মঙ্গল্বার ১৯ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ৪ জিন উঠিয়েছে দেড়শ ফুট উপর বৈদ্যুতিক টাওয়ারে আযান শুনে নামিয়ে আনলো অপর ২ জিন # নাসির নামের যুবকের # ঘটনাস্থল হোমনা


৪ জিন উঠিয়েছে দেড়শ ফুট উপর বৈদ্যুতিক টাওয়ারে আযান শুনে নামিয়ে আনলো অপর ২ জিন # নাসির নামের যুবকের # ঘটনাস্থল হোমনা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.09.2019

হোমনা প্রতিনিধি।। গরুর মাংশ খাওয়ায় খারাপ ৪ জন খারাপ মহিলা জিন মেরে ফেলার জন্য দেড়শ ফুট উপর একটি বৈদ্যতিক টাওয়ারে নিয়ে যায়। উপরে উঠার পর নাসির (৩০) নামক ঐ যুবক নিচের দিকে চেয়ে চিৎকার করে জানালো আযান দেওয়ার জন্য। আযানের ধ্বনি শুনে পালাল খারাপ ৪ জিন। পরে ভাল ২ মহিলা জিন তাকে সুস্থ ভাবে নামিয়ে আনল নিচে। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া হাদির খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। নানা মুখে খবর শুনে যুবক নাসিরকে এক নজর দেখার জন্য আশে পাশের কয়েক গ্রামের মানুষ এসে ঘটনাস্থলে ভীর করে।

জানা যায়, নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে মো. নাসির । বেড়াতে এসেছিলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলায়। শুক্রবার বিকেলে মনের অজান্তেই চলে আসেন পার্শ্ববর্তী উপজেলা হোমনায়। এখানে এসে স্থানীয় হাদির খাল এলাকায় অবস্থিত জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের হাই বোল্টেজ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের দেড়শ ফুট টাওয়ারের একেবারে চূড়ায় উঠে যায়। চূড়ায় ওঠার কিছুক্ষণ পর ওপর থেকে একজনকে চিৎকার দিয়ে বলেন আযান দিতে। শাহ পরান নামে এক যুবক আজান দিলে নিজে নিজেই ওপর থেকে নিচে নেমে এসে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত সমিতি ৩ -এর ডিজিএম আক্তার হোসেন জানান, তখনও বিদ্যুত ছিল। খবর পেয়ে যোগাযোগ করি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের সঙ্গে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সুস্থ করা হয়। তাকে দেখতে হাসপাতালে এসেছেন হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপ্তি চাকমা। তার সুচিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তারদের।
চিকিৎসা দেওয়ার কিছুক্ষন পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে নাসির জানান, ‘আমার সাথে ছয়টি মহিলা জ্বীন থাকে চারটি আমাকে অনেক মারধর করে। এদের কথা না শুনলে ব্লেড দিয়ে আমার শরীর কেটে রক্ত খায়। আমাকে মেরে ফেলার জন্য কয়েকবার বিদ্যুতের টাওয়ারে তুলেছে। জ্বীনদের মধ্যে দুইটি ভাল। তারা আযান দিতে বললে আযানের ধ্বনি শুনলেই চার জন চলে যায়। দুই জন আমাকে নিরাপদে নামিয়ে দিয়ে যায়। ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আমি তিতাস উপজেলায় বেড়াতে এসেছিলাম। আমি গরুর মাংস খাওয়ার কারনে আমাকে মেরে ফেলার জন্য কারেন্টের টাওয়ারে উঠিয়েছে। পরে আযান দেওয়ার পর ভাল দুই জন আমাকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে। আমি সুস্থ আছি। এক সময় এরা আমার মায়ের সঙ্গে ছিল। আমার মাকে মেরে ফেলেছে। এর পর আমার ওপর সওয়ার হয়েছে।’
নাসিরের বাবা আবদুল হালিম ফোনে জানান, তার ওপর জ্বীনের আছর আছে। ছোটবেলা থেকেই সে এ রোগে ভুগছে। জ্বীন চলে গেলে সে নিজে নিজেই চলে আসতে পারবে।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত আবাসিক ডাক্তার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ছেলেটির মানসিক সমস্যা থাকতে পারে। একজন সুস্থ মানুষ কখনই বৈদ্যুতিক টাওয়ারের চূড়ায় ওঠবে না।