মঙ্গল্বার ১৯ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » জেলা উপজেলার খবর » চৌদ্দগ্রামে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে আটক ক্যাসিনো স¤্রাট পুকুরে বড়শিতে মাছ ধরতেন-প্রস্তুতি ছিলো ভারত চলে যাওয়ার


চৌদ্দগ্রামে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে আটক ক্যাসিনো স¤্রাট পুকুরে বড়শিতে মাছ ধরতেন-প্রস্তুতি ছিলো ভারত চলে যাওয়ার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.10.2019

মাসুদ আলম/আবুল বাশার রানা।। ক্যাসিনোকা-ে আটক ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জামায়াতের নেতার বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। ওই জামায়াত নেতা মনির চৌধুরী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়ির মৃত সোনা মিয়ার চৌধুরীর ছেলে। বাড়ির ভবনের দোতলা থেকে র‌্যাব সদস্যরা স¤্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করে। আটকের সময় মনির চৌধুরী ও তার শ্যালক ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের মেয়র হাজি আলাউদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। চৌদ্দগ্রামে যে এলাকা থেকে স¤্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামটি সীমান্ত থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি।

স্থানীরা জানান, শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাবের কয়েকটি গাড়ি মনির চৌধুরীর বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে আরও কিছু গাড়ির অংশগ্রহণসহ প্রায় অর্ধশতাধিক কালো পোশাকদারী র‌্যাব সদস্য বাড়িটি ঘিরে ফেলে। রাত ১১টার দিকে মনির চৌধুরীর দোতলার বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ক্যাসিনো স¤্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে বের করে নিয়ে আসেন। পরে রাত সোয়া ১টার দিকে তাদের নিয়ে ওই বাড়ি ত্যাগ করে র‌্যাবের গাড়ি।
মনির চৌধুরীর ভাতিজি সামিয়া জান্নাত চৌধুরী জানান, মনির চৌধুরী বাড়িতে থাকেন না। তিনি ফেনীতে থাকেন। তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে শুধু মানুসিকভাবে অসুস্থ মা থাকেন। মাকে দেখার জন্য বিবাহিত বোন স্বামীসহ থাকেন।
মনির চৌধুরীর ভাতিজি সামিয়া জান্নাত চৌধুরী আরও জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা টেলিভিশন দেখছেন। হঠাৎ কয়েক গাড়ি র‌্যাবের তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর আরও কয়েক গাড়ি র‌্যাব এসে পুরো বাড়িতে অবস্থান নিয়ে ঘিরে ফেলে। কয়েকজন র‌্যাব সদস্য তাদের ঘরে প্রবেশ করে খোঁজ খবর নেয়। কিছু সময় পর র‌্যাব সমস্যরা স¤্রাট এবং তার সহযোগী আরমানকে ভবনের দোতলা থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।
গ্রামের বাসিন্দা সাদেক হোসেন এবং মফিজুর রহমান বলেন, চৌধুরী বাড়িতে কোন পরিবার থাকে না। সবাই পরিবার নিয়ে শহরে থাকেন। মনির চৌধুরীর দুইটি ঘর। একটি মনির চৌধুরী বাড়িতে আসলে থাকেন। অন্যটিতে তার মা আর বোন স্বামী নিয়ে থাকেন। এই বাড়িতে এলাকার মানুষে চলাচল কম। তবে গত কয়েকদিন থেকে আশপাশ দিয়ে যাওয়া আসার সময় দুইজন ব্যক্তিকে দেখা যেত। পুকুরে বরশি দিয়ে মাছ ধরতেন। ১০ থেকে ১১দিন হবে তাদেরকে দেখা যেতে। রাতে র‌্যাব সদস্যরা এসে চৌধুরী বাড়ির র‌্যাব ঘেরাও করেছে। পরবর্তীতে সকালে বিভিন্ন গণমাধ্যকে দেখতে পাই মনির চৌধুরীর ঘর থেকে দেশের সমালোচিত ব্যক্তি স¤্রাট ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে।
আবদুল কুদ্দুস নামে স্থানীয় আরও এক বাসিন্দা জানান, মনির চৌধুরী ছাত্র শিবিরের নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত হন। তিনি ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের মেয়র হাজী আলাউদ্দিনের বোনকে বিয়ে করে। আলাউদ্দিন স্টার লাইন বাসের মালিকদের একজন। ফেনীতে থেকে ব্যবসা বাণিজ্য করেন।
আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল বলেন, মুনির চৌধুরী ফেনীর মেয়র ও স্টার লাইন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী আলাউদ্দিনের ভগ্নিপতি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, স্টারলাইন গ্রুপের ব্যবস্থাপক ও ফেনীর মেয়র আলাউদ্দিনের সাথে ইসমাইল হোসেন স¤্রাটের সুসম্পর্ক ছিল। সাস্প্রতিক সময়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে স্টারলাইন পরিবাহনের কাউন্টার নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে স¤্রাটের সহযোগিতা নিয়ে আলাউদ্দিন সমস্যাগুলো সমাধান করে।
এ বিষয়ে মেয়র আলাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন-স¤্রাটের বাড়ি ফেনী। আমিও ফেনীর মেয়র। সেই হিসেবে তার সাথে আমার পরিচয় রয়েছে। হাজী মনির সম্পর্কে আলাউদ্দিন বলেন, তিনি আমার ভগ্নিপতি। স¤্রাট তার হাজী মনিরের দূর সম্পর্কের আত্মীয় হয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, শুনেছি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাটকে জেলার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।

র‌্যাব-১১ কুমিল্লা কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার প্রণব কুমার বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে র‌্যাবের ১২ থেকে ১৪টি গাড়ি কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের আশপাশে অবস্থান নেয়। র‌্যাব বিভিন্ন সড়কের মধ্যে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।