মঙ্গল্বার ১২ নভেম্বর ২০১৯


এক সপ্তাহে কূলকিনারা নেই রিফাত হত্যার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.10.2019

মাহফুজ নান্টু। পুরো এক সপ্তাহ অহিবাহিত হলে আদর্শ সদর উপজেলার চম্পকনগর সাতরা এলাকার তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিফাত হত্যার কোন ক্লু উদঘাটন হয়নি। এ দিকে রিফাতের মায়ের অভিযোগ প্রাইভেট টিউটর তাহমিনা আক্তার ও তার ভাই একাদশ শ্রেণীর ছাত্র হৃদয়ের দিকে। এছাড়াও সন্দেহের তালিকায় রয়েছে রিফাতের বর্তমান টিউটর বিউটিও। তবে পুলিশ বলছে এখনো তদন্ত চলছে। কললিস্ট ধরে অনুসন্ধান চলছে।
সরেজমিনে সাতরা এলাকায় আলমগীর হোসেনের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়,রিফাতের মা আহাজারি করছেন। রিফাতের ছবি নিয়ে কাঁদতে দেখা যায় নানা আবদুল বারেককে। রিফাতের মা জেসমিন আক্তার বলেন, রিফাতের খুনের পর বেশ কয়েকবার আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে এসেছে। যাদেরকে মনে হয়েছে তাদের জবানবন্দি নিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার স্বামী আলমগীর হোসেন ও রিফাতের বর্তমান টিউটর বিউটিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। থানা থেকে এসে রিফাতের বাবা মো:আলমগীর হোসেন বলেন,ভাই আমি সৌদি প্রবাসী। ছেলে হত্যার ঘটনা শুনে দেশে এসেছি। পুলিশ যা জানতে চেয়েছে তাই বলেছি। আমি চাই আমার সন্তানের খুনিরা আটক হউক,তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। আর যেন কোন পিতা আমার মত সন্তানের লাশ কাঁধে না নেয়। এ প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে মো:আলমগীর হোসেন বলেন, পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ কত ভারি লাগে তা পিতাই জানেন বলে কেঁদে উঠেন আলমগীর হোসেন।
রিফাতের শিক্ষক একই এলাকার আবদুল কাদের শিপনের মেয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিদা আক্তার রিংকু। খুনের ঘটনায় সন্দেহের তীর রিংকু ও পুলিশের হাতে আটক রিংকুর ভাই হৃদয়ের দিকে। এছাড়াও রয়েছে রিফাতের বর্তমান টিউটর বিউটির দিকে।
রিফাতের মা জেসমিন আক্তার জানান, রিফাতদের বাসায় দু’বার চুরির ঘটনা ঘটে। প্রথমবার চুরির ঘটনায় বাসা থেকে একটি মোবাইল ট্যাব চুরি হয়। দ্বিতীয়বার পাঁচভরি স্বর্ণালঙ্কার। পরে এ ঘটনায় রিফাতের প্রাইভেট টিউটর তাহমিদা আক্তার রিংকু ও তার ভাই হৃদয়ের প্রতি আমার সন্দেহ হলে আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করি। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে রিফাতের সাবেক টিউটর তাহমিদা আক্তার রিংকু বলেন, চুরির ঘটনা নিয়ে রিফাতের মা আমাদেরকে যথেষ্ট অপমান করে। আমাদের ঘরে এসে তল্লাসী চালায়। পরে আমি বলছি আমার ভাই এমন কাজ করতে পারে না। রিফাতের মা আমাদেরকে কবিরাজ থেকে এনে পানি পড়া পান করান। আমাদের কিছুই হয়নি। পরে সৌদিতে অবস্থানরত রিফাতের বাবা আলমগীর হোসেন আমার ভাই হৃদয়কে চোর বলে প্রতিবেশীদের কাছে জানায়। অথচ আমার ভাই এমন না। তাই আমি বলছি যদি আমাদেরকে চোর প্রমান করতে ব্যর্থ হন তাহলে আপনারা সবার সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। এতটুকুই বলি। আজ আমার ভাই জেলে। কোন অপরাধ না করেও বিনা কারণে জেল খাটছে।
এ ঘটনার এক মাস পরে রিফাতকে পাশের বাড়ির বিউটি আক্তারের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য ঠিক করা হয় এবং হত্যাকা-ের রাতেও বিউটির কাছেই প্রাইভেট পড়ে রিফাত।
রিফাতের মা আরো জানান,বিউটির কথার মাঝেও অসংলগ্নতা দেখা যায়। ঘটনার পরে বিউটি একবার বলে সে রিফাতকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে আরেকবার বলে সে মাঝ রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।
এদিকে রিফাতদের বাড়ি গিয়ে দেখা রাস্তায় ও দেয়ালে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। এছাড়াও দেয়ালে একটি ছোট ছেলের রক্তাত্ত হাতের ছাপ রয়েছে।
আইনশৃংখলা বাহিনীর লোকজন এসে যে ডোবায় রিফাতকে খুন করে ফেলে রাখা সে ডোবা সেচ দিয়ে রিফাতের স্কুল ব্যাগ খোঁজ করে। তবে ডোবায় কোন ব্যাগ কিংবা হত্যাকা-ে ব্যবহৃত কোন ক্লু পায়নি আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে জানানো হয়, ভারী বস্তুর আঘাত এবং ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে রিফাতকে হত্যা করা হয়।
রিফাত খুনের ঘটনা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসএম আরিফুর রহমান বলেন, আসলে তদন্ত এখনো চলমান। গত এক সপ্তাহে সব ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কল রেকডিং যাচাই বাছাই চলছে। আশা করি খুব দ্রুতই আসামিদের আটক করে আদালতে সোর্পদ করতে পারবো।
উল্লেখ্য,গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ন’টায় দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিফাতকে।