বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কুমিল্লায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে মামলা, স্বামী পলাতক


কুমিল্লায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে মামলা, স্বামী পলাতক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.09.2019

স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লায় যৌতুকের দাবিতে ফেরদৌসী আক্তার নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ১নং বিশেষ আদালতে ভিকটিমের বাবা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এদিকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ঘটনার পর থেকে ফেরদৌসীর স্বামী আনিছুর রহমান ও তার শ^শুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট জেলার চান্দিনা উপজেলার আওরাল গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের মেয়ে ফেরদৌসী আক্তারের (২২) সাথে একই উপজেলার বরকরই গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে আনিছুর রহমানের (৩৫) বিয়ে হয়। তাদের মেহেদী রহমান নামে ১৩ মাস বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে। এদিকে বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে ফেরদৌসী আক্তারের স্বামী ও পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এতে সে তার বাবার নিকট হতে ১ লাখ টাকা এনে দেয়। এর কয়েক মাস পর আনিছুর রহমান বিদেশ যাওয়ার কথা বলে আবারও টাকা এনে দেওয়ার জন্য ফেরদৌসীকে চাপ সৃষ্টি করলে সে তার বাবার নিকট হতে আড়াই লাখ টাকা এনে দিয়েছে। কিন্তু সে বিদেশ না গিয়ে নানাভাবে ওই টাকা খরচ করে। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এ নিয়ে সামাজিক দেন-দরবার হলেও ফেরদৌসী নির্যাতনের শিকার হতে থাকে। একপর্যায়ে গত কয়েকমাস ধরে আনিছুর রহমান স্ত্রী-সন্তানসহ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পূর্ব দূর্গাপুর গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। মামলায় বলা হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর আনিছ ব্যবসা করবে বলে আবারও ৩ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য ফেরদৌসীকে চাপ সৃষ্টি করে। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় ওইদিন গভীর রাতে আনিছ ও তার পরিবারের লোকজন ফেরদৌসীকে নির্যাতনপূর্বক হত্যা করে এবং তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। পরে পুলিশ ওই বাসা থেকে ফেরদৌসীর লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করে এবং এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। ঘটনার পর থেকে আনিছ পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার ফেরদৌসীর বাবা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ১নং বিশেষ আদালতে আনিছুর রহমানসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদীপক্ষের অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মমিন ও অ্যাডভোকেট ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কোতয়ালী থানার ওসিকে নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল হক জানান, আদালতের আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছেনি, পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।