মঙ্গল্বার ১২ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » মেহেদীর রং মুছার আগেই স্বামীর ঘরে লাশ হলো তানজিনা


মেহেদীর রং মুছার আগেই স্বামীর ঘরে লাশ হলো তানজিনা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.10.2019

বুড়িচং প্রতিনিধি।। ৪ মাস পূর্বে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় তানজিনার, মা হারা তানজিনা খুঁজে পেয়েছিল নতুন এক পরিবার, পেয়েছিলো নতুন মা-বাবা, ভেবে ছিলো নতুন সংসারে গুছিয়ে নিবে সবকিছু। সবার কপালে কি সুখ থাকে? হাতের মেহেদীর রং মোছার আগেই লাশ হলো মোসাম্মৎ তানজিনা আক্তার (১৯)। কীটনাশক পানে মৃত্যু হয়েছে বলে জানান শ্বশুর বাড়ির লোকজন, তবে তানজিনার বাবার দাবি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে মেয়েকে।
ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল গ্রামে। শনিবার রাতে দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার মোকাম ইউনিয়নের মিথলমা গ্রামের মোঃ সেলিম মিয়ার মেয়ে তানজিনা আক্তারকে পার্শ্ববর্তী ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল, ফরিরজপুর এলাকায় শাহ আলমের ছেলে মোঃ শরীফের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের পূর্বে শরীফ দোকানদারী করলেও বিয়ের এক মাস পর জানায় সে বিদেশ যাবে। বিদেশের টাকার জন্য তানজিনাকে চাপ দেয়। তানজিনা বাবার কাছে টাকাও চায়, কিন্তু তানজিনার বাবা গরীব বিধায় বিদেশের সম্পূর্ণ টাকা দিতে অপরাগত প্রকাশ করে। এ নিয়ে তানজিনার স্বামী তার উপর নির্যাতন চালায়। গত ২২ অক্টোবর তানজিনার স্বামী টাকার জন্য তানজিনাকে বাবার বাড়িতে পাঠায়। ৪দিন বাবার বাড়িতে থেকে শনিবার সকালে তানজিনা টাকা ছাড়া স্বামীর বাড়িতে আসে। স্বামীর বাড়িতে আসলে স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁকে গালমন্দ ও মারধর করে।
স্বামীর পরিবারের লোকজন জানান, তানজিনা বাবার বাড়ি থেকে এসে রুমে গিয়ে কীটনাশক পান করে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তানজিনাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রেরণ করে। পরিবারের সদস্যরা তানজিনাকে ঢাকা না নিয়ে দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর বাস স্ট্যান্ড এলকার হাবিব হোমিও হল নামক একটি হোমিওপেথিক ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ক্লিনিকের ডাক্তার মোঃ রেজাউল করিম তানজিনাকে বিভিন্ন ঔষধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বিকেলে তানজিনাকে নিয়ে বাড়িতে আসে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে তার সাড়ে ৭ টায় তানজিনার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এস আই আবুল খায়ের ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। তানজিনার বাবা সেলিম মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।