বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কুমিল্লার যে গ্রামে সবাই শিক্ষিত- যাদের বিরুদ্ধে নেই কোন মামলা!


কুমিল্লার যে গ্রামে সবাই শিক্ষিত- যাদের বিরুদ্ধে নেই কোন মামলা!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
26.09.2019

মাহফুজ নান্টু। গোমতী নদীর পাড়ের গ্রাম। সূর্য্য উঠলেই গ্রামটির চারদিকে সবুজ গাছগাছালির পাশাপাশি নদীর চরে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের নয়ানাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। গ্রামের মূল সড়ক ধরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে নানান প্রজাতির গাছ,গুল্ম পানের বরজ,কামার কুমারদের ব্যস্ততা আর ফসলের মাঠের চোখ জুড়ানো সবুজ দৃশ্য। এ কথায় বাংলার পল্লীগ্রাম বলতে যা বুঝায় তার সবটাই যেন আছে গ্রামটিতে। সাজ সকালে গ্রামটির কামার কুমার-পোদ্দার,কৃষক সবাই সবাইর সাথে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শান্ত এ জনপদের মানুষ জানে নানান পেশা আর ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয়েও কিভাবে এক সাথে মিলেমিশে থাকা যায়। আর এ কারণেই এ গ্রামে কারো নামে থানায় যেমন মামলা নেই, তেমনি নেই কোন নিরক্ষর মানুষ।
বলছিলাম কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের মিথিলাপুর গ্রামের কথা। যত রকম বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকলে একটি জনপদ আদর্শ গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে মিথিলাপুর গ্রামটি সে রকমই। গত কয়েকদিন আগে গোমতী নদীর পাশের এ গ্রামটিতে ঘুরে দেখা যায়,মুসলমান,হিন্দু এবং হিন্দুদের মধ্যে কামার,কুমার,নাপিত,পোদ্দার বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর মানুষজনের বসবাস। তাদের মধ্যে নেই কোন ভেদাভেদ। সবাই সবার পরমাত্মীয়ের মত। নদীর খেয়া ঘাটের কাছে কাজের ব্যস্ততার মাঝে একটু ঝিরিয়ে নিচ্ছিলেন মামুন,সামছুন্দিন, দিপঙ্কর সাহা। গল্প করার সময় তারা জানান, বহু আগে থেকে এ গ্রামে সবাই মিলেমিশে বসবাস করে। এখানে কোন সমস্যা হলে মুরুব্বিরা আগ বাড়িয়ে এসে সমস্যা সমাধান করে দেন। তাই এখানে কেউ ঝগড়া বিবাদ করার সুযোগ পায় না। কেউ কারো বিরুদ্ধে কথা বলে না। ফলে থানায় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।
এ গ্রামের মেম্বার মো:আবুল কাশেম জানান, স্বাধীনতার আগে থেকেই এ গ্রামে শিক্ষা বিস্তারের প্রসার ঘটে। বুড়িচং উপজেলার সর্ব প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয় মিথিলাপুরে। সুজাত আলী মাষ্টার ১৯০৮ মিথিলাপুর গ্রামে প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। স্বাধীনতার পরপরই এ গ্রামের ৩০ জন প্রাথমিক শিক্ষক বিভিন্ন স্কুলে পাঠদান করাতেন।সূদুর অতীত থেকেই এ গ্রামে শিক্ষা বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে মিথিলাপুর গ্রামে কোন নিরক্ষর লোক নেই। যে কোন প্রয়োজনে সবাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে পারে। এ গ্রামে কেউ নেই যাকে টিপসই দিতে কাজ করতে হয়।
মেম্বার মো:আবুল কাশেম আরো জানান, মিথিলাপুরে ৭৭৩ জন ভোটার এবং সব মিলিয়ে আড়াই হাজার মানুষের বসবাস। বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর মানুষ এক সাথে বসবাস করলেও সবাই সবার পরম আত্মীয়ের মতই আছেন। গ্রামবাসীর মধ্যে কোন মারামারি-হানাহানি নেই। এছাড়াও যদি কোন সময় কারো সাথে কারো কোন বিষয় নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হয়,সেক্ষেত্রে গ্রামের মুরুব্বিরাই এগিয়ে এসে সমস্যার সমাধান করে দেন। তাই এ গ্রামটির কারো বিরুদ্ধে কেউ থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা করার প্রয়োজন হয় না।
মিথিলাপুর গ্রামে কারো বিরুদ্ধে কারো কোন মামলা নেই বিষয়টি স্বীকার করে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, চাকুরীর সুবাধে কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় দায়িত্ব পালন করেছি। তবে কুমিল্লার বুড়িচং থানার মিথিলাপুর গ্রামের মত ঝগড়া বিবাদ ছাড়া জনপদ খুবই কম পেয়েছি। সবাই মিলেমিশে থাকার কারণে এ গ্রামের কারো বিরুদ্ধে থানায় তেমন উল্লেখ করার মত অভিযোগ বা মামলা নেই। বিষয়টি নি:সন্দেহে উদাহারণ দেয়ার মত।