রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে জেলার ৭৮২টি ম-পে দুর্গোৎসব আজ থেকে শুরু


বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে জেলার ৭৮২টি ম-পে দুর্গোৎসব আজ থেকে শুরু


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.10.2019

স্টাফ রিপোর্টার।। “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”-এ শ্লোগানটি সামনে রেখে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ও প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ ৪ঠা অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে আর ৮ই অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর পর প্রতিমা বির্সজনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।
জানা যায়- এ বছর জেলার ১৭ উপজেলায় ৭৮২টি পূজাম-পে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ৫৯টি পূজাম-পসহ আদর্শ সদর উপজেলায় ৮৫টি, সদর দক্ষিণ উপজেলায় ৩০টি, লালমাই উপজেলায় ১৭টি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ২৪টি, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ০৮টি, লাকসাম উপজেলায় ৩৪টি, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ১২টি, বরুড়া উপজেলায় ৮৬টি, চান্দিনা উপজেলায় ৭৪টি, দাউদকান্দি উপজেলায় ৫৫টি, মেঘনা উপজেলায় ০৬টি, তিতাস উপজেলায় ১৫টি, হোমনা উপজেলায় ৪৭টি, মুরাদনগর উপজেলায় ১৪২টি, দেবিদ্বার উপজেলায় ৯১টি, বুড়িচং উপজেলায় ৪১টি ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ১৫টি। গত বছরের তুলায় এ বছর বেড়েছে ২৫টি পূজাম-প।
এদিকে, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সর্ম্পক গড়ে তুলতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। শারদীয় দুর্গোৎসবকে সার্বজনীন উৎসবে রূপ দিতে সকল প্রকার অশুভ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান জেলা প্রশাসক।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোঃ সৈয়দ নূরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম জানান- শারদীয় দুর্গোৎসবকে সার্বজনীন উৎসবে রূপ দিতে এবং যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে জেলার ষোল উপজেলায় নেয়া হয়েছে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ ছাড়াও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজাম-পগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ নেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারী।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ট্রাস্টি নির্মল পাল বলেন, জেলার ষোল উপজেলায় ৭৮২টি পূজাম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। অশুভ বা অসুর শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন। উচু-নীচু বিভেদ ভুলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একত্রিত করে মহাসম্মেলন ঘটানো হয় বলে এ পূজাকে বলা হয় সার্বজনীন দুর্গাপূজা।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টাণ ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাবেক প্রচার সম্পাদক এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন- সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ ৪ঠা অক্টোবর শুক্রবার ভোর বেলা থেকে পুরোহিতের মন্ত্রে উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে আর ৮ই অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর পর প্রতিমা বির্সজনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। তিনি বলেন, চারদিন মহাসমারোহে পূজা শেষে পঞ্চম দিনে হয় দশমী। আর দশমী দিন প্রতিমা বিসর্জন শেষে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন পরষ্পর পরষ্পরের সাথে প্রণাম, নমস্কার, শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করে থাকে। এদিনটি সৌহার্দ স্থাপনের দিন। সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের মঙ্গল কামনা করে থাকে।
অপরদিকে, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দড়িকান্দি স্বর্গীয় প্রকাশ চন্দ্র দাশের বাড়ীতে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সার্বজনীন উৎসবে রূপদিতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন দড়িকান্দি দুর্গাপূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুবাস মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মিহিলাল দাশ (নিখিল) ও আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার।