বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস সফল শিক্ষক ড. এমদাদের যা বললেন


আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস সফল শিক্ষক ড. এমদাদের যা বললেন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.10.2019

শাহাজাদা এমরান।। ছোট কাল থেকেই মেধাবী ছিলেন তিনি। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পাস করে যখন উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হলেন তখনি তার প্রতি আরো বিশেষ নজর দিলেন বাবা মা। মেধাবী ছেলে।আর একটু যতœ নিলেই বড় চিকিৎসক হয়ে যাবে। তাই পরিবারের দাবী উঠল অন্য ছেলে মেয়েরা যেহেতু শিক্ষক,ব্যাংকারসহ নানা পেশায় আত্ম নিয়োগ করতে যাচ্ছে সে একমাত্র সদস্য হিসেবে ডাক্তার হোক। কিন্তু না।সেই বাচ্চা বয়স থেকেই যিনি মানুষ গড়ার কারিগড় হিসেবে শিক্ষকতা পেশাকে সম্মান করে আসছেন তিনি কি ভাবে অন্য পেশায় যাবেন। তিনি বিনয়ের সাথে বাবা-মাসহ পরিবারের অপরাপর সদস্যদের বুঝাতে সক্ষম হলেন,আমাদের মত মেধাবীরা যদি শিক্ষক হতে না পারি তাহলে দেশে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে উঠবে কিভাবে। তাই প্রচন্ড মেধাবী আর অপার সম্ভাবনা থাকা সত্তেও অন্য পেশায় না গিয়ে চলে এলেন শিক্ষকতায়। আর শিক্ষকতা পেশাও তাকে তাঁর প্রতিদান দিতে বিমুখ করেননি। তিনি ইতিমধ্যে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ১৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লার মত বিশাল জেলায় পর পর দুইবার শ্রেষ্ট জেলা কলেজ শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আর এবার অর্থ্ৎ ২০১৯ সালে তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রেষ্ট উপজেলা কলেজ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কার পেলেন। এর আগে তিনি যখন ফেনী জিয়া সরকারী ফেনী কলেজের শিক্ষক ছিলেন সেখানেও তিনি ২০১৬ সালে শ্রেষ্ট ফেনী জেলা কলেজ শ্রেণী শিক্ষক হয়েছিলেন। তার অভিনব শিক্ষা পদ্ধতির কারণে তার নেতৃত্বে পরিচালিত কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজও দুই বার জেলর শ্রেষ্ট কলেজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।বলেছিলাম কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ড.এ কে এম এমদাদুল হকের কথা। যিনি পাঠদান পদ্ধতি বদলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিক থেকে জেলার গন্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর কাছেও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজকে অনুকরনীয় ও অনুসরনীয় স্থানে নিয়ে গেছেন।
ড. এ কে এম এমদাদুল হক। ১৯৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডা ইউনিয়নের আমানগন্ডা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মো. আবদুস সামাদ আর মাতা সিরাজুননেছা।পিতা মাতার ৬ ছেলে আর ১ মেয়ের মধ্যে তার অবস্থান ৬ষ্ট। ব্যবসায়ী পিতা ব্যবসায়িক কারণে সন্তানদের পড়াশুনার তেমন সময় দিতে না পারলেও নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ কে বিসর্জন দিয়ে ৭ সন্তানের সবাইকে অনার্স মাষ্টার্স সম্পন্ন করিয়েছেন মা সিরাজুননেছা। তাই বিভিন্ন সংগঠন মা সিরাজুননেছাকে রত্মাগর্বা মা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
ড. এ কে এম এমদাদুল হক চৌদ্দগ্রাম জে এইচ পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি,কুমিল্লা সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্সসহ মাষ্টার্স করেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এম ফিল ডিগ্রিও অর্জন করেন।পলিটিক্যাল কালচারাল ইন বাংলাদেশ বিষয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন অত্যান্ত কৃতিত্বের সাথে। ২০০৬ সালে বিসিএস সাধারণ ক্যাডারে রাষ্ট্রপতির টেন পার্সেন্ট কোটায় তিনি সরাসরি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। একই সাথে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের উপর তার ৫টি বই দেশের অনার্স মাষ্টার্স লেভেলে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীতে অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রাজনীতি বিজ্ঞানের সূচনা, সামাজিক গবেষণা পদ্ধতি ও পরিসংখ্যান, রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি, রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন প্রভৃতি ।
ড. এ কে এম এমদাদুল হক ১৯৯৭ সালে ঢাকা লালমাটিয়া মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদানে মধ্যে দিয়ে শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন। এরপর পাবনা সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ,কুমিল্লা সরকারী কলেজসহ বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন।তিনি ফেনী সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ,কুমিল্লা ফেনী সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, এবং কুমিল্লা উচ্চ মাধ্যমিক টিচার্স ট্রেনিং কেন্দ্রে নিয়মিত প্রশিক্ষক ও রিসোর্স পার্সন হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সরকারী মডেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় ইতিমধ্যে কলেজটি সরকারীকরণ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। খুব সহসাই সরকারী কলেজ হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ড.একেএম এমদাদুল হক কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব লাভ করার পরই তথ্য প্রযুক্তিসহ নানা দিক দিয়ে কলেজটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বিশেষ করে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্ণিমানের পলিসিরি সাথে সংযোগ করে প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এর আমুল পরিবর্তন আনেন। যা অনেক নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য অনুকরনীয় এবং অনুসরনীয় হয়ে আছে।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ কে এম এমদাদুল হক এর বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রম যেমন- শৃ্খংলা,শিক্ষার্থীদের প্রায় শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্ষুধে বার্তা প্রেরণ ও ডেইলি কল সিস্টেম চালু, অন লাইনে প্রশ্ন গ্রহণ,মডারেশন,কোডিং সিস্টেম,গাইডিং কার্যক্রম, বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের ব্লাড গ্রুপিং,চক্ষু পরীক্ষা, প্রতি শনিবার প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, ক্লাস ক্যাপ্টেন ও শ্রেণি শিক্ষক কার্যক্রমকে এ্যাকটিভ ও আকর্ষনীয় করা, সাপ্তাহিক সভা করে বিগত ৭ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা, ভর্তি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন,মনিটরিং সিস্টেম গতিশীলকরণ, গোটা ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন রাখা ও সবুজায়ন করাসহ নিত্যনতুন উদ্যোগ ও কার্যক্রম গ্রহণের ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনাগত উৎকর্ষ সাধনে ব্যাপক সাফল্য এসেছে যা শিক্ষা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রোল মডেল। আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এখানে ভর্তির চাপ অনেক বেশী। এখন অভিভাবকদের আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ। আর এ অবস্থা সৃষ্টির পেছনে যিনি নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন তিনি হচ্ছেন কুমিল্লা জেলার পর পর দু’বার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. এ কে এম এমদাদুল হক।
কিভাবে শিক্ষকতা পেশায় এলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ৭ ভাই ও ১ বোনের বিশাল পরিবার আমাদের। ব্যবসায়ী বাবার পক্ষে এত গুলো ভাইবোনকে উচ্চ শিক্ষিত করা এক কঠিন বিষয় হলেও আমার মায়ের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও প্রচেষ্টায় আমরা সব ভাইবোন অনার্সসহ মাষ্টার্স সম্পন্ন করি এমনকি আমাদের ভাইদের সকল স্ত্রীরাও মাস্টার্স সম্পন্নধারী। আমার অনান্য ভাইয়েরা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, ব্যাংকারও আছেন।পরিবারের ছোট ছেলে হিসেবে সবাই চাইতো আমি যেন ডাক্তার হই। কারণ এই পেশাতে আমরা কেউ নেই। অল্প বয়স থেকেই আমি পত্রপত্রিকা পড়তাম।দেশ এবং দশের খবর রাখার এবং জানার একটা প্রবল আগ্রহ ছিল আমার। তাই আমার মধ্যে একটি বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করল,সবাই আমাকে মেধাবী বলে।তাহলে মেধাবী হলেই কি ডাক্তার হতে হবে।মেধাবীরা কেন শিক্ষক হবে না। মেধাবীরা যদি শিক্ষক হয় তাহলেতো জাতি আগামী প্রজন্ম মেধাবী সন্তান পাবে। এ ছাড়া শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড-এই ভাবসম্প্রসারণটিও আমাকে প্রবল ভাবে প্রভাবিত করেছে। এর পর কলেজে গিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম না,জীবনে চাকুরী করেই যদি ভাত খেতে হয় তবে কেন মানুষ গড়ার চাকুরী করব না। তাই বন্ধু বান্ধব,পরিবার পরিজনকে ক্ষনিক সময়ের জন্য বিমুখ করে আমি ডাক্তারি পড়িনি। যখন আমি পরপর ২ বার জেলা শ্রেষ্ট শিক্ষক এবং এবার উপজেলার শ্রেষ্ট শিক্ষক হলাম এখন কিন্তু তারা আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করে এবং আমার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল তা বলতে দ্বিধা করে না।
তিনি আরো বলেন,দেখুন,শিক্ষকতা এক মহান পেশা। আমি মনে করি এটি একটি শ্রেষ্ঠ পেশাও বটে। তবে এ পেশায় টিকে থাকতে হলে পড়াশোনা করতে হয়। আমি প্রচুর পড়াশোনা করেছি। এখনও করছি।মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পড়াশোনা করে যাব এবং জ্ঞান বিতরন করে যাব। পড়া ও পড়ানো আমার নেশা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান প্রধান হলেও আমি সময় পেলেই ক্লাসে চলে যাই। শ্রেণি কক্ষ আমার সবচে আনন্দের জায়গা।এই জায়গাটি আমি আমৃত্যু ধরে রাখতে চাই।
অনেকে বলে থাকেন প্রযুক্তিগত দিক থেকে আপনি জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে অনন্য-এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড.এমদাদুল হক বলেন,অনন্য কিনা জানি না। তবে আমি মনে করি,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্ণিমান করতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালাইজড করার কোন বিকল্প নেই। কারণ,এই শিক্ষার্থীরাই তো নেতৃত্ব দিবে আগামীর সফল বাংলাদেশকে। ফলে আমি এ কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডকে গতিশীল ও তথ্য-প্রযুক্তি বান্ধব করার লক্ষ্যে কলেজের শ্রেণিকক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামরা স্থাপন করি। স্থাপন করি অত্যাধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, সমৃদ্ধ রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সফ্টওয়্যার সিস্টেম, ডাইনামিক ওয়েবসাইট, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিঙ্গার ডিভাইজ ভিত্তিক বায়োমেট্রিক হাজিরা ও অনলাইন কলেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।তাছাড়া শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস গ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তুলেছি। ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি বিষয়ক ইনহাউজ শিক্ষক প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছি , সকল শ্রেণি কক্ষে কেন্দ্রিয় ভাবে নিয়ন্ত্রিত সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করেছি।এ সব কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পরিপূর্ণ ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছি।তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সম্মানিত অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেছি। ফলে বদলে গেছে কলেজের সামগ্রিক চিত্র। ইতোমধ্যে কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হয়েছে।একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ড হয়েছে বেগবান ।এর সুফল পাচ্ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকগণ।এ জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছি। এ কলেজটি ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে পর পর দু’বার কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। আমিও ২০১৭ ও ২০১৮ সালে পর পর দু’বার কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছি। এ বছরও আমি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছি।আমি ২০১৬ সালে যখন ফেনী সরকারি জিয়া মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করেছিলাম তখনও ফেনী জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলাম।আসলে কাজ করলে কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়নও পাওয়া যায়,এ সব স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।
আমার ভবিষ্যত লক্ষ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার লক্ষ হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ করা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানব সম্পদে পরিণত করা। নৈতিক মূল্যবোধ, মানবতাবোধ, দেশাত্মবোধ এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা। আর এ লক্ষে আমি নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা হচ্ছে আমি এ কলেজটিকে একটি পরিপূর্ণ মান সম্মত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করব। এ প্রতিষ্ঠানটিকে আমরা গ্রিণ এন্ড ক্লিন ক্যাম্পাসে পরিণত করেছি।এ প্রতিষ্ঠানের সুন্দর পরিবেশ,শৃংখলা ও নিয়মানুবর্তিতা এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক,কর্মচারী, অভিভাবক এবং রাজনৈতিক নেতৃবর্গের আন্তরিক সহযোগিতা কলেজেটি ইতিমধ্যে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা খুব ভাল করে জানি,বাংলাদেশের মত একটি দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে বিবেকবান, দায়িত্বশীল,সুশিক্ষিত ও সচেতন করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নাই। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি,কারিগরি জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং সামাজিক রূপান্তরের জন্য মূল চালিকা শক্তি মানব সম্পদ উন্নয়ন যা শুধু মাত্র গুণগতশিক্ষার মাধ্যমেই অর্জন সম্ভব। আমরা সে গুণগত শিক্ষাটিই দিতে চাই, যে শিক্ষায় একজন শিক্ষার্থী হবে সৃজনশীল, মানবিক এবং দায়িত্বশীল।
শিক্ষক হিসেবে ইতিমধ্যে আপনি ২২ বছর অতিক্রম করতে যাচ্ছেন ।একজন শিক্ষকের জন্য প্রায় সিকি শতাব্ধি খুব বেশী না হলেও একেবারে কমও নয়। এই পর্যায়ে এসে আগামী শিক্ষকতা পেশাটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি শিক্ষকতা পেশাটিকে এমন একটি অবস্থায় দেখতে চাই,এখন যেমন আমাদের মেধাবীরা ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ম্যাজিষ্ট্রেট,ডিসি,সচিব হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করে ঠিক তেমনি আমাদের আগামীর মেধাবী সন্তানরা শিক্ষক হওয়ার জন্যও একই প্রতিদ্বন্ধিতা করবে। প্রতিটি পরিবারেই হোক প্রথমিক,মাধ্যমিক কিংবা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন পর্যায়েরই একজন না একজন শিক্ষক থাকবে। দেশে যত মেধাবী শিক্ষক আসবে তত বেশী মেধাবী নেতৃত্ব তৈরী হবে। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া।