বুধবার ১৩ নভেম্বর ২০১৯


কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল রক্ষার দাবি এমপি সীমার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.10.2019

কুমিল্লা প্রতিনিধি।।  কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত আসনের এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা এমপি। শনিবার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খানের নগরীর ঠাকুরপাড়ার বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে এমপি সীমা বলেন, তার পিতা অধ্যক্ষ আফজল খান পরিশ্রমের টাকা দিয়ে কুমিল্লায় ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই স্কুলটি বোর্ডের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ছিলো। ২০১৬ সালে একটি মহল স্কুলটি দখলে নেয়। এরপর থেকে এর ফলাফল খারাপ হচ্ছে। বিভিন্ন নামে শিক্ষার্থীদের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কষ্টে গড়া প্রতিষ্ঠানটি দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে এমপি সীমা আরও বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রামে বিভিন্ন সময় আমার পিতা অধ্যক্ষ আফজল খান বহু নির্যাতন ও জেল জুলুম সহ্য করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকা- চালিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতা করেন। এর মধ্যে কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুল অন্যতম। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠাতার পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই স্কুলটি বোর্ডের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ছিলো। কিন্তু বর্তমানে ফলাফল বিপর্যয়সহ স্কুলটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ছিল ৪৮০। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আফজল খানকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া পর বর্তমান কমিটির সময়ে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমে হয়েছে ৩৬৫, ২০১৯ সালে ৩৬৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও অকৃতকার্য হয়েছে ২১ জন শিক্ষার্থী। মডার্ণ হাই স্কুল জীবনে যা বিরল ঘটনা।
এছাড়াও তিনি বলেন, আফজল খানের সময়ে বিদ্যালয়ের মনোগ্রাম, ব্যাচ, সোল্ডারের দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং প্রতিটি স্যুয়েটারের দাম ছিল ২০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে মনোগ্রাম, ব্যাচ, সোল্ডারের দাম ছিল ৭৫ টাকা এবং প্রতিটি স্যুয়েটারের দাম ছিল ৫৫০ টাকা। যার বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। এই টাকা অতিরিক্ত টাকা শিক্ষক রাসেদ উদ্দিন মজুমদার, নেওয়াজ খান ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম আত্মসাৎ করেন।
শ্রেণি শিক্ষকগণ মাসিক পরীক্ষার নামে ২০০ টাকা করে ফি বাবদ ১১/১২ লক্ষ টাকা আদায় করছে। ৪/৫ লক্ষ টাকা খরচ দেখিয়ে অবশিষ্ট টাকা শিক্ষক মফিজুর রহমান নিজামী, আবদুল কাদের, রোকেয়া বেগম ও উত্তম চন্দ্র ভৌমিক আত্মসাৎ করে। স্কুলের বিরুদ্ধে মামলার নামে প্রতি শিক্ষক থেকে ১৫ হাজার টাকা করে ১৮ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা রাসেল উদ্দিন মজুমদার, জীবন চন্দ্র দেবনাথ, জয়ন্ত দেবনাথ, প্রবীর রঞ্জন দে, রোকসানা আক্তার, নাজমা বেগম প্রমুখ শিক্ষকগণ ভাগ বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করে।
সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নামে ১০/১২ জন সিনিয়র শিক্ষক থাকা সত্বেও ২জনের ৫ লক্ষ টাকা মোট ১০ লক্ষ টাকা বিনিময়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করে। আফজল খান কমিটি কখনও কোন টাকার বিনিময়ে কোন শিক্ষক বা কর্মচারী নিয়োগ দেয়নি।
২০১৭ সালে কুসিক নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করার অজুহাতে এবং বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিনা নোটিশে ১৯ জন শিক্ষক, কর্মচারী বাইর করে জনপ্রতি ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে নতুন করে ২৯ জন শিক্ষক,কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে মোট ৮৭ লক্ষ টাকা নিয়োগ বাণিজ্য করে। বর্তমান কমিটির সদস্যগণ ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম, জাহাংগীর আলম টিপু, মনিরুল ইসলাম হায়দার পরস্পর যোগসাজসে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করে।
স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে জরিমান আদায় করা হয়। গড়ে প্রতিদিন প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা আদায় হয়। প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা এই টাকা আদায় করা হয়। যা বর্তমান কমিটির সহকারী প্রধান শিক্ষক জীবন চন্দ্র দেবনাথ, রোকেয়া বেগম আত্মসাৎ করছে।
লিখিত বক্তব্যে এমপি সীমা আরও জানান, অর্ধ-বার্ষিক, বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ৩০০ টাকা করে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর নিকট থেকে মোট ১৮ লক্ষ টাকা পরীক্ষার্থী ফি বাবদ আদায় হয়। নাম মাত্র ২/৩ লক্ষ টাকা শিক্ষকদের মধ্যে বন্টন হয়।
আফজল খান কমিটির সময়ে দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদেরকে ক্যান্টিনের দায়িত্ব দেওয়া হতো।কিন্তু বর্তমানে কমিটির সভাপতির ভগ্নিপতিকে বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি নি¤œমানের খাবার সরবরাহ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
পূর্বে বিদ্যালয়টি একটি নিয়ম শৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয়ের ফলে গত ৩ বছরে তিনজন ছাত্র প্রাণ হারায়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ধূমপানে আসক্ত হয়ে ইভটিজিং এর মতো বিভিন্ন খারাপ ও অনৈতিক কাজে কোমলমতি ছাত্ররা জড়িয়ে পড়ছে। এই বিদ্যালয়টির শৃঙ্খলার ভগ্নদশা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যা কল্পনার বাইরে।
তিনি আরও জানান, আমার পিতা অধ্যক্ষ আফজল খান অ্যাডভোকেট এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সাল থেকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গঠিত কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ক্যটাগরি থেকে তার নাম এবং দাতার ক্যাটাগরি থেকে আমার ছোট ভাই মাসুদ পারভেজ খাঁন ইমরানকে (যিনি এফবিসিসিআই এর পরিচালক এবং সরকার কর্তৃক স্বীকৃত সিআইপি) বাদ দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলে হাইকোর্ট উভয়কে স্ব-স্ব ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভূক্ত করে কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ আফজল খান, স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক নার্গিস আফজল, এফবিসিআইএর পরিচালক মাসুদ পারভেজ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।