বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » নানা অভিযোগ নিয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে হান্নানের বিদায়


নানা অভিযোগ নিয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে হান্নানের বিদায়


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.10.2019

স্টাফ রিপোর্টার: ভিক্টোরিয়া কলেজের আলোচিত হিসাব রক্ষক মোহাম্মদ আবদুল হান্নানকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ ওয়েব সাইটে প্রকাশ হয়। যার মধ্যে উল্লেখ, করা হয় জনস্বার্থে বদলির আদেশ জারী করা হলো, বদলিকৃত কর্মচারীকে ১২ অক্টোবর অপরাহেৃ বিমুক্ত হবেন। তার বদলিকৃত কর্মস্থল ফরিদপুর জেলার সদর পুর সরকারি কলেজ। তার বিরুদ্ধে অর্থকেলেঙ্কারি ও সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার সাহাকে দুর্নীতিতে সহযোগীতার অভিযোগ করেছেন তার সহকর্মীরা।
সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ৩০ আগষ্ট তিনি স্ব-বেতনে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি ২০১২ সালে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে বদলি হয়ে আসেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, দুর্নীতির অভিযোগে তাকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বদলি করা হয়েছিলো। কিন্তু এখানে এসেও টাকা নয়-ছয় করেছে। একাধিক বার একাডেমিক কাউন্সিলে সতর্ক করার পরও স্বভাব পরিবর্তন হয়নি।
কলেজের একজন বিভাগীয় প্রধান জানান, রতন বাবুর দুর্নীতির প্রধান সহকারী আ. হান্নান। তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। শুধু সে নয় শিক্ষকদের মধ্যেও কয়েকজন অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে রয়েছেন।

কর্মচারি কল্যাণ পরিষদের একজন নেতা বলেন, নিজের স্বার্থে তিনি সংগঠনের জন্ম দেন। তাদের আঁধারে কমিটির নাম নির্ধারণ করেন। রতন স্যারের সময় সর্বাধিক টাকা লুট হয়েছে কর্মচারী কল্যাণ ব্যাংক একাউন্ট থেকে। ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্মচারিদের পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী একটি সংগঠন থাকার পরও তিনি গত ২৫ সেপ্টেম্বর ১৪ জন কর্মচারি আলাদা করে পৃথক আরেকটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করেন।
বিশেষ সূত্রমতে, বদলির বিষয়টি আ. হান্নান বুধবার বিকাল ৪টার পর অবগত হন। সন্ধ্যার পর কর্মচারি কল্যাণ পরিষদের একাংশের সাথে কান্দিরপাড় মিলিত হন এবং গোপন বৈঠক করেন।
বদলি প্রতিক্রিয়ায় আ. হান্নান বলেন, ভিক্টোরিয়া কলেজের জন্য অনেক কষ্ট করেছি। কর্মচারিদের জন্য অনেক কষ্ট করেছি। রতন সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তিনি যাওয়ার পর তিন বার তদন্ত হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে এক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ কলেজে বঙ্গবন্ধুর নামে আমি প্রথম স্লোগান দিয়েছি। উপকার করলে বিপরীত ফল ভোগ করতে হয়। আমি তার উদাহরণ। আমার বদলিতে কলেজের অনেকে খুশি হয়েছে, সেটা আমি জানি। আমার মনে কোন দুঃখ নাই, রিজিকের মালিক আল্লাহ।

কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আবু জাফর খান জানান, আ. হান্নান রাতে কল দিয়ে উচ্চমাধ্যমিক শাখায় আমাকে নিয়েছে। সেখানে প্রায় ৩০ জনের মত কর্মচারি উপস্থিত দেখেছি। তিনি আমাকে বদলি ঠেকানোর জন্য উচ্চমহলে সুপারিশ করার অনুরোধ করেন। বলেছি এটি আমার পক্ষে অসম্ভব। অধ্যক্ষ মহোদয় এখনো ঢাকায় আছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১১ জুন দুর্নীতির অভিযোগসহ ওএসডি হন সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার সাহা। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অধ্যক্ষ বিদায়ের পর হিসাব রক্ষক, প্রধান সহকারি, শিক্ষক পরিষদ, বিভাগীয় প্রধান ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান কমিটির সদস্যদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ।