মঙ্গল্বার ১২ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » মাদরাসা ছাত্ররা মন্দিরটিকে রক্ষা না করলে ভেঙে ফেলত: চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি


মাদরাসা ছাত্ররা মন্দিরটিকে রক্ষা না করলে ভেঙে ফেলত: চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.10.2019

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :  ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায় তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক। মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে আয়োজিত ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডিআইজি গোলাম ফারুক বলেন, অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আইনগত সব ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলার পর আলেম সমাজ চলে যায়। তৃতীয় আরেকটি পক্ষ হঠাৎ করে উসকানি দিয়ে মাদরাসায় আক্রমণ করে ভাঙচুর করেছে। যে ঘরে কোরআন শরীফ রাখা সেই ঘর ভাঙচুর করেছে। যেখানে পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা-ইউএনও বসা সেই রুম ভাঙচুর করে তাদেরকে খুন করতে উদ্যত হলে চরম মুহূর্তে বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভোলার ঘটনার পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার পাশে একটি মন্দিরে আক্রমণ হয়। তৃতীয় আরেকটি পক্ষ হাটহাজারী মাদরাসার নাম নিয়ে রাস্তায় নেমে মন্দিরে আক্রমণ করেছে। পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় হাটাহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা ওই মন্দিরকে রক্ষা করেছে। তারা রক্ষা না করলে মন্দিরটিকে ভেঙেচুরে ফেলত।
ডিআইজি গোলাম ফারুক বলেন, তৃতীয় পক্ষ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অনেক সময় সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে। আমি রংপুরের ডিআইজি থাকার সময়ও একই ঘটনা ঘটেছিল। ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিল তাকে আমরা ধরে আনলাম। তার আইডি হ্যাক করা হয়েছিল। আমরা বুঝানোর পর শুনেছে কিন্তু আরেকটি পক্ষ হিন্দুদের ঘর-বাড়িতে আক্রমণ করেছে।
এ সময় সাবইকে সতর্ক থাকার আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করবে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা জঙ্গিবাদ মুক্ত করতে পেরেছি, এখন আমাদের যুদ্ধ চলছে মাদক আর গুজবের বিরুদ্ধে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনসিুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন। আলোচনা শেষে ডিআইজি খন্দকর গোলাম ফারুক অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে ই-ট্রাফিকিং সেবার উদ্বোধন করেন।
এখন থেকে সড়কে কেউ আইন লঙ্ঘন করলে এবং গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকলে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে জরিমানার ¯িøপ দেয়া হবে। সেই ¯িøপের মাধ্যমে জরিমানার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। এর ফলে পরিবহন সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রিতা, সময় ও ব্যয় কমবে এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্রিকেটাররা না খেললে, না খেলবে: বিসিবি সভাপতি
সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান
জাতীয় দল ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটে নামার পরদিন জরুরি বোর্ড সভা ডেকেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সভা শেষে বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কড়া কথাই শুনিয়েছেন।
মঙ্গলবার খেলোয়াড়দের ধর্মঘট নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নাজমুল। বিসিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা যদি না খেলতে চায়, তাহলে আমার কী করার আছে। খেলবে না। কিন্তু তোমরা (ক্রিকেটাররা) যদি না খেলো, তাহলে লাভটা কী? না খেললে তো কোনও লাভ নেই। আমি বুঝতে পারছি না দাবিগুলোর সঙ্গে খেলা বন্ধ করার কী সম্পর্ক।’

বোর্ড প্রধান হিসেবে খেলোয়াড়দের দাবি পূরণ করতে কোনও আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন নাজমুল। কিন্তু তাদের কোনও সুযোগ না দিয়ে সরাসরি মিডিয়ায় কথা বলায় খেপেছেন তিনি। বিসিবি প্রধানের বক্তব্য, ‘কারও বক্তব্য থাকলে আসুক, আমরা কথা বলব। ওদের জন্য দরজা ওপেন। ওরা আসুক, দাবি জানাক। কিন্তু দাবি তো দিলোই না, ফোন দিলেও ধরছে না। এই অবস্থায় আমাদের কী করা। আমরা অ্যাপ্রোচ করছি।’
সোমবার ১১ দফা উত্থাপন করার পাশাপাশি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাকিব-তামিমরা। অথচ ভারত সফরকে সামনে রেখে ২৫ অক্টোবর জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা। সামনে গুরুত্বপূর্ণ সফর, তবু এই ধর্মঘটকে ‘সময়োপযোগী’ এবং ‘যৌক্তিক’ বলে মনে করছেন ক্রিকেটাররা।
ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ডাকার পেছনে বেশ কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় ইস্যু বিপিএল। মাস দেড়েক আগে কিছু বিষয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে সমস্যা হওয়ার পর বিসিবি নিজ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর নামে বিপিএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক কমে যাচ্ছে অনেক। মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা আগে বিপিএলের একটি আসরে খেলে কোটি টাকার বেশি পেলেও এবার তাদের পারিশ্রমিক নেমে যাবে ৫০ লাখের নিচে। অন্যদিকে যারা ২০ লাখ টাকা পেতেন তারা পাবেন ১০ লাখেরও কম।