বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯


রিফাতের ছবি নিয়ে কাঁদছে স্বজনরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
21.10.2019

মাহফুজ নান্টু। কুমিল্লা শহরতলীর সাতরা এলাকায় দুবৃর্ত্তের হাতে খুন হওয়া তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিফাতের ছবি নিয়ে কাঁদছেন স্বজনরা। গতকাল সাতরা এলাকায় রিফাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর অশ্রæসজল চোখ।
নিহত রিফাতের নানা নগরীর নুরপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল বারেক রিফাতের জন্ম সময়ে তোলা ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে- রিফাতরে কই গেলিরে নানা আমার.. বলে আহাজারি করে চলছেন। এটুকুন বয়সে ভাই হারিয়ে নির্বাক রিফাতের ছোট দু’ভাই আরফাত ও আরমান। নানার পাশে বসে ভাইয়ের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় তাদের।
আবদুল বারেক বলেন, আমার মেয়ের ঘরে দু’বার চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। হতে পারে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্তরা আমার নাতিকে মেরে ফেলেছে।
চার কক্ষ বিশিষ্ট ঘরটির মাঝের কক্ষে রিফাতের নানী,রিফাতের মা ও ফুফুরা ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে উঠছেন। তাদের আহাজারিতে পুরো সাতরা এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে আছে। গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো লোকের সমাগম ঘটে রিফাতদের বাড়িতে।
গতকাল সন্ধ্যা অবধি কিছুই মুখে তুলেননি সন্তান হারা রিফাতের মা। আদরের সন্তান হারিয়ে নির্বাক মা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন সবার দিকে। কোন সান্ত¦নাই যেন আজ সন্তান হারা মায়ের আহাজারিকে প্রবোধ দিতে পারছে না।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ময়নাতদন্ত শেষে লাশবাহী গাড়িটি যখন সাতরা এসে পৌঁছায় তখন রিফাতের লাশটি দেখতে হুমড়ি খেয়ে হাজারো মানুষ। এতটুকু একটি ছেলের গলা কাটা লাশ দেখে আবাল বৃদ্ধ বণিতা সবাই চোখ মুছেন আর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে সৌদিতে চাকরি করছেন রিফাতের বাবা আলমগীর হোসেন। গত ৫ বছর পূর্বে একবার দেশে এসেছেন। এখন রিফাতের খুনের ঘটনা শুনে দেশে আসছেন। আজ দেশে ফিরলে রিফাতের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে রিফাতের লাশ।
সাতরা এলাকার ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,এমন নৃশংস ঘটনার সাথে যারাই জড়িত আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
হত্যাকাÐের বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো.আনোয়ারুল হক জানান, আমরা ওই এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে হদয়কে(১৭) জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে এসেছি। এছাড়াও পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। খুনিদের আটকে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।