বেশির ভাগ জন্মে। এছাড়া বাড়ির ছাদ কিংবা ফুলের টপসহ আবদ্ধ জায়গায় জমে থাকা পরিস্কার পানিতে এই মশার প্রজনন ক্ষমতা বেশি। তারপরও আমরা নগরীর ১নং থেকে ২৭নং ওয়ার্ডের অপরিচ্ছন্ন পুকুর,ডোবা, নালা পরিস্কার কাজ অব্যাহত রেখেছি। মশক নিধন কার্যক্রমের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আমরাও গত শুক্রবার এবং শনিবার কাজ করেছি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশন নিধনের কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। গরিব, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা এবং ডেঙ্গু রোগ সনাক্তকরণ কার্যক্রমও হাতে নিয়েছি। গরিব ও অসহায়সহ সর্বস্তরের নাগরিককে কুসিক বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে ডেঙ্গু রোগ সনাক্তকরণ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবে।