মঙ্গল্বার ১৯ নভেম্বর ২০১৯


প্রতিমায় রং-তুলির খেলায় মৃৎশিল্পীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.09.2019

স্টাফ রিপোর্টার।। হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার শুভ মহালয়ায় চ-িপাঠের মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গাকে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্তলোকে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। শাস্ত্রমতে, এ বছর বিপদনাশিনী মা দুর্গা শান্তির বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন ঘোড়া চড়ে এবং গমন করবেন ঘোড়া চড়ে। আগামী ০৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূঁজো এবং ০৮ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়াদশমীর পর প্রতিমা বির্সজনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। শরতের কাশফুল আর নীল আকাশে শুভ্র মেঘ বলে দেয় বিপদনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। নর-নারী, তরুণ-তরুণীদের এমনকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও দেবীর আর্শিবাদ পাওয়ার আশায় প্রতিজ্ঞায় প্রহর গুন্ছে পুজার এই শুভ লগ্নে।
এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে প্রতিটি পূজা ম-পে প্রতিমায় মাটির প্রলেপ দেয়া শেষে রং করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। শেষ মুহূর্তে ম-পে কেউ কাদা মাটির তৈরিতে প্রতিমার শরীরে শৈল্পিক কারু কাজে ব্যস্ত, আবার কেউ রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমাকে মনের মাধুরী মিশিয়ে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করে তুলছেন মৃৎশিল্পীরা। মুন্সিগঞ্জ হতে আগত মৃৎশিল্পী রমেশ পাল বলেন, আমরা প্রায় দুই মাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছি। এখন প্রায় শেষের পর্যায়ে। ইতোমধ্যে প্রতিটি প্রতিমায় বাঁশ খড়খুটো দিয়ে তৈরি দেবীর অবয়বের ওপর মাটির প্রলেপ দেয়ার কাজ শেষ। এখন দিনরাত চলছে রঙের কাজ। তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৪০টি প্রতিমা তৈরির অর্ডার নিয়েছি। মানভেদে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪০-৫০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। এখন আমাদের ব্যস্ততার শেষ নেই, কারণ পূজার ষষ্ঠীদিনের মধ্যে অর্ডারের সব প্রতিমা দিয়ে দিতে হবে। মৃৎশিল্পী রমেশ পাল আরো বলেন, দিনরাত খেটে কাজ করলেও এখন আগের মতো তেমন লাভ নেই। কারণ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু সেই হিসেবে বাড়ছে না প্রতিমা তৈরির বাজেট। অনেকটা বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এটার সঙ্গে লেগে আছি।
অপরদিকে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন- শরতের কাশফুল আর নীল আকাশে শুভ্র মেঘ বলে দেয় বিপদনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। নর-নারী, তরুণ-তরুণীদের এমনকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও দেবীর আর্শিবাদ পাওয়ার আশায় প্রতিজ্ঞায় প্রহর গ্নুছে পূজার এই শুভ লগ্নে।