শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯


চান্দিনার ৮টি সড়কে যান চলাচলের অনুপযোগী: জনদুর্ভোগ চরমে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.09.2019

মাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনা || এক দিকে সংস্কার অপর দিকে ভাঙ্গন এ ভাবেই চলছে চান্দিনার সড়ক উন্নয়ন কাজ। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সংস্কার করা সড়কগুলো।
২০২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ৩৩৬টি সড়ক রয়েছে। ওই সড়কগুলোর মধ্যে প্রধান সড়ক রয়েছে অন্তত ১২টি। যেসব সড়কে উপজেলার সাথে সরাসরি সংযোগ রয়েছে। আর ওই ১২টি সড়কের মধ্যে ৮টি সড়কেরই বেহাল দশা। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়কগুলো যেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে চান্দিনা উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার মাধাইয়া থেকে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর সড়কটি উপজেলার অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। যে সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক কাভার্ডভ্যান থেকে শুরু করে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি জুড়ে ভাঙ্গন বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২০ কিলোমিটার ওই সড়কটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। সড়কটি সংস্কারের এক বছর অতিক্রম হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পুন: সংস্কারের চিঠি দিলেও তারা সংস্কার না করায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জামানত টাকা ফেরত দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ওই জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত না হওয়ায় আইনি জটিলতায় সড়কটি সংস্কার কাজের টেন্ডার দিতে পারছে না বলে জানান চান্দিনা উপজেলা প্রকৌশলী মোল্লা আবুল কালাম আজাদ।
উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়ন থেকে মহাসড়কের নূরীতলা পর্যন্ত সংযোগ সড়কটির কবে সংস্কার করা হয়েছে তার কোন চিহ্ন নেই। সড়কের উপরের কার্পেটিং এর কোন অস্তিত্বও নেই। প্রায় ৭ বছর আগে সড়কটি পাকা করণের পর আর কোন সংস্কারের ছোয়া লাগেনি। সড়কটির ৫ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙ্গনে জন দুর্ভোগ চরমে।
রিক্সা চালক জানে আলম জানান, এই সড়কটি পাকা করণের পর আর কোন কাজ হয়নি। শুধু পিচ ঢালাই নয় অনেক স্থানে ইটের চিহ্নও নেই। দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে।
উপজেলার অন্যতম সড়কগুলোর মধ্যে অপর একটি হচ্ছে ইলিয়টগঞ্জ থেকে বরইয়াকৃষ্ণপুর সড়ক। প্রায় ১০ বছর আগে ওই সড়কটি নির্মাণ হওয়ার পর থেকে আর সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি।
চান্দিনা থানা সংলগ্ন কলেজ রোড হিসেবে পরিচিত চান্দিনা-বরুড়া সড়ক। দুই উপজেলার ওই সংযোগ সড়কটিতে রয়েছে স্কুল-কলেজ সহ অনেক প্রতিষ্ঠান। গল্লাই ইউনিয়নের কংগাই থেকে কালিয়ারচর, মাইজখার ইউনিয়নের ফাঐ থেকে রামমোহন বাজার সড়ক, মহিচাইল ইউনিয়নের পরচঙ্গা থেকে সুহিলপুর ইউনিয়নের বরইয়াকৃষ্ণপুর সড়ক, কাদুটি থেকে নবাবপুর সড়কগুলোও বেহাল দশা।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোল্লা আবুল কালাম আজাদ জানান, উপজেলার প্রধান কয়েকটি সড়ক ব্যতিত অধিকাংশ সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পুরো উপজেলার সবগুলো রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ হবে।
বছর ঘুরতে সড়কের বেহাল দশা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, মূলত সড়কের পাশের গাছ, মৎস্য চাষ এবং ট্রাক্টরযোগে মাটি সরবরাহ করার কারণেই সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।