শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯


মাদ্রাসা ছাত্রীকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয় প্রেমিক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.09.2019


ফারুক আহাম্মেদ, ব্রাহ্মণপাড়া।।

কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নবম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে পেটে ছুরি মেরে নদীতে ফেলে দেয় তার প্রেমিক। দীর্ঘ ৬ মাস পর ওই লাশের শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় জড়িত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকারী ঘাতক জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট দায় স্বীকার করে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘর দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী কান্দুঘর গ্রামের মৃত আবদুল কাদেরের মেয়ে আয়শা আক্তারকে (১৫) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে গত ৩ আগস্ট তার মা সাজেদা খাতুন বাদী হয়ে কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কোর্ট ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলাটি প্রেরণ করেন। মামলায় মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর গ্রামের আলী আজগরের ছেলে সিএনজি অটোরিক্সা চালক মোঃ জাবেদকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, জাবেদ আয়শাকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করত। সে প্রায়ই কান্দুঘর তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করত। তিনি অভিযোগ করেন, জাবেদ তার মেয়েকে ফুসলিয়ে মুরাদনগর নিয়ে গণধর্ষণ করে লাশ ঘুম করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) সামসউদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস গত জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন থানায় উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত লাশের ছবি সংগ্রহ করে তদন্ত করতে থাকেন। গত ৪ মার্চ মুরাদনগর থানায় গোমতী নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে ওই ছবি মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখালে তারা এ ছবির মেয়েটি আয়শা আক্তার বলে শনাক্ত করে। মামলার সূত্র ধরে মুরাদনগর থানা পুলিশ হত্যা মামলার আসামি জাবেদকে ৪ আগস্ট গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করেছিল। জাবেদকে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাবাদ করার পর এক পর্যায়ে সে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে ২ সেপ্টেম্বর সোমবার জাবেদকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সামসুর রহমানের আদালতে হাজির করলে আদালতের নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী দেয় জাবেদ। জাবেদ জানায়, আয়শার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরই সূত্র ধরে আয়শার পরিবারে তার যাতায়াত ছিল। সে ওই পরিবারে প্রায়ই আর্থিক সহযোগিতা করত। এর মধ্যে আয়শার মা তার কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিল। সে টাকা সে ফিরিয়ে চাইলে তার সাথে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এক পর্যায়ে সে গত পহেলা মার্চ আয়শাকে ফুসলিয়ে মুরাদনগর নিয়ে যায়। সেখানে রাত ৮ টায় কুমিল্লা-সিলেট সড়কের কোম্পানীগঞ্জ ব্রিজের উপর টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার পেটে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে আয়শাকে ব্রিজ থেকে গোমতী নদীতে ফেলে দেয়।