বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ধার বা কেনা প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া যাবে না:মাউশি পরিচালক


ধার বা কেনা প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া যাবে না:মাউশি পরিচালক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.09.2019

অধ্যাপক সোমেশ কর চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম কলিজিয়েট স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৪তম বিসিএস-এর (সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার) মাধ্যমে ফেনী জিয়া সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ, সন্দ¦ীপের হাজী এবি কলেজে শিক্ষকতা, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লার উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) ও বিদ্যালয় পরিদর্শক, বরিশালের চাখার ফজলুল হক কলেজে অধ্যাপনা, কুমিল্লা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং সর্বশেষ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর(মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১০ জুন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্ব পাওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে চার জেলার শিক্ষা বিস্তারে তিনি পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। কুমিল্লা অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হালচাল, আধুনিকায়ন, সীমাবদ্ধতা, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দৈনিক আমাদের কুমিল্লার সাথে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন স্টাফ রিপোর্টার তৈয়বুর রহমান সোহেল।
আমাদের কুমিল্লা: কুমিল্লা অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে নতুন কী কী কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন?
সোমেশ কর চৌধুরী: এখানে আসার পর টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে প্রি-ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের জন্য ফার্নিচারের ব্যবস্থা করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানে আইএলসি চালু আছে সেগুলোকে অ্যাপ্রিচিয়েশন লেটার দিচ্ছি। মন্ত্রণালয় ও মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক ভিজিট করছি। প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে। শিক্ষকদের মোটিভেশনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন তারা এসডিজি-৪ বাস্তবায়ন করেন। এছাড়া ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্ত কার্যক্রম নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
আমাদের কুমিল্লা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনোরূপ অসঙ্গতি, শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের অসদাচরণ কিংবা দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন?
সোমেশ কর চৌধুরী: আমাদের কার্যালয়ে অভিযোগ বাক্স চালু আছে। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলে উন্মুক্ত অভিযোগ দাখিল করতে পারেন। কার্যালয় সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ আসলে আমরা খুব কম সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিজিট করে থাকি। অসঙ্গতি পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে থাকি।
আমাদের কুমিল্লা: কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সেবার ব্যবস্থা চালু আছে?
সোমেশ কর চৌধুরী: কার্যালয়ে তিনটি তাৎক্ষণিক সেবা চালু আছে। কেউ আসলে আমরা আইএমএস ডাটা হালনাগাদ ও অ্যাসিট্যান্ট প্রোগ্রামার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে আইএলসি সার্ভিস দিচ্ছি।
আমাদের কুমিল্লা: কোন কোন বিষয়গুলো পরিবর্তনের জন্য জোর দেয়া হচ্ছে?
সোমেশ কর চৌধুরী: এ অঞ্চলের অধীনে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, তারা আইসিটির প্রতি মনযোগী ছিল না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইসিটির প্রতি মনযোগী করা হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
আমাদের কুমিল্লা: সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নে অসংখ্য শিক্ষক ততটা দক্ষ হয়ে ওঠেননি। বিষয়টি কীভাবে ভাবছেন?
সোমেশ কর চৌধুরী: ভীতি দূর করার জন্য বারবার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমরা একটি নির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে দিয়েছি যে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রশ্ন নিজেরা প্রণয়ন করবে। কোনোভাবেই অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ধার করা প্রশ্ন বা কেনা প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া যাবে না।
আমাদের কুমিল্লা: কুমিল্লায় কয়েক হাজার অভিভাবক আছেন যারা সন্তানদের সরকারি স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। অনেকে স্কুল বাদ দিয়ে সন্তানদের শুধুমাত্র কোচিং সেন্টারে পাঠাচ্ছেন। এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?
সোমেশ কর চৌধুরী: এটা খুবই দু:খজনক। ভর্তি কোচিংয়ে কয়েকটি বিষয় পড়ানো হয়, সবগুলো বিষয় পড়ানো হয় না। ফলে কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা সবগুলো বিষয় সমানভাবে শিখতে পারছে না। এতে করে ভারসাম্যও থাকছে না। তাই এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সকলকে ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। যেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একঘেঁয়ে স্বভাব কেটে যায়।