মঙ্গল্বার ১২ নভেম্বর ২০১৯


কুমিল্লায় পেঁয়াজের কেজি ১৩০ টাকা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.10.2019

মাহফুজ নান্টু। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে কুমিল্লায় খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৩০ টাকা দরে। গত এক সপ্তাহে ধরে এমন দামে পেঁয়াজ বিক্রির ঘটনায় টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। মূলত ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানী কমে যাওয়ায় পেয়াজের এই উর্ধ্বগতি।
গতকাল রবিবার সপ্তাহের প্রথম কর্ম দিবসে অফিস আদালতে একটি বিষয় আলোচনায় ঠাঁই পেয়েছে। স্মরণকালে সবচেয়ে বেশী দামে কেন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল রবিবার সরেজমিনে নগরীর অন্যতম কাঁচা বাজার বাদশা মিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দামের এই উর্ধ্বগতি সম্পর্কে মুদিমাল বিক্রেতা সাকিব জানান,গত চারদিন ধরে মায়ানমারে পেঁয়াজে বাজারের চাহিদা মিটছে। ভারত থেকে পাইকাররা কোন রকম পেঁয়াজ আমদানী করতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
নগরীর বাদশা মিয়ার বাজার,রাজগঞ্জ ও রানীরবাজারে ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছোট পেঁয়াজ ১১০ টাকা, মাঝারি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারের পেঁয়াজের সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল।
নগরীর খুচরা বাজার ছাড়াও পাইকার বাজার হিসেবে খ্যাত চকবাজারে ঘুরে দেখা যায়, পেঁযাজ কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। পাইকার আজগর হোসেন জানান, আমাদের কিছু করার নেই। আমরা ইচ্ছে করে পেঁয়াজের দাম বাড়াইনি। ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসায় পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করেছে কেজি প্রতি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি করতে। মোকামগুলোতে পেঁয়াজ আসছে না। কি করবো আমরা।
পেঁয়াজ কিনতে আসা কৃষ্ণ রায় জানান, আসলে এভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যে দাম বাড়লে আমরা কি করবো। নি¤œ ও নি¤œ মধ্যবিত্ত মানুষদের সমস্যাই বেশী।
গতকাল সন্ধ্যায় রাজগঞ্জ বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো:দেলোয়ার হোসেন কুমিল্লা চক বাজার থেকে পাইকারী ভারতীয় পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১১১ টাকা এবং মায়ানমারের পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১০৫ টাকা দরে কিনে এনেছেন। তিনি জানান,মায়ানমারের পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। আমরা নিজেরাও দেখি প্রতি বস্তায় মায়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজে ৪/৫ কেজি পঁচা থাকে।
তবে পেঁয়াজের বাজার নিয়ে কুমিল্লা রাজগঞ্জ ও চকবাজার দৈনিক বাজার ব্যবসায়ী কমিটির অনেকেই নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন,ভাই এখানে কিছু সিন্ডিকেট থাকলেও মূলত পেঁয়াজ আসছে না এটাই সত্যি। আর পেঁয়াজ আমদানী কমে যাওয়ায় আর বাজারের এ দুরাবস্থা।