বুধবার ১৩ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » গার্ডকে ট্রেন থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দিয়েছে পুলিশ


গার্ডকে ট্রেন থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দিয়েছে পুলিশ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.10.2019

মহিউদ্দিন মোল্লা: গার্ডকে মারধর করে লাথি দিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানা পুলিশের এসআই কামালসহ দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। আহত গার্ড মহিউদ্দিন সোমবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত এসআই কামালকে প্রত্যাহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আহত মহিউদ্দিন জানান, রোববার রাতে তিনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস ১২ টাউন ট্রেনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত সোয়া ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ইমামবাড়ি রেল স্টেশনে এসে তাদের ট্রেনটি ৩নং লাইনে প্রবেশ করে। শেষের দিকের বগিতে ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল সিলগালা ছিলো। তিনি বগি চেক করতে গিয়ে টর্চ মারলে তা পাশের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের গায়ে পড়ে। তখন তারা তাকে গালমন্দ করে, এক পর্যায়ে তারা তাকে তাদের নিকট যেতে ডাকে। তিনি না গিয়ে তাদের ট্রেনের নিকট ডাকেন। কাছে এলে দেখেন তারা থানার পুলিশ। তারা এসে চোখে টর্চ কেন মারলো বলে আবার গালমন্দ করে। তিনি ট্রেনের গার্ড পরিচয় দেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা তাকে মারধর শুরু করে। তাদের লাঠির আঘাতে তার হাত-পা যখম হয়। তাকে নামিয়ে নিতে চাইলে তিনি ট্রেনের রড ধরে থাকেন। এসময় পেছন থেকে তাকে লাথি দিয়ে ট্রেন থেকে নিচে পাথরের উপর ফেলা হয়। তাকে টেনে হিচড়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে নেয়া হয়। এক পর্যায়ে তার হাতে হাতকড়া লাগানো হয়। সেখানে স্টেশন মাস্টার তাকে গার্ড বলে সনাক্ত করেন। এরপর হাতকড়া খুলে দেয়া হয়। পরে ট্রেনে চড়ে মহিউদ্দিন কসবা স্টেশনে আসেন। স্টেশন মাস্টারের কক্ষে এসে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কসবা থানার এসআই কামালের নেতৃত্বে কনস্টেল মাজেদুলসহ অন্যরা তাকে মারধর করে। কনস্টেবল নাজমুলের পড়ে যাওয়া নামফলকটি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত এসআই কামাল বলেন,ওই এলাকায় ডাকাতি হতে পারে বলে পুলিশের কয়েকটি টিম স্টেশনসহ আশপাশের এলাকায় কাজ করছিলো। ইমাম বাড়িতে ট্রেনটি থামার পর কেউ একজন বার বার চোখে আলো ফেলছিলো। আমরা ভাবলাম অপরাধীদের কোন সোর্স আমাদের ফলো করছে। কাছে ডাকলে আমাদের গালমন্দ করে। গার্ড পরিচয় দিলেও তার গায়ে গার্ডের কোন পোষাক ছিলো। তাকে মারধর কিংবা লাথি দিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে নামিয়ে আনতে হয়তো চোট লাগতে পারে।
কসবা থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন,এটা আসলে ভুল বুঝাবুঝি। গার্ড গালমন্দ করায় তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এসআই কামালকে কসবা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদ পলাশ বলেন, গার্ড মহিউদ্দিনকে পুলিশ বিনা কারণে বেধরক মারধর করেছে। এর সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।
রেলওয়ে কুমিল্লার উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার বলেন, গার্ড মহিউদ্দিনকে পুলিশ মারধর করেছে। তাকে হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।