মঙ্গল্বার ১২ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » তনুর মায়ের আকুৃতি নুসরাত হত্যার বিচার হলে তনু হত্যার বিচার কেন হবে না?


তনুর মায়ের আকুৃতি নুসরাত হত্যার বিচার হলে তনু হত্যার বিচার কেন হবে না?


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.10.2019

মহিউদ্দিন মোল্লা।। ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যার সাত মাসের মধ্যে ১৬ আসামির মৃত্যুদÐ দিয়েছে আদালত। তবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার সাড়ে তিন বছরেও খুনি সনাক্ত হয়নি। দীর্ঘ সময়েও তনুর হত্যাকারীরা সনাক্ত হয়নি, নেই মামলার উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি। তনুর খুনি চিহ্নিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তনুর পরিবার এবং কুমিল্লার বিশিষ্টজনরা। তনুর মা বলেন,নুসরাতের হত্যার বিচার এত কম সময়ে হলে তনু হত্যার বিচার কেন হবে না?
তনুর পরিবারের সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফিরেনি তনু। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর ২০১৬ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রানু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা- এ নিয়েও সিআইডি বিস্তারিত কিছু বলছে না। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও সিআইডি জানায়। তবে তাদের নাম জানানো হয়নি।
সাংবাদিক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী সংসদের সহ-সভাপতি ডা. গোলাম শাহজাহান বলেন,নুসরাতের হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ে সাজা দেয়া ন্যায় বিচারের একটি মাইলফলক। তার মতো তনুর হত্যাকারীরাও সাজা পাবে এমন প্রথ্যাশা সকলের।
গণজাগরণ মঞ্চ- কুমিল্ল¬ার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, তনু হত্যা মামলাটির তদন্তে সিআইডি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই দ্রæত তনু হত্যার আসামি সনাক্ত হোক। নুসরাতের মতো তনুর হত্যাকারীদেরও সাজা হোক।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সিআইডি কোন যোগাযোগ করছে না। ১৫দিন আগে সিআইডি অফিসে ফোন দিয়েছি। তারা দেখছে বলে জানিয়েছে। সারা দিন টিভিতে নুসরাত হত্যাকারীদের খবর দেখলাম। খবর দেখতে দেখতে আফসোস করেছি,তনুর হত্যাকারীদের যদি এরকম সাজা হতো। তনুর বাবা এবং আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আগের মতো বিভিন্ন অফিসে যেতে পারিনা। মৃত্যুর আগে মেয়ের হত্যাকাÐের বিচার দেখে যেতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে মেয়ের হত্যার বিচার চাওয়ার সুযোগ ফেলে অন্তরে শান্তি পেতাম।
তনুর মা আরো বলেন, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকারী কে বেরিয়ে আসবে। কারণ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে যাওয়ার পর জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন,আমাদের কাজে কোনো স্থবিরতা নেই,আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ডিএনএ পরীক্ষা এবং ম্যাচিং করার বিষয়টি সময় সাপেক্ষ। ডিএনএ’র রিপোর্ট এখনও হাতে পাইনি। রিপোর্ট পেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।