রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯


বিদ্যালয়ের মাঠ নাকি দুর্গন্ধযুক্ত জলাশয়!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.08.2019

শাহীন আলম, দেবিদ্বার ।

বিদ্যালয়ে ঢোকার পথ ও সামনে খেলার মাঠ নেই। আছে বিশাল নর্দমার এক জলাশয়। মাঠের অভাবে শিক্ষার্থীরা বারান্দায় খেলতে গিয়ে প্রায়ই পা ফসকে পড়ছে নর্দমার পানিতে। শিক্ষার্থীদের পানি করার একটি মাত্র নলকূপ। সেই নলকূপটিও এখন জলাশয়ের মাঝখানে। শিক্ষার্থীদের একজন একজন করে সিরিয়ালে গ্লাস হাতে নিয়ে জলাশয়ে রাখা ইটের ওপর এক পা দু’ পা ফেলে নলকূপ থেকে পানি খাচ্ছে। এ অবস্থা কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার চান্দপুর মডেল টেকনিক্যাল হাইস্কুলের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন জানান, পাশে বিদ্যালয়ের ভবনের কাজ চলছে। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি লেগে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ আছে কিনা প্রশ্ন করায় তিনি জানান, খেলার মাঠ আছে তবে অন্য এক জায়গায় সেটা কোথায় আছে তা তিনি বলতে পারেননি।

বাবুল হোসেন নামে এক অভিভাবক জানান, বর্ষাকালে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও বারান্দা ডুবে যায়। বিদ্যালয়ে নেই কোন বিশুদ্ধ পানির গভীর নলকূপ, নেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা ও সীমানা প্রাচীর। বেহালদশা ছেলেদের টয়লেটের অবস্থা। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা আরও জানান, মাঠের এই নর্দমা পানি থেকে বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে, সংশয় রয়েছে ডেঙ্গুর লার্ভা জন্ম নিয়েও। বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কথা থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন সেদিকে নজরও নেই। এছাড়াও বিদ্যালয়ের মাঠের জলাশয়টি ভরাট করার কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাম ভূঁইয়া জানান, বিদ্যালয়টি ১৯৮৪ সালে ৬০শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠা পেলেও বিদ্যালয়ের পাশে গোলাম মোস্তফা মিলন নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৫শতাংশ স্কুলের জায়গা জোরপূর্বকভাবে দখল করে রেখেছে। যার কারণে পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। আমি আগামী সপ্তাহে সভাপতির দায়িত্ব নেব। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি মাঠটি ভরাট করব। তবে ওই বিদ্যালয়ের ফান্ডে এক লক্ষ টাকাও নেই বর্তমানে। আমি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের আগে সরকারি কর্মকর্তা দিয়ে অডিট করে আয়- ব্যয়ের হিসাব চাইবো।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত একটি বড় জলাশয়। বিদ্যালয়ে ঢোকার কোনো মূল সড়ক নেই। বিদ্যালয়ের মূল ভবনের পাশে নির্মাণের ভারী কাজ চলছে। যেকোন সময় বড় দুর্ঘটনার আশংকায় থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের।

দেবিদ্বার উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আলী জিন্নাহ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নর্দমাযুক্ত জলাশয়টি মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষন করছে। আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে দ্রুত জলাশয়টি ভরাট করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি।